২০২৬-এর মহারণ যত ঘনিয়ে আসছে, ভোটার তালিকা সংশোধন এবং ভোটাধিকার ইস্যু নিয়ে ততই আক্রমণাত্মক হয়ে উঠছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বুধবার হুগলির বলাগড়ে এক নির্বাচনী জনসভা থেকে কেন্দ্রীয় সরকারের 'স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশন' (SIR) প্রক্রিয়াকে কড়া ভাষায় আক্রমণ করেন তিনি। সাফ জানান, সাধারণ মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকার যদি সুরক্ষিত না থাকে, তবে আইনি জটিলতা বা ট্রাইব্যুনালের কোনও মূল্য নেই।
এদিন বলাগড়ের সভামঞ্চ থেকে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “যাঁরা বছরের পর বছর ভোট দিচ্ছেন, আজ তাঁদের ভোটার তালিকা থেকে বাদ দেওয়ার চক্রান্ত চলছে। মানুষ যদি নিজের ভোটটাই দিতে না পারে, তবে সেই ট্রাইব্যুনালের কী দরকার? আমি থাকতে বাংলার মানুষের ভোটাধিকার কেড়ে নিতে দেব না।”
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নিশানায় ছিল মূলত বিজেপি ও নির্বাচন কমিশনের সাম্প্রতিক পদক্ষেপ। তাঁর অভিযোগ, এসআইআর-এর নামে বেছে বেছে বাংলার নির্দিষ্ট কিছু মানুষের নাম ভোটার তালিকা থেকে ছেঁটে ফেলার চেষ্টা করছে গেরুয়া শিবির। তিনি আরও বলেন, “ওরা ভয় পেয়েছে। তাই গণতান্ত্রিক পথে লড়াই করতে না পেরে এখন পেছনের দরজা দিয়ে নাম বাদ দেওয়ার রাজনীতি করছে।”
সভার মূল পয়েন্টগুলো এক নজরে:
SIR ইস্যুতে তোপ: মুখ্যমন্ত্রী দাবি করেন, ভোটার তালিকার এই বিশেষ সংশোধন প্রক্রিয়া আসলে মানুষকে হেনস্তা করার একটি কৌশল।
আদালতের লড়াই: ইতিমধেই ভোটার তালিকা নিয়ে সুপ্রিম কোর্টে যাওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়ে রেখেছেন মমতা। এদিনও সেই সুরেই তিনি জানান, মানুষের অধিকার রক্ষায় তিনি শেষ রক্তবিন্দু পর্যন্ত লড়বেন।
বিজেপিকে চ্যালেঞ্জ: বলাগড় থেকে শুভেন্দু-দিলীপদের হুঁশিয়ারি দিয়ে তিনি বলেন, “যত ষড়যন্ত্রই করুন, বাংলার মানুষ এর যোগ্য জবাব ইভিএম-এ দেবে।”
বলাগড়ের এই জনসভা থেকে মুখ্যমন্ত্রী কেবল ভোটার তালিকা নয়, বরং ২০২৬-এর নির্বাচনে তৃণমূলের জয় যে অনিবার্য, সেই বার্তাও স্পষ্ট করে দিলেন। অন্যদিকে, বিজেপির পক্ষ থেকে মমতার এই অভিযোগকে 'ভিত্তিহীন' বলে দাবি করা হয়েছে। তাদের পালটা দাবি, ভোটার তালিকা থেকে ভিনদেশিদের নাম বাদ যাচ্ছে বলেই মুখ্যমন্ত্রী বিচলিত হয়ে পড়েছেন।

