ঠিক এক বছর আগের সেই মে মাসের সকাল। সীমান্তের ওপার থেকে আসা সন্ত্রাসবাদীদের উপযুক্ত জবাব দিতে গর্জে উঠেছিল ভারতীয় সেনাবাহিনী। আজ, বৃহস্পতিবার সেই ঐতিহাসিক 'অপারেশন সিঁদুর'-এর এক বছর পূর্ণ হলো। এই বিশেষ দিনে ভারতীয় জওয়ানদের বীরত্বকে কুর্নিশ জানানোর পাশাপাশি সন্ত্রাসবাদ ইস্যুতে বিশ্বমঞ্চে দাঁড়িয়ে কড়া বার্তা দিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি।
বাহিনীর সাহসিকতাকে কুর্নিশ
এদিন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্স-এ (সাবেক টুইটার) প্রধানমন্ত্রী লেখেন, "নিরাপরাধ, নিরস্ত্র ভারতীয়দের ওপর পহেলগাঁওয়ে যারা হামলা চালিয়েছিল, আমাদের বাহিনী সেই কাপুরুষোচিত কাজের উপযুক্ত জবাব দিয়েছে। জওয়ানদের সাহস এবং বাহাদুরিকে আমি কুর্নিশ জানাই।" তিনি আরও যোগ করেন, ভারতের ওপর কোনো আঘাত এলে তার ফল কী হতে পারে, 'অপারেশন সিঁদুর' তা বিশ্বকে বুঝিয়ে দিয়েছে।
সন্ত্রাসবাদ দমনে জিরো টলারেন্স
প্রধানমন্ত্রী তাঁর বার্তায় স্পষ্ট করে দেন যে, দেশের নিরাপত্তার প্রশ্নে কোনো রকম আপস করা হবে না। তাঁর কথায়, "সন্ত্রাসবাদ দমনে আমরা যে দৃঢ় সংকল্প নিয়েছি, তাতে গোটা দেশ অটল থাকবে। আগামী দিনেও সন্ত্রাসবাদকে আরও কড়া হাতে দমন করা হবে।"
ফিরে দেখা: কী এই 'অপারেশন সিঁদুর'?
২০২৫ সালের ২২ এপ্রিল পহেলগাঁওয়ে ২৬ জন সাধারণ মানুষকে নৃশংভাবে গুলি করে হত্যা করে জঙ্গিরা। এই ঘটনার জেরে ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে চরম সামরিক উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। পহেলগাঁও হামলার বদলা নিতেই গত বছরের ৭ মে পাক অধিকৃত জম্মু-কাশ্মীর ও সংলগ্ন এলাকায় ঝোড়ো অভিযান চালায় ভারতীয় সেনা। এই অভিযানের সাংকেতিক নাম ছিল 'অপারেশন সিঁদুর'।
সেই অভিযানে ভারতীয় বাহিনীর প্রত্যাঘাতে গুঁড়িয়ে যায় একের পর এক জঙ্গি ডেরা এবং শতাধিক জঙ্গির মৃত্যু হয়। সেই সময় পাকিস্তান পাল্টা ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার চেষ্টা করলেও ভারতের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ও তিন বাহিনীর তৎপরতায় তা ব্যর্থ হয়। অবশেষে ১০ মে উভয় দেশ সংঘর্ষবিরতিতে সম্মত হয়েছিল।
আজ সেই অভিযানের বর্ষপূর্তিতে প্রধানমন্ত্রীর এই বার্তা কার্যত বুঝিয়ে দিল, সীমান্ত পারের সন্ত্রাস দমনে নয়া দিল্লির রণনীতি এখন অনেক বেশি আক্রমণাত্মক ও কৌশলী। ভারতীয় সেনাবাহিনীর এই গৌরবোজ্জ্বল অধ্যায়ে আজ গর্বিত গোটা দেশ।

