নিজস্ব সংবাদদাতা :: সংবাদ প্রবাহ :: রায়না :: মঙ্গলবার ৪,আগস্ট ::সোমবার মধ্য রাতে পূর্ব বর্ধমান জেলার রায়না-২ ব্লকের মাধবডিহি ব্লক প্রাথমিক হাসপাতালে আচমকাই আগুন লাগার ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়ে গোটা এলাকায়।
হাসপাতালের একটি অংশ থেকে ধোঁয়া ও আগুনের শিখা দেখতে পেয়ে স্থানীয় বাসিন্দারা দ্রুত উদ্ধারকাজে ঝাঁপিয়ে পড়েন।
খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছে যান মাধবডিহি থানার অফিসার-ইনচার্জ রাজেশ মাহাতো-সহ পুলিশ বাহিনী। পুলিশ ও স্থানীয় মানুষের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় কিছুক্ষণের মধ্যেই আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে। ফলে বড়সড় বিপদের হাত থেকে রক্ষা পায় হাসপাতাল।
প্রাথমিকভাবে কী কারণে আগুন লেগেছে, তা এখনও স্পষ্ট নয়। ঘটনার প্রকৃত কারণ জানতে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। তবে সময়মতো আগুন নিয়ন্ত্রণে না এলে হাসপাতালের পরিকাঠামো এবং রোগীদের নিরাপত্তা মারাত্মকভাবে বিঘ্নিত হতে পারত বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।
ঘটনার পরেই হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে ক্ষোভে ফেটে পড়েন সাধারণ মানুষ। এলাকাবাসীর অভিযোগ, হাসপাতালের বিএমওএইচ নিয়মিতভাবে দায়িত্বে উপস্থিত থাকেন না। দীর্ঘদিন ধরেই হাসপাতালের প্রশাসনিক কাজে গাফিলতির অভিযোগ রয়েছে।
তাঁদের আরও দাবি, বিএমওএইচ যাঁকে হাসপাতাল দেখভালের দায়িত্ব দিয়েছেন, তাঁর আচরণ অত্যন্ত দুর্ব্যবহারপূর্ণ এবং সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে বিভিন্ন কাজে সহযোগিতা করতে আসা ব্যক্তিদের সঙ্গেও অসৌজন্যমূলক ব্যবহার করেন।
শুধু তাই নয়, আগুন লাগার খবর সংগ্রহ করতে ঘটনাস্থলে পৌঁছনো সাংবাদিকদেরও বাধা দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। সংবাদ সংগ্রহে বাধা দেওয়ার পাশাপাশি সাংবাদিকদের সঙ্গে অসহযোগিতামূলক আচরণ করা হয় বলেও অভিযোগ।
এমনকি আগুন নেভানোর কাজে যাঁরা স্বতঃস্ফূর্তভাবে এগিয়ে এসেছিলেন, তাঁদের প্রতিও দুর্ব্যবহার করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন প্রত্যক্ষদর্শীরা। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে হাসপাতাল চত্বরে উত্তেজনার সৃষ্টি হয়।
স্থানীয়দের দাবি, হাসপাতালের নিরাপত্তা ব্যবস্থা, প্রশাসনিক তৎপরতা এবং দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মীদের আচরণ নিয়ে অবিলম্বে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হোক। পাশাপাশি ভবিষ্যতে যাতে এমন ঘটনা আর না ঘটে, তার জন্য হাসপাতালের অগ্নি-নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার করার দাবিও উঠেছে।
এই ঘটনায় হাসপাতাল প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে একাধিক প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। আগুন লাগার প্রকৃত কারণ, নিরাপত্তা ব্যবস্থার অবস্থা এবং সাংবাদিকদের বাধা দেওয়ার অভিযোগ-সবকিছু নিয়েই তদন্তের দাবি জোরালো হয়েছে।

