অভিনেতা তথা রাজনীতিবিদ হিরণ চট্টোপাধ্যায়ের ব্যক্তিগত জীবন এখন টলিউড থেকে রাজনীতির ময়দান-সর্বত্র চর্চার তুঙ্গে। চলতি বছরের শুরুতে বেনারসের ঘাটে ঋতিকার সঙ্গে হিরণের বিয়ের ছবি দেখে যখন নেটপাড়া তোলপাড়, ঠিক তখনই বোমা ফাটিয়েছিলেন তাঁর প্রথম স্ত্রী অনিন্দিতা চট্টোপাধ্যায়। দাবি করেছিলেন, আইনত বিচ্ছেদ না হতেই দ্বিতীয়বার গাঁটছড়া বেঁধেছেন অভিনেতা।
২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনে শ্যামপুর থেকে বিজেপির প্রার্থী হিসেবে হিরণ মনোনয়ন জমা দিতেই সেই বিতর্ক নতুন করে মাথাচাড়া দিল।
মনোনয়ন পত্রে দেখা গিয়েছে, হিরণ তাঁর স্ত্রীর নামের জায়গায় অনিন্দিতার নামই উল্লেখ করেছেন, তবে পাশে লিখেছেন ‘সেপারেটেড’ বা বিচ্ছিন্ন। আর এখানেই আইনি প্রশ্ন তুলেছেন অনিন্দিতা। তাঁর সাফ কথা, “মুখে সেপারেটেড বললেই সব হয়ে যায় না, আইনি বিচ্ছেদ বা নোটিশ ছাড়া এর কোনো মূল্য নেই।” হলফনামায় তাঁর নাম থাকাটাই প্রমাণ করে দেয় যে হিরণ এখনও আইনত তাঁরই স্বামী। ঋতিকার সঙ্গে দীর্ঘ ৫ বছরের সম্পর্কের দাবি এবং ঘটা করে বিয়ের পর মনোনয়ন পত্রে কেন ঋতিকার নাম নেই, তা নিয়েই এখন হাসাহাসি চলছে রাজনৈতিক মহলে।
আজকাল ডট ইনের সঙ্গে আলাপচারিতায় ক্ষোভ উগরে দিয়ে অনিন্দিতা বলেন, “আমাদের সমাজব্যবস্থায় অপরাধীর কিছু হয় না, ভুক্তভোগী হই আমি আর আমার মেয়ে। আইন বলছে বিবাহিত থাকা অবস্থায় অন্য কারো সাথে থাকা অপরাধ, অথচ ও দিব্যি অন্য একজনের সাথে থাকছে আবার কাগজে কলমে আমাকে স্ত্রী লিখছে।” তিনি আরও যোগ করেন, “মানসিক যন্ত্রণা ও লাঞ্ছনার কোনো ভাষা হয় না। হিরণ লিগ্যালি ম্যারেড লিখতে বাধ্য হয়েছে কারণ আইনি বিচ্ছেদ ওর হয়নি।”
অনিন্দিতা স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে তিনি মিথ্যে বলছেন না এবং তাঁর লড়াই জারি থাকবে। হিরণের এই ‘দ্বিমুখী’ আচরণের বিরুদ্ধে কি তিনি আবার আদালতের দ্বারস্থ হবেন? উত্তরে রহস্য জিইয়ে রেখে অনিন্দিতা বলেন, “আমার সব ভাবা আছে, খুব শীঘ্রই সব জানতে পারবেন।” ভোটের মুখে প্রার্থীর ব্যক্তিগত জীবনের এই টানাপোড়েন শ্যামপুরের নির্বাচনী লড়াইয়ে কতটা প্রভাব ফেলে, এখন সেটাই দেখার।

