Dailyhunt
গ্যাংস্টার হওয়ার শখ? পাঞ্জাব পুলিশের 'স্পেশাল' দাওয়াইয়ে বদলে যাচ্ছে রাজ্যের হাজার হাজার যুবক!

গ্যাংস্টার হওয়ার শখ? পাঞ্জাব পুলিশের 'স্পেশাল' দাওয়াইয়ে বদলে যাচ্ছে রাজ্যের হাজার হাজার যুবক!

Tech Infomatrix 1 week ago

পাঞ্জাবের অপরাধ জগৎ ও ড্রাগের অন্ধকার থেকে রাজ্যের ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে ছিনিয়ে আনতে এবার এক অনন্য লড়াইয়ে নেমেছে পাঞ্জাব পুলিশ। একদিকে গ্যাংস্টারদের বিরুদ্ধে চলছে সরাসরি অভিযান 'গ্যাংস্টারস তে ভার' (গ্যাংস্টারদের ওপর আঘাত), আর অন্যদিকে বিপথগামী তরুণদের মূলস্রোতে ফেরাতে শুরু হয়েছে 'যুবা সাঁজ' কর্মসূচি।

ডাণ্ডা আর ভালোবাসার এক অদ্ভূত সমন্বয়ে পাঞ্জাবকে অপরাধমুক্ত করার এই জোড়া কৌশল এখন দেশজুড়ে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে।

গ্যাংস্টারদের জাল ছিঁড়ে ফেরার লড়াই
বন্দুক সংস্কৃতি এবং মাদকাসক্তির হাতছানি থেকে পাঞ্জাবের যুবকদের দূরে রাখতেই গত জানুয়ারি মাস থেকে পুলিশের বিশেষ মহাপরিচালক গুরপ্রীত কৌর দেও-এর নেতৃত্বে এই বিশেষ অভিযান শুরু হয়েছে। পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, গত চার মাসে ৫টি বড় সংলাপ অধিবেশন করা হয়েছে এবং আগামী আট মাসে আরও ১১টি সেশন করার পরিকল্পনা রয়েছে।

দ্বিমুখী কৌশলে ধরাশায়ী অপরাধীরা
পাঞ্জাব পুলিশের ডিরেক্টর জেনারেল (ডিজিপি) গৌরব যাদব এই অভিযানের রূপরেখা সম্পর্কে বলেন, “পাঞ্জাব পুলিশ একটি ভারসাম্যপূর্ণ দ্বিমুখী কৌশল অনুসরণ করছে। অপরাধী চক্রগুলিকে ভেঙে দেওয়ার পাশাপাশি আমরা যুবকদের মনস্তাত্ত্বিক প্রোফাইলিং, পারিবারিক সম্পৃক্ততা এবং কাউন্সেলিংয়ের মাধ্যমে সঠিক পথে ফেরাচ্ছি। আমাদের উদ্দেশ্য স্পষ্ট-অপরাধের মূল উপড়ে ফেলা।”

তথ্য বলছে, এখনও পর্যন্ত ১,৪৯০ জন যুবককে সচেতন করা হয়েছে এবং ১,১০৯ জন সরাসরি কাউন্সেলিং সেশনে অংশগ্রহণ করেছেন। জেলা গোয়েন্দা ইউনিটগুলিও আলাদাভাবে প্রায় ১,৮৩৬ জন যুবককে এই প্রক্রিয়ার আওতায় নিয়ে এসেছে।

পুলিশ যখন পরামর্শদাতা
এই কর্মসূচির অধীনে প্রতিটি জেলায় পুলিশ সুপার বা ডেপুটি কমিশনার পদমর্যাদার কর্তারা একটি বিশেষ কমিটির নেতৃত্ব দিচ্ছেন। যেখানে অবসরপ্রাপ্ত পুলিশ আধিকারিক, মনোবিজ্ঞানী এবং এনজিও প্রতিনিধিরা একত্রে কাজ করছেন। বিশেষ ডিজিপি গুরপ্রীত কৌর দেও-এর মতে, “আমরা পরিস্থিতি বুঝে কঠোরতা বা নমনীয়তা-উভয়ই প্রয়োগ করছি। সময়োচিত হস্তক্ষেপ একজন যুবকের জীবনের অন্ধকার দিকটা বদলে দিতে পারে।”

চাকরি ও দক্ষতা বৃদ্ধিতে জোর
শুধুমাত্র কাউন্সেলিং করেই পুলিশ হাত গুটিয়ে বসে থাকছে না। জেলা প্রশাসন ও পাঞ্জাব স্কিল ডেভেলপমেন্ট মিশনের সহযোগিতায় এই যুবকদের দক্ষতা উন্নয়ন, কর্মসংস্থান এবং প্রয়োজনে আর্থিক সহায়তাও দেওয়া হচ্ছে। ফাজিলকার এসএসপি গুরমিত সিং জানান, এই উদ্যোগের ফলে তৃণমূল স্তরে অপরাধের হার উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে এবং রাজ্যের যুবকদের মধ্যে সমাজবিরোধী শক্তির সাথে মেলামেশা করার প্রবণতা হ্রাস পেয়েছে।

পাঞ্জাব পুলিশের এই মানবিক ও কঠোর-উভয় রূপের মেলবন্ধন আজ দেশের অন্য রাজ্যগুলির কাছেও একটি পথপ্রদর্শক হয়ে দাঁড়িয়েছে। বন্ধুক ছেড়ে পাঞ্জাবের তরুণরা এখন স্বনির্ভরতার পথে হাঁটার স্বপ্ন দেখছে।

Dailyhunt
Disclaimer: This content has not been generated, created or edited by Dailyhunt. Publisher: Tech Infomatrix