বিশ্বজুড়ে পরিবেশবান্ধব জ্বালানির চাহিদা বাড়ছে। এই দৌড়ে ভারতকে অনেক আগেই টেক্কা দিতে প্রস্তুত ইন্দোনেশিয়া। সম্প্রতি তারা তাদের ডিজেলে ৫০ শতাংশ পাম তেল-ভিত্তিক বায়োডিজেল (B50) মেশানো বাধ্যতামূলক করেছে, যা বিশ্ববাজারে এক বড় আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
বি৫০-এর লক্ষ্য কী? ইন্দোনেশিয়া সরকারের মূল লক্ষ্য হলো আমদানিকৃত অপরিশোধিত তেলের ওপর নির্ভরতা কমানো এবং দেশের কৃষকদের উৎপাদিত পাম তেলের সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করা।
বিশেষজ্ঞদের অনুমান, বি৫০ কর্মসূচিটি পুরোপুরি সফল হলে জ্বালানি আমদানি বাবদ দেশটির প্রায় ১৫৭.২৮ ট্রিলিয়ন ইন্দোনেশীয় রুপীয়াহ সাশ্রয় হবে। এই সিদ্ধান্তের ফলে সরকারের জ্বালানি ভর্তুকির বোঝাও অনেকটাই কমবে।
নতুন নিয়ম ও চ্যালেঞ্জ: নতুন বিধিমালা অনুযায়ী, তেল কোম্পানিগুলোকে আরও উন্নতমানের পাম-ভিত্তিক বায়োডিজেল তৈরি করতে হবে। তবে হঠাৎ এই নীতি পরিবর্তনের ফলে কিছুটা অনিশ্চয়তাও তৈরি হয়েছে। নতুন সরবরাহ ও বিতরণ কোটা চূড়ান্ত না হওয়ায় বাজারে সাময়িক চাপ সৃষ্টি হয়েছে। তাই সরকার পরিস্থিতি সামাল দিতে পুরনো বি৪০ মজুত দ্রুত শেষ করার অনুমতি দিয়েছে।
অর্থনৈতিক ও পরিবেশগত প্রভাব:
সাশ্রয়ী পদক্ষেপ: আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দামের ওঠানামার প্রভাব থেকে বাঁচতে এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে ইন্দোনেশিয়া। যদিও বর্তমানে আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম কিছুটা কমেছে, তবুও দীর্ঘমেয়াদী জ্বালানি সুরক্ষায় বায়োডিজেলের ওপরই ভরসা রাখছে দেশটি।
কৃষক ও বাজারের ওপর প্রভাব: অভ্যন্তরীণ পাম তেলের চাহিদা বৃদ্ধির ফলে দাম কিছুটা বাড়লেও, এটি দেশের গ্রামীণ অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
পরিবেশবান্ধব: জীবাশ্ম জ্বালানির তুলনায় বায়োডিজেল পরিবেশের জন্য অনেক বেশি সহায়ক, যা কার্বন নির্গমন কমাতে সাহায্য করবে।
ভারতে যেমন ই২০ (পেট্রোলে ২০% ইথানল মিশ্রণ) নিয়ে কাজ চলছে, ইন্দোনেশিয়ার এই বি৫০ মডেলটি জ্বালানি জগতে এক বৈপ্লবিক পরিবর্তন হিসেবে দেখা হচ্ছে। সফল হলে, ইন্দোনেশিয়ার এই উদ্যোগ ভবিষ্যতে বিশ্বের অন্যান্য দেশের কাছেও জ্বালানি স্বনির্ভরতার একটি রোল মডেল হয়ে উঠতে পারে।
The post জ্বালানি আমদানির দিন শেষ! ডিজেলে ৫০% পাম তেল মেশানো বাধ্যতামূলক করল ইন্দোনেশিয়া first appeared on News.

