ভোটের ময়দানে লড়াই হয় সেয়ানে সেয়ানে। কিন্তু জয়-পরাজয়ের ব্যবধান যদি হয় মাত্র একটি ভোট, তবে তাকে অলৌকিক বললেও কম বলা হয়। সাম্প্রতিক বিধানসভা নির্বাচনে ঠিক এমন এক রুদ্ধশ্বাস ঘটনার সাক্ষী থাকল রাজনৈতিক মহল। মাত্র এক ভোটের ব্যবধানে জিতে বিধায়ক নির্বাচিত হলেন এক দাপুটে নেতা।
নির্বাচন কমিশন সূত্রে খবর, ফল ঘোষণার শুরু থেকেই দুই প্রার্থীর মধ্যে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই চলছিল।
একবার একজন এগিয়ে যাচ্ছিলেন তো পরক্ষণেই অন্যজন। গণনার শেষ রাউন্ডে গিয়ে দেখা যায়, নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বীকে মাত্র এক ভোটের ব্যবধানে হারিয়ে দিয়েছেন জয়ী প্রার্থী।
এই সামান্য ব্যবধান দেখে স্বাভাবিকভাবেই পরাজিত প্রার্থীর পক্ষ থেকে কারচুপির অভিযোগ তোলা হয় এবং পুনর্গণনার দাবি জানানো হয়। উত্তেজনার পারদ চড়তে থাকায় জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে পুনরায় ভোট গণনার নির্দেশ দেওয়া হয়। অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে নির্বাচন আধিকারিকদের উপস্থিতিতে একাধিকবার ভোট গণনা করা হলেও ফলাফলে কোনো পরিবর্তন আসেনি। প্রতিবারই সেই 'এক ভোট'-এর ব্যবধান বজায় থাকে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই জয় প্রমাণ করে দেয় যে গণতন্ত্রে প্রতিটি ভোটের গুরুত্ব কতটা অপরিসীম। একটিমাত্র ভোট যে আস্ত একটা সরকারের ভাগ্য বদলে দিতে পারে বা কোনো নেতার রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করতে পারে, এই ঘটনা তারই জীবন্ত উদাহরণ।
গণনার শেষে জয়ী প্রার্থী আবেগঘন কণ্ঠে জানান, “জনগণের প্রতিটি রায় মাথা পেতে নিচ্ছি। এই একটি ভোটের ব্যবধান আমাকে মনে করিয়ে দিচ্ছে যে মানুষের কত বড় প্রত্যাশা আমার ওপর রয়েছে।” অন্যদিকে, পরাজয় নিশ্চিত হওয়ার পর এলাকায় থমথমে পরিবেশ বিরাজ করলেও নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করেছে পুলিশ প্রশাসন।
এক ভোটের এই অবিশ্বাস্য ব্যবধান এখন গোটা দেশের রাজনীতির চর্চার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। সোশ্যাল মিডিয়াতেও নেটিজেনরা বলছেন, “ভোট দিতে যাওয়ার অলসতা করলে যে কী মাসুল দিতে হয়, এই ফল তার প্রমাণ।”

