পশ্চিমবঙ্গ সরকারের কর্মী মহলে এখন একটাই আলোচনা-সপ্তম বেতন কমিশন (7th Pay Commission)। দীর্ঘদিন ধরে কেন্দ্রের সঙ্গে রাজ্যের বেতন বৈষম্য নিয়ে অসন্তোষ দানা বেঁধেছিল। বর্তমানে রাজ্য কর্মীরা ষষ্ঠ বেতন কমিশনের কাঠামোতে বেতন পেলেও, কেন্দ্রীয় কর্মীরা ২০১৬ সাল থেকেই সপ্তম পে কমিশনের সুবিধা ভোগ করছেন।
সম্প্রতি রাজ্যে এই কমিশন গঠনের ঘোষণার পর থেকেই সরকারি কর্মচারীদের মধ্যে প্রত্যাশার পারদ চড়তে শুরু করেছে।
বেতন বৃদ্ধির অংকটা ঠিক কীরকম? কেন্দ্রীয় সপ্তম বেতন কমিশনে 'ফিটমেন্ট ফ্যাক্টর' ২.৫৭ গুণ ধরা হয়েছিল। অর্থাৎ, ষষ্ঠ পে কমিশনের বেসিক পে-কে ২.৫৭ দিয়ে গুণ করে নতুন বেসিক নির্ধারিত হয়। পশ্চিমবঙ্গের ক্ষেত্রেও যদি এই একই সূত্র প্রয়োগ করা হয়, তবে পরিবর্তন হবে নজরকাড়া। ধরা যাক, কোনো কর্মীর বর্তমান বেসিক পে ১০,০০০ টাকা; সপ্তম বেতন কমিশন কার্যকর হলে তা একলাফে বেড়ে হতে পারে প্রায় ২৫,৭০০ টাকা। বিশেষজ্ঞদের মতে, বেসিকের পাশাপাশি ডিএ (DA) এবং এইচআরএ (HRA) মিলিয়ে মোট বেতন প্রায় ২ থেকে ২.৫ গুণ পর্যন্ত বৃদ্ধি পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। অর্থাৎ, বর্তমানে ৩০,০০০ টাকা বেতন পাওয়া কর্মীর মাসিক আয় ৬০,০০০ থেকে ৭০,০০০ টাকায় পৌঁছাতে পারে।
ডিএ বৈষম্য কি মিটবে? রাজ্যের কর্মীদের দীর্ঘদিনের ক্ষোভের কারণ হলো মহার্ঘ ভাতা বা ডিএ। কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মীরা যেখানে ৫০ শতাংশের দোরগোড়ায় ডিএ পাচ্ছেন, সেখানে রাজ্যের কর্মীরা আদালতের লড়াই সত্ত্বেও এখনও অনেকটাই পিছিয়ে। নতুন বেতন কমিশন গঠিত হলে বেসিকের আমূল পরিবর্তন ঘটবে, যার সরাসরি প্রভাব পড়বে ডিএ এবং অন্যান্য ভাতার ওপর। তবে রাজ্য সরকার আর্থিক পরিস্থিতির কথা মাথায় রেখে ফিটমেন্ট ফ্যাক্টরে কোনো রদবদল করে কি না, সেটাই এখন দেখার।
যদিও সপ্তম বেতন কমিশন কার্যকর করা রাজ্যের ওপর কয়েক হাজার কোটি টাকার অতিরিক্ত আর্থিক চাপ তৈরি করবে, তবুও কর্মী সংগঠনগুলি কেন্দ্রের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে বেতন কাঠামোর দাবিতে অনড়। আপাতত সরকার কমিশন গঠনের ঘোষণা করলেও, নতুন বেতন কাঠামো ঠিক কবে থেকে পকেটে আসবে-তা নিয়ে জল্পনা তুঙ্গে।

