বর্তমান বিশ্বরাজনীতিতে আকাশপথের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই যেকোনো দেশের সামরিক শক্তির প্রধান পরিচয়। যুদ্ধের ময়দানে ড্রোন, হাইপারসনিক মিসাইল কিংবা যুদ্ধবিমানের আক্রমণ ঠেকাতে তৈরি করা হয়েছে অত্যাধুনিক সব 'এয়ার ডিফেন্স সিস্টেম' বা বায়ু প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা। বিশ্বের এমন ৫টি শক্তিশালী সিস্টেম রয়েছে যা ভেদ করা যেকোনো শত্রুর জন্যই প্রায় অসম্ভব।
চলুন জেনে নেওয়া যাক সেই তালিকা।
১. S-500 প্রোমেথিউস (রাশিয়া)
বিশ্বের বর্তমান তালিকার শীর্ষে রয়েছে রাশিয়ার এস-৫০০। এটি মূলত একটি মাল্টি-পারপাস সিস্টেম, যা হাইপারসনিক মিসাইল, স্টিলথ যুদ্ধবিমান এবং নিম্ন-কক্ষপথের স্যাটেলাইট ধ্বংস করতে সক্ষম। প্রায় ৬০০ কিলোমিটার পাল্লার এই সিস্টেমটি আকাশপথের যেকোনো হুমকিকে ২০০ কিলোমিটার উচ্চতা থেকেই নিশ্চিহ্ন করতে পারে।
২. THAAD (আমেরিকা)
আমেরিকার 'টার্মিনাল হাই অল্টিটিউড এরিয়া ডিফেন্স' বা থাড (THAAD) বিশ্বজুড়ে সমাদৃত এর 'হিট-টু-কিল' প্রযুক্তির জন্য। এটি পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলের ভেতরে বা বাইরে যেকোনো ব্যালিস্টিক মিসাইলকে নিশানায় আঘাত করতে সক্ষম। মধ্যপ্রাচ্য ও এশিয়ার বেশ কিছু মিত্র দেশে এই সিস্টেমটি মোতায়েন রেখেছে যুক্তরাষ্ট্র।
৩. প্যাট্রিয়ট প্যাক-৩ এমএসই (Patriot PAC-3 MSE)
বিশ্বের সবচেয়ে বেশি যুদ্ধ-পরীক্ষিত সিস্টেমগুলোর একটি হলো আমেরিকার প্যাট্রিয়ট পিএসি-৩। মূলত যুদ্ধবিমান মোকাবিলার জন্য তৈরি হলেও, বর্তমান আপডেটের পর এটি ক্রুজ মিসাইল এবং ড্রোন ধ্বংস করতে অপ্রতিদ্বন্দ্বী। বিশ্বের প্রায় ১৫টি দেশে এই সিস্টেমটি মোতায়েন রয়েছে।
৪. S-400 ট্রায়াম্ফ (রাশিয়া)
ভারতের নিরাপত্তার অন্যতম প্রধান ভরসা এই S-400। এটি একই সঙ্গে ৩৬টি লক্ষ্যবস্তু ট্র্যাক করতে পারে এবং একসাথে একাধিক মিসাইল ছুড়ে হুমকি মোকাবিলা করতে সক্ষম। ভারতের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায় এস-৪০০ যুক্ত হওয়ায় দক্ষিণ এশিয়ায় ভারতের শক্তি বহুগুণ বেড়ে গেছে।
৫. ডেভিড'স স্লিং (ইজরায়েল)
তালিকায় পঞ্চম স্থানে রয়েছে ইজরায়েলের 'ডেভিড'স স্লিং'। স্বল্প থেকে মাঝারি পাল্লার ব্যালিস্টিক মিসাইল, ক্রুজ মিসাইল এবং বড় ধরণের রকেট হামলা প্রতিহত করার জন্য এটি বিশ্বের অন্যতম সেরা মাধ্যম হিসেবে পরিচিত। ইজরায়েলের ত্রিস্তরীয় প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার একটি প্রধান স্তম্ভ এটি।
The post বিশ্বের সেরা ৫ এয়ার ডিফেন্স: কোন শক্তিধর অস্ত্রগুলো এখন ভারতের নিরাপত্তার প্রহরী? first appeared on News.

