সুদেষ্ণা মন্ডল :: সংবাদ প্রবাহ:: কুলপি :: শনিবার ২৯,আগস্ট ::দক্ষিণ ২৪ পরগনার কুলপিতে তৃণমূলের এক বুথ সভাপতির বাড়িতে পুলিশের অভিযানে বিপুল পরিমাণ অস্ত্র ও বোমা উদ্ধারের অভিযোগ ঘিরে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, অভিযানে ওই বাড়ি থেকে ১৮টি তাজা বোমা, একটি আগ্নেয়াস্ত্র এবং ছয় রাউন্ড গুলি উদ্ধার করা হয়েছে।
ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় রাজনৈতিক চাপানউতোরও শুরু হয়েছে। কী উদ্দেশ্যে ওই বাড়িতে এতগুলি বোমা ও আগ্নেয়াস্ত্র মজুত করা হয়েছিল, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ।
জানা গিয়েছে, গোপন সূত্রে খবর পাওয়ার পরই কুলপি থানার পুলিশ তৃণমূলের ওই বুথ সভাপতির বাড়িতে অভিযান চালায়। বাড়িতে তল্লাশি চালানোর সময় উদ্ধার হয় একের পর এক বোমা। পাশাপাশি একটি আগ্নেয়াস্ত্র এবং ছয় রাউন্ড গুলিও উদ্ধার হয়েছে বলে পুলিশ সূত্রে খবর।
উদ্ধার হওয়া বোমাগুলি তাজা বলে প্রাথমিকভাবে জানা গিয়েছে। ফলে এলাকায় যাতে কোনওরকম অপ্রীতিকর পরিস্থিতি তৈরি না হয়, সেজন্য ঘটনাস্থল ঘিরে ফেলে পুলিশ। বোমাগুলি নিষ্ক্রিয় করার জন্য বম্ব স্কোয়াডকে খবর দেওয়া হয়েছে।
তবে এই বিপুল পরিমাণ বিস্ফোরক ও আগ্নেয়াস্ত্র কীভাবে ওই বাড়িতে এল, তার কোনও বৈধ নথি বা অনুমতি ছিল কি না, তা নিয়ে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। বাড়ির মালিক তথা তৃণমূলের বুথ সভাপতির সঙ্গে আরও কেউ এই অস্ত্র মজুতের ঘটনায় জড়িত কি না, সেটিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
অভিযানের পর থেকেই এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশের প্রশ্ন, একজন রাজনৈতিক নেতার বাড়িতে কীভাবে একসঙ্গে ১৮টি তাজা বোমা এবং আগ্নেয়াস্ত্র পৌঁছল? এই অস্ত্রগুলি কোথা থেকে আনা হয়েছিল এবং কোথায় ব্যবহারের জন্য মজুত করা হয়েছিল, সেই প্রশ্নের উত্তর খুঁজছে তদন্তকারীরা।
পুলিশের তরফে জানানো হয়েছে, উদ্ধার হওয়া বোমা, আগ্নেয়াস্ত্র ও গুলি বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। পুরো ঘটনার তদন্ত চলছে। প্রয়োজনে ওই বুথ সভাপতি-সহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে। অস্ত্র মজুতের পিছনে আরও কেউ রয়েছে কি না, সেই বিষয়টিও তদন্তের আওতায় রয়েছে।
কুলপিতে তৃণমূল নেতার বাড়ি থেকে একসঙ্গে ১৮টি তাজা বোমা, আগ্নেয়াস্ত্র এবং গুলি উদ্ধারের ঘটনা নতুন করে নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন তুলে দিয়েছে। তদন্ত যত এগোবে, ততই স্পষ্ট হবে এই অস্ত্রভাণ্ডারের নেপথ্যে আসলে কারা এবং কী উদ্দেশ্য ছিল।

