রাজনীতির পিচে প্রথম ইনিংসটা খুব একটা সুখকর হলো না। তুফানগঞ্জ থেকে ঘাসফুল শিবিরের টিকিটে দাঁড়িয়েও শেষ হাসি হাসতে পারেননি তিনি। তবে নির্বাচনের হারের ধাক্কা কাটিয়ে উঠতে না উঠতেই বড়সড় 'চমক' দিলেন বাংলার প্রাক্তন তারকা পেসার শিবশঙ্কর পাল। রাজনীতির ময়দানে হারের ঠিক একদিন পরেই এল জাতীয় স্তরের ডাক।
এবার ভারতীয় অনূর্ধ্ব-১৬ দলের বোলিং কোচের দায়িত্বে দেখা যাবে ময়দানের প্রিয় 'ম্যাকো'কে।
লক্ষ্মণের ডাকে জয়পুর যাত্রা
বঙ্গ ক্রিকেটে যখন নতুন কোচের খোঁজে তোড়জোড় চলছে, ঠিক তখনই ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড (BCCI) থেকে বড় দায়িত্ব পেলেন প্রাক্তন এই বঙ্গ পেসার। বিসিসিআই-এর 'সেন্টার অফ এক্সেলেন্স'-এর প্রধান ভিভিএস লক্ষ্মণ স্বয়ং চিঠি পাঠিয়ে শিবশঙ্করকে এই দায়িত্বের কথা জানিয়েছেন। জয়পুরে আগামী ১১ মে থেকে ৬ জুন পর্যন্ত দেশের উদীয়মান অনূর্ধ্ব-১৬ ক্রিকেটারদের নিয়ে একটি বিশেষ শিবির আয়োজন করেছে বোর্ড। সেই শিবিরেরই বোলিং কোচ হিসেবে দলের সঙ্গে যোগ দেবেন তিনি।
"আমি মাঠের ছেলে, মাঠেই স্বস্তি"
ভোটের ফল প্রকাশের পর স্বাভাবিকভাবেই কিছুটা বিমর্ষ ছিলেন শিবশঙ্কর। কিন্তু ক্রিকেটের এই নতুন দায়িত্ব যেন তাঁকে ফের চনমনে করে তুলেছে। উচ্ছ্বসিত শিবশঙ্কর সংবাদমাধ্যমকে জানান, "লক্ষ্মণ আমাকে চিঠি পাঠিয়েছেন। ১০ মে আমাকে জয়পুর পৌঁছে যেতে হবে। আমি মাঠের ছেলে, মাঠেই আমার সবথেকে বেশি স্বস্তি। রাজনীতিতে হারলেও মানুষের পাশে দাঁড়ানোর কাজ ভবিষ্যতেও করব।"
তুফানগঞ্জ এক্সপ্রেসের লক্ষ্য এবার ব্লু-জার্সি
খেলোয়াড় জীবনে 'তুফানগঞ্জ এক্সপ্রেস' নামে পরিচিত এই পেসার রঞ্জি ট্রফির সেমিফাইনালে বাংলার হারের পরই সরাসরি তৃণমূল কংগ্রেসে যোগ দিয়েছিলেন। টিকিট পেয়েছিলেন নিজের ঘরের মাঠ তুফানগঞ্জ থেকেই। কিন্তু নির্বাচনের লড়াইয়ে হারের রেশ এখনও কাটেনি তাঁর। তবে শিবশঙ্করের কথায়, "ফল নিয়ে ভেবে আর কী হবে? তবে আমি তুফানগঞ্জের ছেলে, ভোটে না জিতলেও এলাকার মানুষের জন্য কাজ করে যাব।"
বাংলার কোচ হওয়ার দৌড়েও কি এগিয়ে ম্যাকো?
প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে ২০০-র বেশি উইকেটের মালিক শিবশঙ্কর এর আগে বাংলার সিনিয়র দলের সহকারী কোচের দায়িত্ব সামলেছেন। সিএবি-র তরফে নতুন কোচ নিয়োগের যে বিজ্ঞপ্তি জারি করা হয়েছে, তাতেও আবেদন করেছেন তিনি। শিবশঙ্করের আশা, জাতীয় স্তরের এই অভিজ্ঞতা তাঁকে ভবিষ্যতে বাংলা ক্রিকেটের মূল স্রোতে থাকতে সাহায্য করবে।

