পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের আগে এক নজিরবিহীন আইনি লড়াইয়ের পর জেলমুক্ত হতে চলেছেন সারদা চিটফান্ড কাণ্ডের প্রধান অভিযুক্ত সুদীপ্ত সেন। বুধবার কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি রাজর্ষি ভরদ্বাজের ডিভিশন বেঞ্চ রাজ্য পুলিশের দায়ের করা শেষ দুটি মামলাতেও সুদীপ্তর জামিন মঞ্জুর করেছে। এর ফলে দীর্ঘ ১২ বছর ১১ মাস পর তাঁর কারাবাসের অবসান ঘটল।
বৃহস্পতিবারই সংশোধনাগার থেকে তাঁর বাইরে আসার সম্ভাবনা রয়েছে।
কেন আটকে ছিল জেলমুক্তি?
সারদা কাণ্ডে সিবিআই-এর দায়ের করা ৭৬টি মামলার সবকটিতেই আগেই জামিন পেয়েছিলেন সুদীপ্ত। কিন্তু বারাসত থানার দুটি পুরনো মামলায় জামিন না পাওয়ায় ঝুলে ছিল তাঁর মুক্তি। সুদীপ্তর আইনজীবী আদালতে দাবি করেন, দীর্ঘদিন চার্জশিট জমা পড়লেও বিচার প্রক্রিয়া শুরু হয়নি। অভিযুক্ত ব্যক্তি অসুস্থ এবং দীর্ঘকাল বিনা বিচারে আটকে রয়েছেন। এই যুক্তিতেই শেষ পর্যন্ত ৫ হাজার টাকার ব্যক্তিগত বন্ডে জামিন দেয় আদালত।
কঠিন শর্ত ও সিবিআই-কে ভর্ৎসনা
জামিন পেলেও সুদীপ্ত সেনের ওপর একাধিক শর্ত চাপিয়েছে হাইকোর্ট। তাঁকে পাসপোর্ট জমা রাখতে হবে, ট্রায়ালের সময় সশরীরে হাজিরা দিতে হবে এবং তদন্তে সবরকম সহযোগিতা করতে হবে। শুনানির সময় বিচারপতি রাজর্ষি ভরদ্বাজ সিবিআই-এর তীব্র সমালোচনা করে বলেন, “২০১৪ সালে চার্জশিট দিয়েও কেন ট্রায়াল শুরু হয়নি? কাউকে কি এভাবে বছরের পর বছর আটকে রাখা যায়?”
সম্পত্তি বিক্রি নিয়ে রহস্য
এদিন আদালতে সারদার সম্পত্তি বিক্রি নিয়েও চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে আসে। বিচারপতি প্রশ্ন তোলেন, ২০টি বাংলো ও ১০টি ফ্ল্যাট কীভাবে মাত্র ৫২ লক্ষ টাকায় বিক্রি হলো? কমিটির ভূমিকা নিয়েও ক্ষোভ প্রকাশ করে আদালত। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ভোটের মুখে সুদীপ্ত সেনের জেলমুক্তি এবং আমানতকারীদের টাকা ফেরত সংক্রান্ত আইনি জট খোলার বিষয়টি রাজ্যের শাসক ও বিরোধী দল-উভয় শিবিরের জন্যই যথেষ্ট উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে।

