Dailyhunt Logo
  • Light mode
    Follow system
    Dark mode
    • Play Story
    • App Story
ভরা বর্ষাতেও কমছে না ইলিশের ঝাঁঝ! আকাশছোঁয়া দাম দেখে কপালে হাত মধ্যবিত্তের

ভরা বর্ষাতেও কমছে না ইলিশের ঝাঁঝ! আকাশছোঁয়া দাম দেখে কপালে হাত মধ্যবিত্তের

Tech Infomatrix 5 days ago

জুন মাসের শেষের দিক থেকেই কলকাতার বিভিন্ন বাজারে ইলিশের দেখা মিলতে শুরু করেছিল। চলতি বছরের জামাইষষ্ঠীর বাজার থেকেই চড়া দামে ইলিশ কেনার পালা শুরু হয়েছিল বাঙালির। সাধারণত বর্ষা নামলেই মাছের রাজার দর খানিকটা কমে যাওয়ার কথা থাকলেও, বর্তমান সিজনে দেখা যাচ্ছে এক সম্পূর্ণ ভিন্ন চিত্র।

জুলাই মাস থেকে টানা বৃষ্টিপাত হওয়া সত্ত্বেও কলকাতার বাজারে ইলিশের ঝাঁঝ কমেনি বিন্দুমাত্র; বরং এখনও চড়া দামেই বিকোচ্ছে রুপোলি শস্য। বাজারের বড় ও মাঝারি সাইজের ইলিশের কেজি হাজার টাকার গণ্ডি তো বটেই, ১৫০০ টাকাও পার করে ফেলেছে। কিন্তু ভরা বর্ষায় এমন পরিস্থিতি কেন তৈরি হলো?

কলকাতায় বর্তমানে ইলিশের দাম কেমন?

শহরের অন্যতম প্রধান মানিকতলা বাজার ব্যবসায়ী সমিতির যুগ্ম সম্পাদক বাবলু দাসের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, বাজারে এই মুহূর্তে যে সাইজের মাছগুলি সবচেয়ে বেশি পরিমাণে বিক্রি হচ্ছে, সেগুলির ওজন সাধারণত ৯০০ গ্রাম থেকে ১ কেজি ১০০ গ্রামের মধ্যে। বুধবার এই ওজনের ইলিশ প্রতি কেজি ১০০০ থেকে ১২০০ টাকা দরে বিক্রি হয়েছে। অন্যদিকে, এর চেয়ে বড় অর্থাৎ ১.২০০ কেজি থেকে ১.৩০০ কেজি ওজনের ইলিশের দাম রয়েছে ১৫০০ থেকে ১৬০০ টাকা প্রতি কেজি।

পাশাপাশি শহরতলির বিভিন্ন বাজারে ছোট সাইজের ইলিশ মিললেও সেগুলি খোকা ইলিশ নয়। নিউব্যারাকপুর মাছের বাজারে ৭০০ থেকে ৯০০ গ্রামের ইলিশ বিক্রি হচ্ছে ৯০০ থেকে ১০০০ টাকা প্রতি কেজি দরে। এ ছাড়াও ৫০০ থেকে ৬০০ গ্রামের ইলিশের দাম রয়েছে ৭০০ থেকে ৮০০ টাকা। তবে ব্যবসায়ীদের একাংশের মতে, এই ছোট ও মাঝারি সাইজের মাছের একটি বড় অংশই আসছে হিমঘর (Cold Storage) থেকে।

অগাস্ট মাসেও কেন এত চড়া ইলিশের দাম?

কাকদ্বীপ ফিশারম্যান অ্যান্ড ফিস ট্রেডারস অ্যাসোশিয়েশনের সভাপতি বিজন মাইতি এই বিষয়ে জানান, মূলত প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণেই বাজারে ইলিশের জোগান কম এবং দাম এত চড়া রয়েছে। তাঁর কথায়, “মূলত আবহাওয়া খারাপ থাকার কারণেই বাজারে ইলিশের দাম চড়া। সমুদ্রে ট্রলার গিয়ে ২-৩ দিনের বেশি থাকতে পারছে না। আবহাওয়ার কোনো নির্দিষ্ট সতর্কতা না থাকা সত্ত্বেও সমুদ্র উত্তাল হয়ে থাকছে, যার ফলে ট্রলারগুলি বাধ্য হয়ে ফিরে আসছে। জালে কম মাছ ওঠায় বাজারে তার প্রভাব পড়ছে এবং বেশি দামেই তা বিক্রি করতে হচ্ছে।” কাকদ্বীপের পাইকারি বাজারেও এই মুহূর্তে ছবিটা একই। সমুদ্র থেকে তুলে আনা ৬০০-৭০০ গ্রামের ইলিশ পাইকারিতেই ৮০০ থেকে ৯০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। তবে আবহাওয়া স্বাভাবিক হলে এবং খামখেয়ালিপনা কাটলে আগামী দিনে দাম কিছুটা কমতে পারে বলে আশা প্রকাশ করেছেন ব্যবসায়ীরা।

ওপার বাংলাতেও ইলিশ নিয়ে হতাশা

শুধু এ রাজ্যেই নয়, প্রতিবেশী দেশ বাংলাদেশের মৎস্যজীবীদের অনেকেও এ বার ইলিশ ধরতে গিয়ে চরম হতাশার মুখে পড়েছেন। বরগুনার উপকূল থেকে ইলিশ শিকারে যাওয়া বেশিরভাগ ট্রলারই খালি হাতে বা লোকসান গুনে ফিরছে বলে ওপার বাংলার সংবাদমাধ্যমে দাবি করা হচ্ছে। জেলেদের মতে, নদীর তলদেশে পলি জমে যাওয়া, নতুন নতুন চর জেগে ওঠা এবং সমুদ্রের বাস্তুতন্ত্র বা পরিবেশ বদলে যাওয়ার কারণেই জালের মুখে ইলিশ কম পড়ছে।

বাংলাদেশ থেকে কি এ বার ইলিশ আসবে?

প্রতি বছরই দুর্গাপুজোর আগে রাজনৈতিক সৌজন্যের প্রতীক হিসেবে পশ্চিমবঙ্গসহ ত্রিপুরা ও অসমে পদ্মার সুস্বাদু ইলিশ পাঠায় ঢাকা। তবে এ বছর বাংলাদেশে ইলিশের আকাল দেখা দেওয়ায় সেই সম্ভাবনা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। যদিও এ বিষয়ে এখনও পর্যন্ত সরকারি বা ব্যবসায়িক স্তরে কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানানো হয়নি। তবে সংশ্লিষ্ট মহলের ধারণা, আগামী দুই থেকে তিন সপ্তাহের মধ্যেই এই বিষয়ে স্পষ্ট চিত্র সামনে আসবে।

The post ভরা বর্ষাতেও কমছে না ইলিশের ঝাঁঝ! আকাশছোঁয়া দাম দেখে কপালে হাত মধ্যবিত্তের first appeared on News.

Dailyhunt
Disclaimer: This content has not been generated, created or edited by Dailyhunt. Publisher: Tech Infomatrix