সংকটে হরমুজ়: ভারত ও বিশ্বের ওপর প্রভাব ১. ভারতের দুশ্চিন্তা: আটকে তেলের জাহাজ
জাহাজ মন্ত্রক সূত্রে খবর, হরমুজ় প্রণালীতে ভারতের অন্তত ১০টির বেশি তেলবাহী জাহাজ আটকে রয়েছে। বুধবার থেকে এই জলপথে কোনও জাহাজ চলাচল করেনি। ভারত তার প্রয়োজনীয় খনিজ তেলের সিংহভাগ এই পথ দিয়েই আমদানি করে।
ফলে দীর্ঘ সময় এই অবরোধ চললে ভারতে জ্বালানি তেল এবং রান্নার গ্যাসের (LPG) তীব্র সংকট দেখা দিতে পারে। ইরান ভারতের জন্য আলাদা কোনও ছাড় দেবে কি না, তা নিয়ে এখনও ধোঁয়াশা বজায় রয়েছে।
২. ট্রাম্পের নতুন দাবি বনাম ইরানের প্রতিরক্ষা
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এক চাঞ্চল্যকর দাবি তুলেছেন। তাঁর মতে, জাহাজগুলির নিরাপদ চলাচলের স্বার্থে হরমুজ়ের ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণ করবে আমেরিকা। অন্যদিকে, ইরান ও ওমান যৌথভাবে এই পথে চলাচলকারী জাহাজগুলির ওপর টোল বা কর বসানোর সিদ্ধান্তে অনড়। বর্তমানে ইরান সেনার সশস্ত্র ঘেরাটোপে রয়েছে এই প্রণালী, যার ফলে সংঘাতের সম্ভাবনা আরও তীব্র হয়েছে।
৩. যুদ্ধবিরতির ভবিষ্যৎ ও ইজ়রায়েলি হানা
২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া ইরান-আমেরিকা সংঘাতের ৪০ দিনের মাথায় যে দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করা হয়েছিল, তা এখন খাদের কিনারে। ইরানের দাবি, ইজ়রায়েল মাত্র ১০ মিনিটে লেবাননে ১০০টিরও বেশি বিমান হামলা চালিয়েছে, যা যুদ্ধবিরতির শর্ত লঙ্ঘন। এর পাল্টা হিসেবেই হরমুজ় বন্ধ করার কড়া পদক্ষেপ নিয়েছে তেহরান।
৪. বিশ্ব বাজারে অস্থিরতা
গতকাল হরমুজ় খোলার খবরে তেলের দাম কমলেও, আজ পুনরায় বন্ধ হওয়ার খবরে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম ফের আকাশছোঁয়া হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। শেয়ার বাজারেও এর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে শুরু করেছে।
ভবিষ্যৎ কী?
আগামী ১০ এপ্রিল পাকিস্তান বা অন্য কোনও নিরপেক্ষ স্থানে ইরান-আমেরিকা শান্তি চুক্তির যে আলোচনা হওয়ার কথা ছিল, তা নিয়ে এখন ঘোর অনিশ্চয়তা। ট্রাম্পের মধ্যস্থতা কতটা সফল হবে তা নির্ভর করছে ইজ়রায়েলের পরবর্তী পদক্ষেপ এবং ইরানের টোল আদায়ের দাবির ওপর। ভারত আপাতত কূটনৈতিক স্তরে তেহরানের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করছে যাতে অন্তত খাদ্য ও জ্বালানি সরবরাহের জাহাজগুলিকে ছাড় দেওয়া হয়।

