ভোটের উত্তাপে এখন ফুটছে ভবানীপুর। কিন্তু রাজনীতির লড়াইয়ের মাঝেও সবার নজর এখন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Mamata Banerjee) হলফনামার দিকে। বুধবার তৃণমূল প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন জমা দেওয়ার সময় নিজের সম্পত্তির যে খতিয়ান তিনি পেশ করেছেন, তা দেখে তাজ্জব রাজনৈতিক মহল। ২০২১ সালের তুলনায় পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রীর সম্পত্তির পরিমাণ বাড়া তো দূর অস্ত, উল্টে কমেছে অনেকটাই।
হলফনামা অনুযায়ী, মমতার নামে কোনো নিজস্ব বাড়ি বা গাড়ি নেই। কালীঘাটের পৈতৃক বাড়িতে থাকলেও তাঁর স্থাবর সম্পত্তির পরিমাণ শূন্য। এমনকি তাঁর কোনো ব্যাঙ্ক ঋণও নেই। মনোনয়ন জমা দেওয়ার সময় তাঁর হাতে নগদ ছিল মাত্র ৭৫,৭০০ টাকা। দুটি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট মিলিয়ে তাঁর মোট গচ্ছিত অর্থের পরিমাণ ১২ লক্ষ ৭৬ হাজার ২০৯ টাকা। সব মিলিয়ে তাঁর বর্তমান অস্থাবর সম্পত্তি ১৫ লক্ষ ৩৭ হাজার ৫০৯ টাকা। আশ্চর্যের বিষয় হলো, গত পাঁচ বছরে তাঁর মোট সম্পত্তি কমেছে ১ লক্ষ ৩৪ হাজার ৮৪৩ টাকা।
তালিকায় আরও দেখা গিয়েছে, মমতার কাছে ৯ গ্রাম ৭৫০ মিলিগ্রাম সোনা রয়েছে। তবে সোনার দাম বাড়ায় তার বর্তমান বাজারমূল্য দাঁড়িয়েছে প্রায় ১ লক্ষ ৪৫ হাজার টাকা। আগে তাঁর কিছু ন্যাশনাল সেভিংস সার্টিফিকেট (NSC) বিনিয়োগ থাকলেও বর্তমানে তা আর নেই। আয়ের উৎস হিসেবে তিনি মূলত বইয়ের রয়্যালটি এবং ব্যাঙ্কের সুদের কথা উল্লেখ করেছেন।
সবথেকে বড় বিষয় হলো, নন্দীগ্রামের লড়াইয়ের মতো এখানেও তাঁর বিরুদ্ধে কোনো অপরাধমূলক মামলা বা এফআইআর নেই। একদিকে যখন ভবানীপুরে বিজেপি প্রার্থী শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে তাঁর হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের প্রস্তুতি চলছে, তখন নিজের এই সাধারণ জীবনযাত্রা ও স্বচ্ছ ভাবমূর্তিকে হাতিয়ার করেই ময়দানে নেমেছেন তৃণমূল নেত্রী। সম্পত্তির গ্রাফ নামলেও, তাঁর রাজনৈতিক জেদ যে একচুলও কমেনি, তা মনোনয়ন পর্বেই স্পষ্ট।

