শ্রীরাম জন্মভূমি তীর্থ ক্ষেত্র রাম মন্দিরের অনুদান চুরি ও ভিআইপি দর্শন ঘিরে চলা কেলেঙ্কারির ঘটনায় একের পর এক চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে আসছে। তদন্তকারী সংস্থা এসআইটি (SIT)-এর হাতে থাকা মূল পরিকল্পনাকারী অবিনাশ শুক্লা জেরায় স্বীকার করেছে, চুরি করা অনুদানের টাকা কোথায় বিতরণ করা হতো।
টাকা বিতরণের গোপন আস্তানা: পুলিশি রিমান্ডে থাকা অবিনাশ শুক্লাকে নিয়ে ঘটনাস্থলে যাওয়ার পর তদন্তকারীরা জানতে পারেন, চুরি যাওয়া অনুদানের টাকা '১৪ কোসি পরিক্রমা মার্গ'-এর পার্শ্ববর্তী একটি নির্দিষ্ট স্থানে বিতরণ করা হতো। এই চক্রের অন্যতম সদস্য অনুকল্প মিশ্র, লবকুশ মিশ্র, কমলেশ পান্ডে এবং টিনু যাদব এখানেই টাকার ভাগ-বাঁটোয়ারা করত। পুলিশ সেই স্থান থেকে নগদ টাকা ছাড়াও কিছু মূল্যবান সামগ্রী উদ্ধার করেছে, যা এতদিন গোপনে লুকিয়ে রাখা হয়েছিল।
টিনু যাদবের 'সমান্তরাল প্রশাসন': তদন্তে বেরিয়ে এসেছে, টিনু যাদব মন্দির চত্বরের ভেতরে একপ্রকার নিজস্ব 'সমান্তরাল সরকার' বা প্রশাসন গড়ে তুলেছিল। হিসাবঘরের চাবির দখল থেকে শুরু করে মন্দিরের কর্মীদের ওপর তার কঠোর নির্দেশ-সবই চলত তার অঙ্গুলিহেলনে। এমনকী, ওয়াকি-টকির মাধ্যমে সে গাড়ির চলাচল নিয়ন্ত্রণ করত এবং পুলিশ বিভাগের একাংশও তার ইশারায় চলত বলে অভিযোগ।
ভিআইপি দর্শন ও চাঁদাবাজির জাল: ভিআইপি দর্শনকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা এই নেটওয়ার্ক শুধু মন্দিরের ভেতরে নয়, পার্শ্ববর্তী হোটেল ও হোমস্টেও ছড়িয়ে পড়েছিল। সাধারণ ভক্তদের থেকে ৫০০ থেকে ১০০০ টাকা এবং ধনী ব্যক্তিদের থেকে ২০০০ টাকা পর্যন্ত আদায় করা হতো। এই পুরো প্রক্রিয়ায় 'ছোটু' নামে এক ব্যক্তি ভিআইপি এন্ট্রির মাধ্যমে মূল মাধ্যম হিসেবে কাজ করত। ভক্তদের তথ্য সংগ্রহের পর তাদের ভিআইপি পাস পাইয়ে দেওয়া হতো এবং প্রাপ্ত টাকা চক্রের সদস্যদের মধ্যে ভাগ করে নেওয়া হতো।
তদন্তের বর্তমান পরিস্থিতি: প্রাণ প্রতিষ্ঠার পর থেকে প্রতিদিন যে লক্ষ লক্ষ টাকা সংগ্রহ হচ্ছিল, তা পরিকল্পিতভাবে এই চক্রটি হাতিয়ে নিচ্ছিল। এখন অবিনাশ শুক্লা এবং টিনু যাদবের এই বিশাল নেটওয়ার্কের সঙ্গে আরও কারা জড়িত, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ। মন্দির চত্বরে বাইরের ব্যক্তিদের অবাধ যাতায়াত এবং অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের এই ঘটনায় ভক্তমহলে তীব্র ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে।
The post অযোধ্যায় রাম মন্দিরে ভিআইপি দর্শন কেলেঙ্কারি! টাকা বিতরণের গোপন স্থান দেখাল অবিনাশ first appeared on News.

