দক্ষিণ লেবাননের খ্রিস্টান অধ্যুষিত গ্রামগুলো সুরক্ষার খাতিরে ইসরায়েলের অংশ হতে আগ্রহী-ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর এই দাবি ঘিরে শুরু হয়েছে তীব্র বিতর্ক। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম 'ফক্স নিউজ'-এর একটি অনুষ্ঠানে এই বিস্ফোরক মন্তব্য করেন তিনি। তবে নেতানিয়াহুর এই দাবিকে সরাসরি অস্বীকার করে নিজেদের লেবানিজ পরিচয় ও সার্বভৌমত্বের ওপর অবিচল থাকার বার্তা দিয়েছে গ্রামবাসী।
বিতর্কের সূত্রপাত: নেতানিয়াহুর দাবি, হিযবুল্লাহর চরমপন্থী কর্মকাণ্ড থেকে বাঁচতে দক্ষিণ লেবাননের কিছু গ্রাম ইসরায়েলের অন্তর্ভুক্ত হওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেছে। যদিও তিনি কোনো নির্দিষ্ট গ্রামের নাম উল্লেখ করেননি। এর পরিপ্রেক্ষিতেই মার্জেইউন (Marjeyoun) এলাকার বাসিন্দারা একটি যৌথ বিবৃতি জারি করে জানান, অন্য কোনো রাষ্ট্রে যোগ দেওয়ার মতো কোনো আইনি ক্ষমতা বা ইচ্ছা তাঁদের নেই। তাঁরা লেবাননের পতাকা এবং নিজেদের মাতৃভূমির প্রতি পুরোপুরি অনুগত।
সামরিক উপস্থিতিতে অনড় ইসরায়েল: বর্তমানে দক্ষিণ লেবাননের সীমান্তবর্তী এলাকাগুলোতে ইসরায়েলি সেনার বড়সড় নিয়ন্ত্রণ রয়েছে। হিযবুল্লাহর ক্রমাগত রকেট হামলার জবাবে ইসরায়েলি বাহিনী সেখানে পাল্টা বিমান হামলা ও স্থল অভিযান চালিয়েছে। যুদ্ধের ভয়াবহতায় অনেক গ্রাম ক্ষতিগ্রস্ত হলেও, অনেকে নিজেদের ভিটেমাটি, গির্জা ও খেত রক্ষায় সেখানেই টিকে থাকার লড়াই করছেন। ইসরায়েলি বাহিনীর পক্ষ থেকে অনেক খ্রিস্টান গ্রামের মেয়রের কাছে বার্তা পৌঁছে দেওয়া হয়েছিল যাতে কোনো হিযবুল্লাহ যোদ্ধাকে গ্রামে আশ্রয় দেওয়া না হয়।
নেতানিয়াহু সাফ জানিয়েছেন, উত্তর ইসরায়েলের নাগরিকদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনে অনির্দিষ্টকাল দক্ষিণ লেবাননে সেনা মোতায়েন থাকবে। একদিকে লেবানন-ইসরায়েল সীমান্ত সংঘাত, অন্যদিকে এই নতুন রাজনৈতিক বিতর্ক গোটা মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে।
The post লেবাননের খ্রিস্টান গ্রাম নিয়ে বিস্ফোরক দাবি নেতানিয়াহুর! সত্যতা নিয়ে প্রশ্ন তুলল সংশ্লিষ্ট এলাকা first appeared on News.

