রাজনীতির ময়দানে জয়-পরাজয় থাকবেই, কিন্তু তাই বলে নিজের দলের হেভিওয়েট নেতাদের হার নিশ্চিত করতে মন্দিরে গিয়ে পাঁঠা বলির মানত? এমনই এক অভাবনীয় ও হাড়হিম করা ঘটনার সাক্ষী থাকল জামালপুরের বুড়োরাজ মন্দির। নির্বাচনের ফলাফল প্রকাশের পর তিন হেভিওয়েট তৃণমূল নেতার নামে তিনটি পাঁঠা নিয়ে মন্দিরে হাজির হলেন জামালপুরের প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক তপন চট্টোপাধ্যায়।
নেতাদের নামে পাঁঠার নামকরণ! মন্দিরে হইচই
বুধবার দুপুরে অনুগামীদের নিয়ে মন্দিরে প্রবেশ করেন তপন চট্টোপাধ্যায়। প্রত্যক্ষদর্শীরা দেখে তাজ্জব হয়ে যান যে, তিনটি পাঁঠার গলায় ঝুলছে তিন হেভিওয়েট তৃণমূল নেতার নাম- অরূপ বিশ্বাস, স্বপন দেবনাথ এবং রবীন্দ্রনাথ চট্টোপাধ্যায়। মন্দিরের সেবাইতদের দাবি, রাজনৈতিক প্রতিহিংসা বা মানত পূরণে এমন দৃশ্য তাঁরা আগে কখনও দেখেননি।
"দল উচ্ছন্নে যাক, এটাই চেয়েছিলাম": বিস্ফোরক তপন
মন্দির প্রাঙ্গণে দাঁড়িয়ে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে রীতিমতো বোমা ফাটিয়েছেন তপন চট্টোপাধ্যায়। তিনি বলেন, "আমি মানত করেছিলাম এই তিন হেভিওয়েট প্রার্থী যেন পরাজিত হন। আজ সেই মনস্কামনা পূরণ হয়েছে, তাই পাঁঠা বলি দিতে এসেছি।" এখানেই থামেননি তিনি। তাঁর সরাসরি অভিযোগ, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে যোগসাজশ করে এই নেতারাই দলটাকে শেষ করে দিয়েছেন। এমনকি 'দলটি উচ্ছন্নে যাক'-এমনটাও চেয়েছিলেন বলে দাবি করেন তিনি।
ভবিষ্যৎ কি তবে অন্য দলে?
তৃণমূলের অন্দরে যে চরম বিবাদ চলছে, তা তপন চট্টোপাধ্যায়ের কথায় স্পষ্ট। তিনি ইঙ্গিত দিয়েছেন, খুব শীঘ্রই তিনি অন্য কোনো রাজনৈতিক দলে যোগ দিতে পারেন। যদিও সেই দলের নাম তিনি এখনই খোলসা করেননি, তবে তাঁর এই 'বলিদান' পর্ব পূর্বস্থলী ও জামালপুরের রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক শোরগোল ফেলে দিয়েছে।

