পশ্চিম এশিয়ার আকাশ থেকে যুদ্ধের মেঘ সরতে না সরতেই কূটনৈতিক তৎপরতা শুরু করল ভারত। টানা ৪০ দিনের রক্তক্ষয়ী সংঘাতের পর যুদ্ধবিরতি ঘোষণা হতেই সংযুক্ত আরব আমিরাত (UAE) সফরে যাচ্ছেন বিদেশমন্ত্রী ড. এস জয়শঙ্কর। আগামী ৯ এপ্রিল থেকে ১২ এপ্রিল পর্যন্ত এই হাই-ভোল্টেজ সফর চলবে। যুদ্ধ পরবর্তী পরিস্থিতিতে পশ্চিম এশিয়ায় কোনো ভারতীয় শীর্ষ নেতার এটাই প্রথম সফর, যা আন্তর্জাতিক মহলে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।
সফরসূচি ও মরিশাস কানেকশন
বিদেশমন্ত্রক সূত্রে খবর, জয়শঙ্কর সরাসরি আবুধাবি যাচ্ছেন না। তাঁর সফরের প্রথম গন্তব্য মরিশাস। সেখানে তিনি 'ইন্ডিয়ান ওশান কনফারেন্স'-এ যোগ দেবেন। ভারত মহাসাগরীয় অঞ্চলের নিরাপত্তা, জলবায়ু পরিবর্তন এবং সমুদ্রীয় সহযোগিতা নিয়ে আলোচনার পর তিনি সরাসরি রওনা দেবেন ইউএই-এর উদ্দেশ্যে।
আবুধাবিতে নজরে জ্বালানি নিরাপত্তা
আবুধাবিতে জয়শঙ্করের প্রধান সঙ্গী হবেন ইউএই-এর বিদেশমন্ত্রী শেখ আবদুল্লাহ বিন জায়েদ আল নাহিয়ান। দুই নেতার বৈঠকে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য ও বিনিয়োগের পাশাপাশি সবথেকে বেশি গুরুত্ব পাবে 'জ্বালানি নিরাপত্তা'। যুদ্ধের কারণে হরমুজ প্রণালী দিয়ে তেল পরিবহন ব্যাহত হওয়ায় ভারতের মতো আমদানিকারক দেশগুলো প্রবল উদ্বেগের মধ্যে ছিল। ইউএই ভারতের অন্যতম প্রধান তেল সরবরাহকারী দেশ। তাই যুদ্ধবিরতির পর পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে এবং নিরবচ্ছিন্ন জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করতেই এই 'সময়োপযোগী' সফর।
মধ্যপ্রাচ্যে ভারতের সক্রিয় ভূমিকা
যুদ্ধ চলাকালীন জয়শঙ্কর টেলিফোনে ইরান, কাতার ও ইউএই-এর নেতাদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখতেন। হরমুজ প্রণালী নিয়ে ভারতের উদ্বেগের কথা তিনি বারবার স্পষ্ট করেছিলেন। এখন যুদ্ধ থেমে যাওয়ায় ভারত ওই অঞ্চলে স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে সক্রিয় ভূমিকা নিতে চাইছে। দুই দেশের কৌশলগত অংশীদারিত্ব এবং ইউএই-তে কর্মরত লক্ষ লক্ষ ভারতীয় প্রবাসীর স্বার্থ রক্ষাও এই সফরের অন্যতম প্রধান এজেন্ডা। জয়শঙ্করের এই সফর কার্যত বার্তা দিচ্ছে যে, পশ্চিম এশিয়ায় শান্তি ও অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারে ভারত এক নির্ভরযোগ্য সঙ্গী।

