কেন্দ্রীয় সরকারি সংস্থায় কর্মরত শাশুড়ির মৃত্যুর পর তাঁর সমস্ত সুযোগ-সুবিধা এবং চাকরি বা মাসিক ক্ষতিপূরণ পুত্রবধূকে দেওয়ার এক ঐতিহাসিক ও নজিরবিহীন নির্দেশ দিল কলকাতা হাইকোর্ট। বিচারপতি অমৃতা সিনহা ইস্টার্ন কোল ফিল্ডস লিমিটেড (ইসিএল)-কে নির্দেশ দিয়েছেন, ন্যাশনাল কোল ওয়েজ এগ্রিমেন্ট (NCWA) অনুযায়ী মামলাকারী পুত্রবধূকে চাকরিতে নিয়োগ করতে হবে, অন্যথায় নিয়মানুযায়ী প্রতি মাসে ক্ষতিপূরণ দিতে হবে।
ঘটনার সূত্রপাত ২০১১ সালে। পশ্চিম বর্ধমানের বাসিন্দা রেখি নাহক ইস্টার্ন কোল ফিল্ডসের কর্মী ছিলেন। ওই বছর ৮ এপ্রিল কর্মরত অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়। মায়ের মৃত্যুর পর চাকরির আবেদন করেছিলেন তাঁর পুত্র। কিন্তু ভাগ্যের নির্মম পরিহাসে, চাকরি পাওয়ার আগেই ওই বছরের অক্টোবর মাসে মৃত্যু হয় তাঁরও। এরপরই অসহায় পুত্রবধূ সুনীতা নাহক শাশুড়ির মৃত্যুকালীন চাকরি ও অন্যান্য সুবিধার জন্য ইসিএল কর্তৃপক্ষের দ্বারস্থ হন। কিন্তু ইসিএল তাঁর আবেদন খারিজ করে যুক্তি দেয় যে, পুত্রবধূ মৃত কর্মীর ওপর নির্ভরশীল ছিলেন না।
অধিকার ফিরে পেতে হাইকোর্টের দ্বারস্থ হন সুনীতা। তাঁর আইনজীবী প্রলয় ভট্টাচার্য আদালতে জানান, স্বামী ও শাশুড়ি- দুজনকেই হারিয়ে চরম আর্থিক সংকটে পড়েছেন সুনীতা। রেখি নাহকের তিন কন্যা থাকলেও তাঁরা এই সুবিধা পুত্রবধূকে দেওয়ার ক্ষেত্রে কোনও আপত্তি জানাননি।
সব পক্ষের বক্তব্য শুনে বিচারপতি অমৃতা সিনহা স্পষ্ট জানিয়ে দেন, ২০১১ সাল থেকে প্রাপ্য বকেয়া এবং মাসিক ক্ষতিপূরণের অর্থ (MMCC) আগামী ১২ সপ্তাহের মধ্যে সুনীতাকে দিতে হবে। আদালত আরও জানিয়েছে, ইসিএল যেন অবিলম্বে তাঁর নথিপত্র খতিয়ে দেখে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করে। কেন্দ্রীয় সরকারি চাকরিতে নির্ভরশীলদের সংজ্ঞায় পুত্রবধূকে স্থান দিয়ে হাইকোর্টের এই রায় এক অনন্য নজির সৃষ্টি করল।

