বাংলার মসনদে পরিবর্তনের সুর বাজলেও থামছে না রক্তক্ষয়ী রাজনীতি। এবার খোদ বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর অত্যন্ত বিশ্বস্ত এবং দীর্ঘ পাঁচ বছরের ছায়াসঙ্গী চন্দ্রনাথ রথকে পয়েন্ট ব্ল্যাঙ্ক রেঞ্জ থেকে গুলি করে খুন করল একদল দুষ্কৃতী। বুধবার রাতে মধ্যমগ্রামের দোহাড়িয়া এলাকায় এই নারকীয় হত্যাকাণ্ডের পর রণক্ষেত্রের চেহারা নিয়েছে উত্তর ২৪ পরগণা।
গাড়ি আটকে 'টার্গেট কিলিং'
স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে খবর, বুধবার রাতে নিজের গাড়িতে চড়ে দোহাড়িয়া লেনের ভেতরে ঢুকছিলেন চন্দ্রনাথ। তাঁর সঙ্গে গাড়িতে ছিলেন বুদ্ধদেব বেরা নামে আরও এক যুবক। অভিযোগ, ঠিক সেই সময় একটি চারচাকা গাড়ি উল্টো দিক থেকে এসে তাঁদের রাস্তা আটকে দেয়। গাড়িটি থামতেই হেলমেট পরা একদল দুষ্কৃতী বাইকে করে এসে চন্দ্রনাথের জানলার কাঁচ লক্ষ্য করে এলোপাথাড়ি গুলিবৃষ্টি শুরু করে।
তদন্তকারীদের দাবি, চন্দ্রনাথের মৃত্যু নিশ্চিত করতে তাঁর মাথায় পর পর তিনটি গুলি চালানো হয়েছে। রক্তাক্ত অবস্থায় দু'জনকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসকরা চন্দ্রনাথকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। তাঁর সঙ্গী বুদ্ধদেব বর্তমানে চিকিৎসাধীন।
"আর সহ্য করা হবে না": গর্জে উঠলেন দিলীপ
চন্দ্রনাথের এই মর্মান্তিক মৃত্যুতে রাজ্য সরকারের ওপর তীব্র আক্রমণ শানিয়েছেন বিজেপি নেতা দিলীপ ঘোষ। তিনি বলেন, "১৫ বছর ধরে আমরা অত্যাচার সহ্য করেছি, আর নয়। গুলি-বন্দুকের এই সংস্কৃতি আমরাই বন্ধ করব। বিজেপি সারা ভারতে জিতছে, কোথাও এমন লুট বা মারধর হয় না। অথচ এখানে শান্তিতে রাজনীতি করার উপায় নেই।"
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে নিশানা করে তিনি আরও বলেন, "যিনি পুলিশমন্ত্রী ছিলেন, তিনি ড্রামা করতে ব্যস্ত। গুন্ডাদের রাজনীতিতে নিয়ে আসার ফল আজ সকলকে ভুগতে হচ্ছে। মানুষের সুরক্ষা কে দেবে?"
শুভেন্দুর ঘর লক্ষ্য করেই কি হামলা?
বিগত পাঁচ বছর ধরে শুভেন্দু অধিকারীর প্রতিটি পদক্ষেপে পাশে থাকতেন চন্দ্রনাথ। বিরোধী দলনেতার ব্যক্তিগত থেকে রাজনৈতিক-সব কাজের প্রধান তদারককারী ছিলেন তিনি। রাজনৈতিক মহলের মতে, শুভেন্দুর প্রধান শক্তিকে দুর্বল করতেই এই 'কোল্ড ব্লাডেড মার্ডার' ঘটানো হয়েছে। অর্জুন সিংয়ের দাবি, "তৃণমূল ছাড়া এই কাজ আর কেউ করতে পারে না। চন্দ্রনাথের কোনো ব্যক্তিগত শত্রু ছিল না।"
ইতিমধ্যেই খড়দহ ও মধ্যমগ্রাম থানার পুলিশ সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখে ঘাতকদের শনাক্ত করার চেষ্টা করছে। তবে শপথের প্রাক্কালে এই হাই-প্রোফাইল খুনের ঘটনায় রাজ্যজুড়ে ব্যাপক উত্তেজনা ছড়িয়েছে।

