দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান। দুয়ারে কড়া নাড়ছে ২০২৬-এর পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফল। সোমবার সকাল ৮টা থেকেই শুরু হতে চলেছে রাজ্যের ২৯৩টি আসনের ভাগ্য নির্ধারণ। ফলতা আসনে পুনর্নির্বাচন চলায় আপাতত নজর থাকছে বাকি আসনগুলোর ওপর। কিন্তু গণনার সেই রুদ্ধশ্বাস কয়েক ঘণ্টা ঠিক কী কী ঘটে কাউন্টিং হলের অন্দরে?
কীভাবে ইভিএম থেকে বেরিয়ে আসে জয়ী প্রার্থীর নাম? জেনে নিন গণনার সেই নিখুঁত ও স্বচ্ছ প্রক্রিয়ার প্রতিটি ধাপ।
কঠোর পাহারায় 'স্ট্রং রুম'
ভোট শেষ হওয়ার পর থেকেই ইভিএমগুলো রয়েছে লোহার খাঁচায় বন্দি অর্থাৎ 'স্ট্রং রুমে'। কেন্দ্রীয় বাহিনীর ত্রিস্তরীয় নিরাপত্তা বলয় আর ২৪ ঘণ্টা সিসিটিভি নজরদারির পাশাপাশি সেখানে রাত জাগছেন রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতিনিধিরাও। কাউন্টিং এজেন্টের সামনে সিল করা মেশিনের নম্বর মিলিয়ে দেখার পরেই শুরু হবে আসল কাজ।
প্রথম ধাপ: পোস্টাল ব্যালটের দাপট
ঠিক সকাল ৮টায় ইভিএম খোলার আগেই শুরু হবে পোস্টাল ব্যালট গণনা। সশস্ত্র বাহিনীর সদস্য (সার্ভিস ভোটার), ভোটকর্মী এবং বয়োজ্যেষ্ঠ নাগরিকদের ভোটগুলো প্রথমে গোনা হয়। অনেক সময় প্রাথমিক ট্রেন্ড বা প্রবণতা এই ব্যালট পেপার থেকেই বোঝা যায়।
দ্বিতীয় ধাপ: ইভিএম-এর লড়াই ও রাউন্ড-ভিত্তিক গণনা
ব্যালট গোনা শুরু হওয়ার কিছুক্ষণ পরই খোলা হবে ইভিএম। প্রতিটি বিধানসভা কেন্দ্রের জন্য নির্দিষ্ট টেবিলে ধাপে ধাপে বা 'রাউন্ড' অনুযায়ী মেশিন খোলা হয়। কন্ট্রোল ইউনিটের বোতাম টিপলেই ভেসে ওঠে কোন প্রার্থী কত ভোট পেলেন। প্রতিটি টেবিলের জন্য থাকেন একজন মাইক্রো-অবজারভার ও কাউন্টিং সুপারভাইজার, যাঁরা নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করেন।
ভিভিপ্যাট (VVPAT) যাচাই: স্বচ্ছতার শেষ কথা
নির্বাচন কমিশনের নিয়ম অনুযায়ী, প্রতিটি বিধানসভা কেন্দ্রের লটারির মাধ্যমে বেছে নেওয়া ৫টি বুথের ভিভিপ্যাট স্লিপ গোনা বাধ্যতামূলক। ইভিএম-এর ফলের সঙ্গে কাগজের স্লিপ মিলিয়ে দেখা হয়। এই ক্রস-চেকিং প্রক্রিয়াই প্রমাণ করে যে ভোটদান প্রক্রিয়ায় কোনও কারচুপি হয়নি।
চূড়ান্ত ঘোষণা ও বিজয় সনদ
প্রতিটি রাউন্ড শেষে রিটার্নিং অফিসার মাইকে ঘোষণা করবেন কে কত ভোটে এগিয়ে বা পিছিয়ে। সব রাউন্ড শেষ হওয়ার পর ইভিএম এবং পোস্টাল ব্যালটের মোট ভোট যোগ করে ঘোষণা করা হবে বিজয়ীর নাম। এরপর রিটার্নিং অফিসারের হাত থেকে জয়ী প্রার্থী বুঝে নেবেন তাঁর 'নির্বাচন সনদ' বা সার্টিফিকেট।

