আগামী ৪ঠা মে মহারাষ্ট্র বিধানসভা উপনির্বাচনের হাইভোল্টেজ ফলাফল। কিন্তু সেই উত্তাপ মেটার আগেই আগামী ১২ই মে বিধান পরিষদের ৯টি আসনের নির্বাচন ঘিরে নতুন করে সরগরম মারাঠা রাজনীতি। মুখ্যমন্ত্রী একনাথ শিন্ডে তাঁর পছন্দের দুই প্রার্থী হিসেবে নীলম গোরহে এবং বাচ্চু কাডুর নাম প্রায় চূড়ান্ত করে ফেললেও, দলের ভেতরেই শুরু হয়েছে তীব্র প্রতিবাদ।
কেন নীলম গোরহেকে নিয়ে আপত্তি?
শিবসেনার বড় একটি অংশ নীলম গোরহের প্রার্থিতার ঘোর বিরোধী। দলের ক্ষুব্ধ নেতাদের দাবি:
নীলম গোরহে ইতিমধ্যেই ৪ বার বিধান পরিষদে প্রতিনিধিত্ব করেছেন।
৭১ বছর বয়সী এই নেত্রীর বিগত ২৪ বছরের কার্যকালে দলের বিশেষ কোনও শ্রীবৃদ্ধি হয়নি।
জ্যোতি ওয়াঘমারের মতো নতুন এবং অনগ্রসর মুখকে সামনে আনার যে ধারা শিন্ডে শুরু করেছেন, নীলমকে পুনরায় টিকিট দিলে সেই বার্তায় জল পড়বে।
বাচ্চু কাডুর সামনে ‘মার্জার’ শর্ত:
অন্য আসনটির জন্য শিন্ডের পছন্দ প্রাক্তন বিধায়ক বাচ্চু কাডু। কিন্তু এখানেও বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছেন দলের অন্য নেতারা। তাঁদের সাফ কথা, বাচ্চু কাডুকে যদি শিবসেনার কোটায় টিকিট নিতে হয়, তবে তাঁর নিজের দল ‘প্রহার জনশক্তি সংগঠন’-কে সম্পূর্ণভাবে শিবসেনার সঙ্গে একীভূত (Merge) করতে হবে। অন্যথা তাঁকে সমর্থন করা হবে না।
সময় কম, সিদ্ধান্ত কঠিন:
মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার শেষ তারিখ ৩০শে এপ্রিল। হাতে রয়েছে মাত্র দু-তিন দিন। শিন্ডের হাতে ৫৭ জন বিধায়ক থাকায় ২৮ ভোটের কোটা পূরণ করে এই দুটি আসন জেতা তাঁর জন্য কঠিন নয়, কিন্তু দলের অভ্যন্তরীণ কোন্দল সামলানোই এখন বড় চ্যালেঞ্জ।
শত শত কর্মী-সমর্থক যখন টিকিটের আশায় বুক বেঁধেছেন, তখন শিন্ডে কি পুরনো সেনাপতিদের ওপর ভরসা রাখবেন নাকি জ্যোতি ওয়াঘমারের মতো আবারও কোনও নতুন নাম এনে চমক দেবেন? এখন সেদিকেই তাকিয়ে গোটা মহারাষ্ট্র।

