বুধবার রাতে মধ্যমগ্রামের দোহারিয়া এলাকায় শুভেন্দু অধিকারীর আপ্ত সহায়ক চন্দ্রনাথ রথ হত্যাকাণ্ডে ক্রমশ দানা বাঁধছে রহস্য। ঘটনার বীভৎসতা এবং অপরাধের ধরন দেখে পুলিশের প্রাথমিক অনুমান, এটি কোনো সাধারণ দুষ্কৃতী তান্ডব নয়, বরং অত্যন্ত সুপরিকল্পিত কোনো পেশাদার শ্যুটার বা 'কন্ট্র্যাক্ট কিলার'-এর কাজ।
অপারেশন 'টার্গেট কিলিং': ঠিক কী ঘটেছিল সেই রাতে? পুলিশ সূত্রে খবর, রাত সাড়ে ১০টা নাগাদ কলকাতা থেকে কাজ সেরে মধ্যমগ্রামের বাড়িতে ফিরছিলেন ৪২ বছর বয়সী চন্দ্রনাথ। দোলতলা ও মধ্যমগ্রাম চৌমাথার মাঝে দোহারিয়া এলাকায় আসতেই হঠাত চারটি মোটরবাইকে আসা ১০-১২ জন দুষ্কৃতী তাঁর গাড়ির গতিপথ আটকে দেয়। প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, হামলাকারীদের মাথায় হেলমেট ছিল এবং তাদের বাইকে কোনো নম্বরপ্লেট ছিল না।
গাড়ি থামতেই অত্যন্ত কাছ থেকে চন্দ্রনাথকে লক্ষ্য করে শুরু হয় এলোপাথাড়ি গুলিবর্ষণ। প্রায় ৬ থেকে ১০ রাউন্ড গুলি চালানো হয় বলে প্রাথমিক তদন্তে জানা গিয়েছে। গুলিতে ঝাঁঝরা হয়ে যান চন্দ্রনাথ। গুরুতর আহত হন গাড়ির চালক বুদ্ধদেব বেরাও। তিনি বর্তমানে কলকাতার একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
ব্যবহৃত হয়েছে অত্যাধুনিক 'গ্লক ৪৭এক্স' পিস্তল! তদন্তকারী আধিকারিকদের কপালে চিন্তার ভাঁজ ফেলেছে ঘটনাস্থল থেকে পাওয়া ব্যালেস্টিক তথ্য। প্রাথমিক ফরেন্সিক রিপোর্ট ইঙ্গিত দিচ্ছে, এই হত্যাকাণ্ডে সম্ভবত গ্লক ৪৭এক্স (Glock 47X) এর মতো অত্যন্ত আধুনিক এবং উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন পিস্তল ব্যবহার করা হয়েছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক শীর্ষ পুলিশ আধিকারিক জানান, “এই ধরনের আগ্নেয়াস্ত্র সাধারণ ছিঁচকে অপরাধীদের হাতে থাকে না। এর থেকেই স্পষ্ট যে এর পেছনে বড় কোনো পেশাদার গ্যাং জড়িত থাকতে পারে।”
তদন্তে স্পেশাল টিম ও সিসিটিভি ফুটেজ ঘটনার গুরুত্ব বিচার করে রাতেই ঘটনাস্থল পরিদর্শনে যান রাজ্যের ডিজিপি সিদ্ধিনাথ গুপ্ত এবং সিআরপিএফ-এর ডিজি জ্ঞানেন্দ্র প্রতাপ সিং। পুলিশ ইতিমধ্যেই একটি সন্দেহজনক গাড়ি আটক করেছে, যা দিয়ে চন্দ্রনাথের পথ আটকানো হয়েছিল বলে অভিযোগ। দেখা গিয়েছে, গাড়িটিতে থাকা নম্বরপ্লেটটি সম্পূর্ণ ভুয়ো।
ডিজিপি সিদ্ধিনাথ গুপ্ত সংবাদমাধ্যমকে বলেন, “আমরা একাধিক সূত্র ধরে এগোচ্ছি। ঘটনাস্থল থেকে তাজা কার্তুজ ও খোল উদ্ধার করা হয়েছে। এলাকার সমস্ত সিসিটিভি ফুটেজ খুঁটিয়ে দেখা হচ্ছে এবং আততায়ীদের চিহ্নিত করতে একাধিক বিশেষ তদন্তকারী দল গঠন করা হয়েছে।”
বর্তমানে এই হত্যাকাণ্ডের আসল উদ্দেশ্য কী-তা নিয়ে ধোঁয়াশা থাকলেও রাজনৈতিক মহলে চাঞ্চল্য তুঙ্গে। শুভেন্দু অধিকারীর মতো হেভিওয়েট নেতার ব্যক্তিগত সহায়ককে কেন টার্গেট করা হলো, তা খুঁজে বের করাই এখন পুলিশের কাছে সবথেকে বড় চ্যালেঞ্জ।

