বাংলায় নতুন সরকারের শপথের প্রাক্কালে ঘটে গেল সবথেকে বড় রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ড। বুধবার রাতে মধ্যমগ্রামের দোহাড়িয়ার কাছে পয়েন্ট ব্ল্যাঙ্ক রেঞ্জ থেকে গুলি করে ঝাঁঝরা করে দেওয়া হল বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর দীর্ঘদিনের আপ্তসহায়ক চন্দ্রনাথ রথকে। ঘাতকদের অব্যর্থ নিশানায় হার্ট ফুটো হয়ে ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারান প্রাক্তন এই বায়ুসেনা কর্মী।
এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ধরণ দেখে রীতিমতো স্তম্ভিত গোয়েন্দা বিভাগ।
পেশাদার খুনি ও ‘গ্লক ৪৭ এক্স’ পিস্তলের হদিশ?
তদন্তে নেমে পুলিশের হাতে উঠে এসেছে এক হাড়হিম করা তথ্য। প্রাথমিক ফরেন্সিক রিপোর্ট অনুযায়ী, চন্দ্রনাথকে খুন করতে সম্ভবত 'গ্লক ৪৭ এক্স' (Glock 47X) নামক অত্যাধুনিক আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহার করা হয়েছে। তদন্তকারীরা জানিয়েছেন, এই ধরনের অস্ত্র সাধারণ কোনো অপরাধীর হাতে থাকে না। এর থেকে স্পষ্ট যে, কোনো পেশাদার শ্যুটার বা প্রফেশনাল কিলার গ্রুপকে এই কাজের জন্য সুপারি দেওয়া হয়েছিল। হামলাকারীরা হেলমেট পরে নম্বরপ্লেটহীন গাড়িতে এসে অপারেশন চালিয়ে চম্পট দেয়।
টার্গেট কিলিং: ৩টি বুলেট ও হার্ট ফুটো
পুলিশি সূত্রের খবর, হামলার সময় অন্তত ৬ থেকে ১০ রাউন্ড গুলি চালানো হয়েছিল। তবে মৃত্যু নিশ্চিত করতে চন্দ্রনাথের একদম কাছে গিয়ে পয়েন্ট ব্ল্যাঙ্ক রেঞ্জ থেকে ৩টি গুলি করা হয়। যার মধ্যে দুটি গুলি সরাসরি তাঁর বুকের বাঁ দিকে লাগে এবং একটি পেটে। একটি বুলেট তাঁর হার্ট বা হৃদপিণ্ড এফোঁড়-ওফোঁড় করে দেয়। বাড়ির মাত্র ১০০ থেকে ১৫০ মিটারের মধ্যে এমন অতর্কিত হামলায় হতভম্ব এলাকা।
শুভেন্দুর বিস্ফোরক দাবি: 'তিন দিন ধরে রেইকি'
প্রিয় ছায়াসঙ্গীর নিথর দেহের সামনে দাঁড়িয়ে সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হন শুভেন্দু অধিকারী। পাশে ছিলেন কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রী সুকান্ত মজুমদার। শুভেন্দু অভিযোগ করেন, "এটি কোনো আকস্মিক ঘটনা নয়। গত কয়েক দিন ধরে খুনিরা চন্দ্রনাথের ওপর রেইকি চালিয়েছিল। এটি একটি সুপরিকল্পিত এবং ঠান্ডা মাথার খুন।" তিনি আরও বলেন, "১৫ বছরের জঙ্গলরাজ চলছে বাংলায়। বুধবারই খড়দহে বোমা আর বসিরহাটে গুলি চলেছে। বিজেপি কর্মীদের ওপর বেছে বেছে আক্রমণ করা হচ্ছে।"
ইতিমধ্যেই পুলিশ বেশ কিছু সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করেছে। ঘাতকদের ব্যবহৃত গাড়ির গতিবিধি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এক বীর সেনানী তথা নেতার বিশ্বস্ত সহযোদ্ধার এমন পরিণতিতে এখন উত্তাল রাজ্য রাজনীতি।

