আজ ৯ এপ্রিল। পানিহাটি বিধানসভা কেন্দ্রের রাজনীতির ইতিহাসে এক আবেগঘন দিন। এদিন নিজের মনোনয়ন পত্র জমা দিতে বাড়ি থেকে বেরোলেন পানিহাটির বিজেপি প্রার্থী তথা তিলোত্তমার (অভয়া) মা রত্না দেবনাথ। সঙ্গে রয়েছেন তাঁর স্বামী এবং হাজার হাজার বিজেপি কর্মী-সমর্থক। তবে রাজনৈতিক লড়াইয়ের চেয়েও এদিন বড় হয়ে উঠল এক মায়ের ব্যক্তিগত শোক এবং লড়াইয়ের জেদ।
এদিন তাঁর সঙ্গে পদযাত্রায় যোগ দেওয়ার কথা স্মৃতি ইরানি ও বিপ্লব দেবের মতো হেভিওয়েট নেতাদের।
মনোনয়ন জমা দেওয়ার জন্য কেন ৯ তারিখকেই বেছে নিলেন? এই প্রশ্নের উত্তরে রত্না দেবনাথের গলায় ধরা পড়ল এক অদ্ভুত যন্ত্রণা। তিনি বলেন, "এক ৯ তারিখেই আমার কোলে এসেছিল আমার রত্ন (মেয়ে)। মনে হয়েছিল সারা পৃথিবী পেয়ে গিয়েছি। আবার এক ৯ তারিখেই আমার কাছ থেকে আমার রত্নকে কেড়ে নেওয়া হয়েছিল। তাই এই দিনটিকেই আমি আমার লড়াই শুরুর দিন হিসেবে বেছে নিলাম।"
এদিন তৃণমূলকে কড়া ভাষায় আক্রমণ করেন রত্না দেবী। তাঁর দাবি, তাঁকে দেখে তৃণমূল ভয় পেয়েছে। ১৪ আগস্টের 'রাত দখল' কর্মসূচির কথা মনে করিয়ে দিয়ে তিনি বলেন, "মানুষের সমর্থন দেখে ভয় পেয়ে অতীন ঘোষের বাহিনী নিয়ে আর জি করের মূল বিল্ডিংটাই ভেঙে দেওয়া হয়েছিল। সাধারণ মানুষ আমার পাশে আছেন। বয়স্ক থেকে অল্পবয়সী-সবাই আমাকে জড়িয়ে ধরে বলছেন বিচার ছিনিয়ে আনতে।"
গতকাল প্রচারে বেরিয়ে তৃণমূলের বাধার মুখে পড়ার প্রসঙ্গেও বিস্ফোরক অভিযোগ করেন তিনি। রত্না দেবনাথের দাবি, নির্মল ঘোষ ও সঞ্জীব মুখোপাধ্যায়ের 'থ্রেট কালচার' বাহিনী তাঁকে মারতে এসেছিল। এমনকি তাঁর গায়ে থুতু ছেটানো হয়েছে এবং দলীয় কর্মীদের মারধর করা হয়েছে। তবে তিনি যে দমে যাওয়ার পাত্রী নন, তা স্পষ্ট করে জানিয়ে দিয়েছেন। পানিহাটির তৃণমূল প্রার্থী তীর্থঙ্কর ঘোষের 'বহিরাগত' তত্ত্ব উড়িয়ে দিয়ে রত্না দেবী চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে বলেন, "যাঁরা বহিরাগত বলছেন, তাঁরা এসে আমার সঙ্গীদের আধার কার্ড দেখে যান, সব পরিষ্কার হয়ে যাবে।" এদিন মনোনয়ন জমা দেওয়ার আগে স্মৃতি ইরানির সঙ্গে পুজো দিয়ে নিজের রাজনৈতিক ও আইনি লড়াইয়ের সংকল্প গ্রহণ করেন 'তিলোত্তমা'র মা।

