জাকির আলী :: সংবাদ প্রবাহ:: ভাণ্ডারহাটি(হুগলি) :: মঙ্গলবার ০১,সেপ্টেম্বর ::সকাল কিংবা বিকেল-চায়ের দোকানে মানুষের আড্ডা তো হামেশাই দেখা যায়।
কিন্তু সেই আড্ডায় যদি নিয়মিত হাজির হয় দুই হনুমান, আর চায়ের দোকানের 'খদ্দের'-এর মতো বসে চা-পকোড়ার দিকে তাকিয়ে থাকে, তাহলে কৌতূহল তৈরি হওয়াই স্বাভাবিক।
হুগলির ভান্ডারহাটিতে এমনই এক অদ্ভুত দৃশ্য এখন স্থানীয়দের নজর কেড়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, এলাকার একটি চায়ের দোকানে প্রায় রোজই হাজির হয় দুই হনুমান। দোকানের আশপাশে কিছুক্ষণ ঘোরাফেরা করার পর তারা নির্দিষ্ট জায়গায় বসে পড়ে।
তারপর শুরু হয় তাদের 'আড্ডা'। দোকানে তখন স্থানীয় বাসিন্দাদের ভিড়। আর মানুষের সেই আড্ডার মাঝেই দিব্যি বসে থাকে দুই হনুমান।
চায়ের দোকানের মালিকের কথায়, হনুমান দুটির সঙ্গে এলাকার মানুষের যেন বেশ সখ্য গড়ে উঠেছে। দোকানে চা তৈরি হলেই তাদের উৎসাহ বেড়ে যায়। চা-পকোড়ার গন্ধ পেলেই তারা দোকানের কাছে এসে হাজির হয়। অনেক সময় দোকানের সামনে বসে খাবারের জন্য অপেক্ষাও করে।
দুই হনুমানের এই নিত্যদিনের 'চায়ের আড্ডা' দেখতে এখন অনেকেই দাঁড়িয়ে পড়েন। কেউ মোবাইল ফোনে ছবি তোলেন, কেউ আবার ভিডিও করেন। স্থানীয়দের মধ্যে ইতিমধ্যেই হাসি-ঠাট্টার বিষয় হয়ে উঠেছে এই দুই 'নিয়মিত খদ্দের'।
তবে স্থানীয়রা জানাচ্ছেন, হনুমান দুটিকে কেউ বিরক্ত করেন না। তাদের সঙ্গে দূরত্ব বজায় রেখেই খাবার দেওয়া হয়। দোকান সংলগ্ন এলাকায় তাদের অবাধ বিচরণ নিয়েও বিশেষ সমস্যা তৈরি হয়নি।
ভান্ডারহাটির এই চায়ের দোকান তাই এখন শুধু চা-পকোড়ার জন্য নয়, দুই হনুমানের 'রোজকার আড্ডা'র জন্যও পরিচিত হয়ে উঠেছে। মানুষের চায়ের আড্ডায় দুই হনুমানের এমন স্বতঃস্ফূর্ত উপস্থিতি যেন তৈরি করেছে এক অন্যরকম দৃশ্য-চা, পকোড়া আর দুই হনুমানের অদ্ভুত বন্ধুত্বের আড্ডা!

