Dailyhunt Logo
  • Light mode
    Follow system
    Dark mode
    • Play Story
    • App Story
BREAKING NEWS :: দুর্যোগ ও হড়পা বানের জন্য এখন নেপাল ভারতের কাছে ক্ষতিপূরণ চাইছে দান নয়

BREAKING NEWS :: দুর্যোগ ও হড়পা বানের জন্য এখন নেপাল ভারতের কাছে ক্ষতিপূরণ চাইছে দান নয়

নন্দ মুখোপাধ্যায় :: সংবাদ প্রবাহ :: নয়াদিল্লি :: বুধবার ২,সেপ্টেম্বর ::ভয়াবহ হড়পা বানে বিপর্যস্ত নেপাল এবার আন্তর্জাতিক মঞ্চে ক্ষতিপূরণের দাবি তুলল। ভারতের পাশাপাশি আমেরিকা ও চিনকেও জলবায়ু পরিবর্তনের জন্য দায়ী করে তাদের কাছ থেকে আর্থিক ক্ষতিপূরণ চাওয়ার কূটনৈতিক উদ্যোগ শুরু করেছে কাঠমান্ডু।

নেপালের বক্তব্য, এটি নিছক মানবিক সাহায্যের আবেদন নয়-জলবায়ু বিপর্যয়ের জন্য বড় গ্রিনহাউস গ্যাস নিঃসরণকারী দেশগুলির 'নৈতিক ও আইনি দায়বদ্ধতার' প্রশ্ন।

'সাহায্য নয়, ন্যায্য ক্ষতিপূরণ' চাই । নেপালের বিদেশমন্ত্রী শিষির খানাল জানিয়েছেন, ভয়াবহ বন্যার ক্ষয়ক্ষতি সামলাতে যে অর্থ প্রয়োজন, তা সাধারণ দান বা ত্রাণ হিসেবে নয়, বরং Climate Compensation বা জলবায়ুজনিত ক্ষতির ক্ষতিপূরণ হিসেবে দেখা উচিত।

 তাঁর যুক্তি, নেপালের নিজস্ব গ্রিনহাউস গ্যাস নিঃসরণ অত্যন্ত সামান্য হলেও জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত সবচেয়ে বেশি এসে পড়ছে হিমালয়-ঘেরা দেশটির উপর।

এই দাবির আওতায় এসেছে তিনটি বড় অর্থনীতি-ভারত, চিন এবং আমেরিকা। নেপালের দাবি, দীর্ঘদিনের উচ্চ কার্বন নিঃসরণ বিশ্ব উষ্ণায়ন বাড়িয়েছে এবং তার পরিণতিতে হিমালয় অঞ্চলে চরম আবহাওয়া, হিমবাহের অস্থিতিশীলতা এবং আকস্মিক বন্যার ঝুঁকি বেড়েছে।

২৬ আগস্ট নেপাল-চিন সীমান্তবর্তী অঞ্চলে ভয়াবহ হড়পা বানের পর রসুয়া, নুওয়াকোট-সহ একাধিক এলাকা বিপর্যস্ত হয়। বন্যার জল ও ধ্বংসাবশেষে রাস্তা, সেতু, বাড়িঘর এবং জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। হাজার হাজার মানুষ এখনও নিখোঁজ বলে বিভিন্ন রিপোর্টে জানানো হয়েছে।

বিশেষ করে জলবিদ্যুৎ প্রকল্পগুলির ক্ষতি নেপালের অর্থনীতির উপর বড় আঘাত বলে মনে করা হচ্ছে। রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, বন্যায় নেপালের প্রায় ৪৩১ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতা, অর্থাৎ দেশের মোট উৎপাদন ক্ষমতার প্রায় ১০ শতাংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর ফলে বিদ্যুৎ রফতানি বন্ধ করে ভারত থেকে বিদ্যুৎ আমদানির প্রয়োজনও তৈরি হয়েছে।

নেপাল সরকারের সামনে এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ উদ্ধার ও পুনর্বাসন। ধ্বংস হওয়া যোগাযোগ ব্যবস্থা, বিদ্যুৎ প্রকল্প, ঘরবাড়ি ও পরিকাঠামো পুনর্নির্মাণে কয়েক বিলিয়ন ডলার প্রয়োজন হতে পারে বলে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলির প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।

এই পরিস্থিতিতে কাঠমান্ডু আন্তর্জাতিক জলবায়ু তহবিলের কাছেও সহায়তা চেয়েছে। বিশেষ করে Loss and Damage Fund-এর মাধ্যমে ক্ষতিপূরণ পাওয়ার চেষ্টা করছে নেপাল।

ভারতের ভূমিকাও প্রশ্নের মুখে?

ভারতের নাম ক্ষতিপূরণ দাবির তালিকায় থাকলেও, একই সময়ে ভারত নেপালের উদ্ধার ও ত্রাণকাজেও সক্রিয় ভূমিকা নিয়েছে। ভারতীয় বিমানবাহিনী ত্রাণসামগ্রী পাঠিয়েছে এবং নেপালের অনুরোধে বিশেষ উদ্ধারকারী দলও পাঠানো হয়েছে। ভারতীয় বিশেষজ্ঞরা নিখোঁজদের পরিচয় শনাক্ত করার কাজেও নেপালকে সহযোগিতা করছেন।

ফলে কাঠমান্ডুর বর্তমান অবস্থানকে সরাসরি 'ভারত বন্যা ঘটিয়েছে'-এমন অভিযোগ হিসেবে দেখার বদলে জলবায়ু পরিবর্তনের দীর্ঘমেয়াদি দায়বদ্ধতার প্রশ্ন হিসেবে দেখা হচ্ছে। নেপালের যুক্তি মূলত-বড় অর্থনীতিগুলির অতীত ও বর্তমান কার্বন নিঃসরণের কারণে যে জলবায়ু সংকট তৈরি হয়েছে, তার ক্ষতি সবচেয়ে বেশি বহন করছে কম নিঃসরণকারী, দুর্বল দেশগুলি।

Dailyhunt
Disclaimer: This content has not been generated, created or edited by Dailyhunt. Publisher: Sangbad Prabaha