পশ্চিম এশিয়ায় সাম্প্রতিক অস্থিরতা ও ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনার মধ্যেও ভারতীয় কৃষকদের চিন্তার কোনো কারণ নেই। কেন্দ্রীয় রাসায়নিক ও সার মন্ত্রক রবিবার আশ্বস্ত করেছে যে, দেশে ইউরিয়া এবং ডিএপি (DAP) সারের সরবরাহ সম্পূর্ণ স্বাভাবিক রয়েছে এবং কৃষকদের প্রয়োজনে পর্যাপ্ত মজুত রয়েছে।
নিরাপদে আসছে সারবাহী জাহাজ: মন্ত্রকের তথ্য অনুযায়ী, পশ্চিম এশিয়ার সংঘাতময় পরিস্থিতির মধ্যেও ভারত তাদের সার ও কাঁচামাল বহনকারী জাহাজগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করেছে।
বর্তমানে ২০টি সারবাহী জাহাজের মধ্যে ১৫টি জাহাজ ইতিমধ্যেই হরমুজ প্রণালী নিরাপদে অতিক্রম করেছে এবং ভারতীয় বন্দরগুলোর পথে রয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে ৩.৩২ লক্ষ টন ইউরিয়া এবং ২.৫৭ লক্ষ টন ডিএপি। আগামী দিনে আরও পাঁচটি জাহাজ আমদানিকৃত সার নিয়ে পৌঁছাবে বলে আশা করা হচ্ছে।
উৎপাদন ও আমদানিতে জোর: সংকট মোকাবিলায় সরকার ওমান, মালয়েশিয়া, রাশিয়া, মিশর, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রসহ বিভিন্ন দেশ থেকে সার সংগ্রহের বিশেষ কৌশল গ্রহণ করেছিল। এর পাশাপাশি দেশীয় কারখানায় উৎপাদন বৃদ্ধিতেও জোর দেওয়া হয়েছে।
উৎপাদন চিত্র: ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রথম ত্রৈমাসিকে ইউরিয়া উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা (৬.৭৮৬ মিলিয়ন টন) ছাড়িয়ে ৭.১৫৫ মিলিয়ন টনে পৌঁছেছে। ডিএপি উৎপাদনও লক্ষ্যমাত্রা অতিক্রম করে ৯.৮৪ মিলিয়ন টনে দাঁড়িয়েছে।
মজুত পরিস্থিতি: বর্তমানে ভারতের বার্ষিক চাহিদার তুলনায় প্রায় ৫১ শতাংশেরও বেশি সার (১৯.৭৫৬ মিলিয়ন টন) ইতিমধ্যেই মজুত করা হয়েছে।
মন্ত্রীর বার্তা: কেন্দ্রীয় রাসায়নিক ও সার মন্ত্রী জে.পি. নাড্ডা জানিয়েছেন যে, আন্তর্জাতিক সরবরাহ শৃঙ্খলে বাধা সৃষ্টি হলেও সরকার সময়োচিত পরিকল্পনার মাধ্যমে কৃষকদের স্বার্থ রক্ষা করেছে। সারের কারখানাগুলোতে প্রাকৃতিক গ্যাসের সরবরাহ স্বাভাবিক থাকায় উৎপাদন পূর্ণ সক্ষমতায় চলছে। ফলে, সারা দেশে কৃষকদের কাছে সময়মতো সারের সরবরাহ নিশ্চিত করতে সরকার বদ্ধপরিকর।
The post পশ্চিম এশিয়ার উত্তেজনার প্রভাব পড়বে না ভারতে! সার সরবরাহ নিয়ে এল বড় ঘোষণা first appeared on News.

