শ্রীলঙ্কার নেগোম্বো কারাগারে দু'দিন ধরে চলা এক ভয়াবহ দাঙ্গা ও রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে ২৫ জন নিহত হয়েছেন। আহতের সংখ্যা প্রায় ১০০ ছাড়িয়েছে। নিহতদের মধ্যে ৬ জন কারারক্ষীও রয়েছেন বলে জানা গেছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে বর্তমানে গোটা জেল চত্বরে বিশাল পুলিশ বাহিনী, বিশেষ দাঙ্গা দমন শাখা এবং সেনাসদস্য মোতায়েন করা হয়েছে।
কীভাবে শুরু দাঙ্গা? সূত্র অনুযায়ী, নেগোম্বো জেলে বন্দি স্থায়ী সাজাপ্রাপ্ত আসামি এবং বিচারাধীন বন্দিদের দুটি গোষ্ঠীর মধ্যে রোববার সকালে প্রথম বচসা হয়। সোমবার সকালে নাস্তা দেওয়ার সময় এই বিবাদ চরম আকার ধারণ করে। বন্দিরা একে অপরের ওপর চড়াও হওয়ার পাশাপাশি ডিউটিরত জেল কর্মকর্তাদের ওপরও আক্রমণ করে। পরিস্থিতি সামাল দিতে গিয়ে জেল কর্মীরা মূল গেটের দিকে পিছিয়ে আসতে বাধ্য হন। এমনকি এই সুযোগে বেশ কয়েকজন বন্দি জেল থেকে পালানোর চেষ্টাও করে।
তদন্তে কী উঠে আসছে? প্রাথমিক তদন্তে উঠে আসছে, এই হিংসাত্মক ঘটনার নেপথ্যে জেলবন্দিদের মাদক চোরাচালান চক্রের যোগ থাকতে পারে। হাসপাতালে ভর্তি হওয়া অনেক আহত ব্যক্তির শরীরে গুলির ক্ষত ও গভীর চোট রয়েছে। এই ঘটনায় জড়িতদের কাছে অস্ত্র কীভাবে পৌঁছাল, তা নিয়ে ইতিমধ্যেই শুরু হয়েছে উচ্চ পর্যায়ের তদন্ত।
পরিস্থিতি মোকাবিলায় শ্রীলঙ্কা বায়ুসেনার সাহায্য নেওয়া হচ্ছে, যারা ড্রোন ও হেলিকপ্টারের মাধ্যমে গোটা জেল চত্বরের ওপর নজরদারি চালাচ্ছে। মন্ত্রী হার্শনা নানায়াক্কারা জেল পরিদর্শন করে জানিয়েছেন যে, পরিস্থিতি এখন প্রশাসনের নিয়ন্ত্রণে। তবে নিহতদের পরিবারের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। উল্লেখ্য, ২০১২ ও ২০২০ সালেও শ্রীলঙ্কার বিভিন্ন জেলে বড় ধরনের দাঙ্গা ও মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছিল।
The post বন্দিদের দুই গোষ্ঠীর রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ! শ্রীলঙ্কার নেগোম্বো জেলে সেনার মোতায়েন, মৃত ৬ কারারক্ষী first appeared on News.

