বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর আপ্ত-সহায়ক তথা প্রাক্তন বায়ুসেনা কর্মী চন্দ্রনাথ রথকে খুনের তদন্তে এবার উঠে এল হাড়হিম করা পেশাদারিত্বের প্রমাণ। স্রেফ মুখ ঢাকা দুষ্কৃতী নয়, বরং তদন্তকারীদের বিভ্রান্ত করতে ঘাতক গাড়ির ইঞ্জিন ও চ্যাসিস নম্বর পর্যন্ত ঘষে বিকৃত করে দেওয়া হয়েছে। পুলিশের অনুমান, অপরাধীরা এই খুনের ছক কষার সময় পালানোর পথ হিসেবে পাঁচটি গুরুত্বপূর্ণ রুটের যে কোনো একটি ব্যবহার করে থাকতে পারে।
বিকৃত চ্যাসিস ও ভুয়ো নম্বর প্লেট: অপরাধে পেশাদার ছোঁয়া
তদন্তে নেমে খড়দহ ও মধ্যমগ্রাম থানার পুলিশ জানতে পেরেছে, এই হত্যাকাণ্ডে একটি চার চাকা গাড়ি এবং দুটি বাইক ব্যবহার করেছিল আততায়ীরা। আশ্চর্যের বিষয় হল, ব্যবহৃত চার চাকা গাড়িটির নম্বর প্লেট তো ভুয়ো বটেই, সেই সঙ্গে গাড়ির ইঞ্জিন এবং ভেতরে খোদাই করা চ্যাসিস নম্বরটি অত্যন্ত সচেতনভাবে ঘষে তুলে দেওয়া হয়েছে। যাতে কোনোভাবেই গাড়ির আসল মালিক বা উৎস সম্পর্কে জানা না যায়। এমনকি বাইক দুটির নম্বর প্লেটও ভুয়া বলে নিশ্চিত করেছেন গোয়েন্দারা।
সিসিটিভি-তে ঘাতক গাড়ির হদিশ
তদন্তকারীরা দোলতলা সাহারা ব্রিজের কাছের সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখে জানতে পেরেছেন, বুধবার বিকেল ৩টে ৫৭ মিনিট নাগাদ ওই চার চাকা গাড়িটিকে ওই এলাকায় দেখা গিয়েছিল। অর্থাৎ খুনের কয়েক ঘণ্টা আগে থেকেই তারা ঘটনাস্থলের আশেপাশে ওৎ পেতে ছিল।
কোন পথে পালাল খুনিরা? ৫টি রুটে নজরদারি
ঘটনাস্থল থেকে যশোহর রোডের দূরত্ব মাত্র ২৫০ থেকে ৩০০ মিটার। পুলিশের ধারণা, ওই রাস্তায় উঠে পালানোর জন্য আততায়ীরা একাধিক বিকল্প রুট ব্যবহার করে থাকতে পারে:
রুট ১: যশোহর রোড ধরে সরাসরি বারাসত।
রুট ২: বারাসত হয়ে বনগাঁ অথবা বসিরহাট সীমান্ত এলাকার দিকে।
রুট ৩: বারাসত হয়ে আমডাঙা রুট দিয়ে নদিয়ার দিকে।
রুট ৪: বিমানবন্দরের দিকে গিয়ে কল্যাণী এক্সপ্রেসওয়ে।
রুট ৫: বেলঘরিয়া এক্সপ্রেসওয়ে ধরে দ্রুত এলাকা ত্যাগ।
চালকের বয়ানের অপেক্ষায় পুলিশ
চন্দ্রনাথের মৃত্যু হলেও তাঁর গাড়ির চালক বর্তমানে চিকিৎসাধীন। জানা গিয়েছে, তাঁরও বুকে ও পেটে গুলি লেগেছে। রাতেই তাঁর অস্ত্রোপচার সম্পন্ন হয়েছে। পুলিশের বিশ্বাস, চালক জ্ঞান ফিরলে এবং কথা বলার মতো অবস্থায় এলে ঘাতকদের চেহারা এবং তারা ঠিক কোন দিকে গিয়েছিল, সেই সম্পর্কে সবথেকে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া যাবে।

