Dailyhunt Logo
  • Light mode
    Follow system
    Dark mode
    • Play Story
    • App Story
জইশ ও আইএসআই যোগে তরুণী সহ গ্রেফতার ২! বাংলার কলেজ পড়ুয়াদের টার্গেট করে ভয়ংকর উগ্রপন্থী চক্রান্তের পর্দাফাঁস এনআইএ-র

জইশ ও আইএসআই যোগে তরুণী সহ গ্রেফতার ২! বাংলার কলেজ পড়ুয়াদের টার্গেট করে ভয়ংকর উগ্রপন্থী চক্রান্তের পর্দাফাঁস এনআইএ-র

Tech Infomatrix 1 week ago

ভারতের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে পুরোপুরি নাড়িয়ে দেওয়ার মতো এক গভীর ও ভয়ঙ্কর ষড়যন্ত্রের পর্দাফাঁস করল কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা ন্যাশনাল ইনভেস্টিগেশন এজেন্সি (NIA) এবং রাজ্য পুলিশের স্পেশ্যাল টাস্ক ফোর্স (STF)। নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠন জইশ-ই-মহম্মদ (JeM) এবং পাকিস্তানি গুপ্তচর সংস্থা আইএসআই (ISI) -এর সঙ্গে গভীর যোগাযোগের অভিযোগে সম্প্রতি গ্রেফতার করা হয়েছে হামিম মণ্ডল এবং তার বান্ধবী অর্পিতা সরকারকে । তাঁদের লাগাতার ম্যারাথন জেরা করে তদন্তকারীদের হাতে একের পর এক চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে আসছে, যা গোয়েন্দাদের কপালে গভীর চিন্তার ভাঁজ ফেলেছে।

প্রাথমিক তদন্তে গোয়েন্দারা নিশ্চিত হয়েছেন যে, বাংলার নতুন প্রজন্ম এবং কলেজপড়ুয়াদের বিশেষভাবে লক্ষ্য করে একটি অত্যন্ত সুসংগঠিত 'র‌্যাডিক্যালাইজেশন নেটওয়ার্ক' বা উগ্রপন্থী করণের জাল বিছানোর চেষ্টা চালাচ্ছিল এই চক্র।

Gen-Z প্রজন্মকে টার্গেট করে উগ্রপন্থার জাল

তদন্তকারী সূত্রে প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী, এই পুরো আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্রের অন্যতম মূলহোতা ও ধৃতদের ঘনিষ্ঠ সহযোগী আদিত্য সিংকে সরাসরি পাকিস্তান থেকে সুনির্দিষ্ট অ্যাসাইনমেন্ট বা নির্দেশ পাঠানো হতো। এই মডিউলের মূল লক্ষ্য ছিল জেনারেশন-জেড (Gen-Z) প্রজন্মের তরুণ-তরুণীদের মানসিকতাকে প্রভাবিত করা এবং তাদের বিভ্রান্ত করা। কলকাতা সহ রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তের নামী কলেজের ছাত্রছাত্রী, বিশেষ করে তরুণীদের সুকৌশলে টার্গেট করে সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে অনলাইনে যোগাযোগ বাড়ানোর গুরুদায়িত্ব ছিল এই চক্রের হাতে।

তদন্তকারীদের বিস্ফোরক দাবি, কেন্দ্রীয় সরকারকে রাজনৈতিক ও সামাজিকভাবে হেয় প্রতিপন্ন করা, দেশের বিরুদ্ধে ব্যাপক অপপ্রচার চালানো এবং সুচতুর ধাপে ধাপে যুব সম্প্রদায়ের একটি সংবেদনশীল অংশকে উগ্রপন্থার অন্ধকার জগতের দিকে ঠেলে দেওয়াই ছিল এই গোপন নেটওয়ার্কের একমাত্র উদ্দেশ্য।

হাওয়ালা চক্রের মাধ্যমে বিপুল আর্থিক লেনদেন

শুধু আদর্শগত ব্রেনওয়াশ বা প্রচার চালিয়েই ক্ষান্ত ছিল না এই চক্র, এর নেপথ্যে কাজ করছিল বিশাল অঙ্কের আর্থিক লেনদেন। গোয়েন্দাদের দাবি, আদিত্য সিংয়ের কাছে পাকিস্তান থেকে সম্পূর্ণ অবৈধ হাওয়ালা চক্রের মাধ্যমে নিয়মিত বিপুল পরিমাণ অর্থ এসে পৌঁছত। একাধিক বেনামী ও সন্দেহজনক ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করে সেই কালো টাকা অত্যন্ত সুচারুভাবে বিভিন্ন স্তরে স্থানান্তর করা হতো। ঠিক কোন কোন পথে এই অর্থ ব্যবহার করা হতো এবং এই নাশকতামূলক নেটওয়ার্কের সঙ্গে আর ঠিক কারা প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে যুক্ত রয়েছে, তা এখন নিবিড়ভাবে খতিয়ে দেখছেন এনআইএ এবং এসটিএফের চৌকস গোয়েন্দারা।

গ্রেফতারি ও পরবর্তী পদক্ষেপ

হামিম মণ্ডল ও অর্পিতা সরকারকে মুখোমুখি বসিয়ে লাগাতার জেরা করার ফলে ইতিমধ্যেই আরও বেশ কয়েকজন সন্দেহভাজন ব্যক্তির হদিশ পেয়েছেন তদন্তকারীরা। তবে স্পর্শকাতর এই মামলার তদন্তের স্বার্থে এবং নিরাপত্তার খাতিরে সেই সমস্ত অভিযুক্তদের পরিচয় এই মুহূর্তে প্রকাশ্যে আনতে নারাজ তদন্তকারী আধিকারিকেরা।

মূলত বর্ধমানের রেনেসাঁ হাউজিং চত্বর থেকে গ্রেফতার হওয়া হামিমের সঙ্গে জইশ-ই-মহম্মদের গভীর যোগাযোগের জোরালো প্রমাণ মিলেছে। তার কাছ থেকে উদ্ধার হওয়া বহুমূল্য ডিজিটাল ডিভাইস, ল্যাপটপ, মোবাইল ফোন এবং হোয়াটসঅ্যাপ চ্যাট পুঙ্খানুপুঙ্খ বিশ্লেষণ করেই ঝাড়খণ্ডের সাহেবগঞ্জ এলাকা থেকে তার ঘনিষ্ঠ সহযোগী অর্পিতা সরকারকে পাকড়াও করা হয়। গোটা নেটওয়ার্কের সুদূর প্রসারী বিস্তার, অর্থের নির্দিষ্ট উৎস এবং সম্ভাব্য রিক্রুটমেন্ট বা লোক নিয়োগ চক্রের সম্পূর্ণ পরিধি উন্মোচন করতে এখন দেশের শীর্ষ গোয়েন্দা সংস্থাগুলি একযোগে চিরুনি তল্লাশি অভিযান চালাচ্ছে।

The post জইশ ও আইএসআই যোগে তরুণী সহ গ্রেফতার ২! বাংলার কলেজ পড়ুয়াদের টার্গেট করে ভয়ংকর উগ্রপন্থী চক্রান্তের পর্দাফাঁস এনআইএ-র first appeared on News.

Dailyhunt
Disclaimer: This content has not been generated, created or edited by Dailyhunt. Publisher: Tech Infomatrix