Dailyhunt
প্রধান বিচারপতি বাদ কেন? মোদী সরকারের নির্বাচন কমিশনার নিয়োগ আইন নিয়ে তোলপাড় সুপ্রিম কোর্ট!

প্রধান বিচারপতি বাদ কেন? মোদী সরকারের নির্বাচন কমিশনার নিয়োগ আইন নিয়ে তোলপাড় সুপ্রিম কোর্ট!

Tech Infomatrix 4 days ago

দেশের নির্বাচন কমিশনার নিয়োগ প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা নিয়ে ফের কাঠগড়ায় কেন্দ্র। নিয়োগ কমিটি থেকে ভারতের প্রধান বিচারপতিকে (CJI) বাদ দেওয়া সংক্রান্ত বিতর্কিত আইনের বৈধতা নিয়ে বুধবার সুপ্রিম কোর্টে শুরু হল হাইভোল্টেজ শুনানি। কেন্দ্রের নরেন্দ্র মোদী সরকার শুনানি পিছনোর আবেদন জানালেও, বিষয়টিকে 'অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ' বলে তা খারিজ করে দিয়েছে শীর্ষ আদালত।

বিতর্কের মূলে কী?
আগে নির্বাচন কমিশনার নিয়োগের তিন সদস্যের কমিটিতে থাকতেন প্রধানমন্ত্রী, লোকসভার বিরোধী দলনেতা এবং সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি। কিন্তু ২০২৩ সালে এক নয়া আইন এনে এই সমীকরণ বদলে দেয় কেন্দ্র। প্রধান বিচারপতিকে সরিয়ে তাঁর জায়গায় আনা হয় প্রধানমন্ত্রী মনোনীত একজন কেন্দ্রীয় মন্ত্রীকে। অর্থাৎ, তিনজনের মধ্যে দুজনই শাসকদলের প্রতিনিধি হওয়ায় নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তোলে বিরোধী পক্ষ।

সুপ্রিম কোর্টের কড়া অবস্থান
বুধবার বিচারপতি দীপঙ্কর দত্ত এবং বিচারপতি সতীশচন্দ্র শর্মার ডিভিশন বেঞ্চে এই মামলার শুনানি শুরু হয়। কেন্দ্রের পক্ষে সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতা জানান, তিনি বর্তমানে শবরীমালা মামলার নয় বিচারপতির বেঞ্চে ব্যস্ত রয়েছেন, তাই এই শুনানি পিছিয়ে দেওয়া হোক।

কিন্তু শীর্ষ আদালত সেই আর্জি পত্রপাঠ খারিজ করে দেয়। বিচারপতিরা সাফ জানান, “অন্য সবকিছুর থেকে এই বিষয়টি বেশি গুরুত্বপূর্ণ। আপনার সহযোগীদের আজ নোট নিতে বলুন।” আদালতের এই অনড় মনোভাব বুঝিয়ে দিয়েছে যে, গণতান্ত্রিক কাঠামোর সুরক্ষায় নির্বাচন কমিশনার নিয়োগের এই মামলাকে তারা সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিচ্ছে।

কেন্দ্র ও আবেদনকারীদের লড়াই
কংগ্রেস নেত্রী জয়া ঠাকুর এবং ‘অ্যাসোসিয়েশন ফর ডেমোক্র্যাটিক রিফর্মস’ (ADR)-এর মতো সংস্থাগুলি এই আইনের বৈধতাকে চ্যালেঞ্জ করে জনস্বার্থ মামলা দায়ের করেছে। তাদের দাবি, এই আইনের ফলে নির্বাচন কমিশনের স্বাধীনতা খর্ব হতে পারে।

অন্যদিকে, কেন্দ্র আগে হলফনামা দিয়ে জানিয়েছিল যে, কমিটিতে বিচার বিভাগের কেউ থাকলেই যে কমিশন স্বাধীন হবে, এমন কোনো মানে নেই। এমনকি তড়িঘড়ি দুই কমিশনার নিয়োগ নিয়েও প্রশ্ন উঠেছিল, যা নিয়ে আইনি টানাপোড়েন অব্যাহত।

বিচারপতিদের পর্যবেক্ষণ
এদিন শুনানির সময় বিচারপতি দীপঙ্কর দত্ত শবরীমালা মামলা প্রসঙ্গে সংবাদমাধ্যমের একাংশের পর্যবেক্ষণের কথা উল্লেখ করে বিচারব্যবস্থার মর্যাদা ও গুরুত্বের বিষয়টি তুলে ধরেন। শবরীমালা শুনানি চললেও নির্বাচন কমিশনার নিয়োগের মতো সাংবিধানিক বিষয়ের শুনানি যে সমান্তরালভাবেই চলবে, তা স্পষ্ট করে দিয়েছে আদালত।

ভোটের আবহে এই মামলার রায় কোন দিকে যায় এবং নির্বাচন কমিশনার নিয়োগে প্রধান বিচারপতির জায়গা আবার ফিরে আসে কি না, সেদিকেই এখন তাকিয়ে গোটা দেশ।

Dailyhunt
Disclaimer: This content has not been generated, created or edited by Dailyhunt. Publisher: Tech Infomatrix