শুভেন্দু অধিকারীর আপ্ত সহায়ক চন্দ্রনাথ রথের নৃশংস হত্যাকাণ্ড ঘিরে রাজ্য রাজনীতির পারদ চড়ছে। একদিকে যখন সিআইডি খুনিদের সন্ধানে তল্লাশি চালাচ্ছে, অন্যদিকে তখন চণ্ডীপুরের বাড়িতে শোকের ছায়া। আজই চন্দ্রনাথের দেহের ময়নাতদন্ত হওয়ার কথা। তবে ময়নাতদন্তের আগেই ক্ষোভ আর চোখের জলে ভাসছে গোটা এলাকা।
প্রতিবেশীদের একটাই প্রশ্ন- যে ছেলেটা জীবনে কাউকে একটা চড় পর্যন্ত মারেনি, তার বুক কেন গুলিতে ঝাঁঝরা করে দেওয়া হলো?
মেধাবী ছাত্র থেকে রাজনীতির ময়দান: ফিরে দেখা সেই দিনগুলো
চন্দ্রনাথের মৃত্যু সংবাদ আসার পর থেকেই অসুস্থ হয়ে পড়েছেন তাঁর বৃদ্ধা মা। চণ্ডীপুরের রথ বাড়িতে সকাল থেকেই পাড়া-প্রতিবেশীদের ভিড়। সবার মুখেই চন্দ্রনাথের অমায়িক ব্যবহারের কথা। ছোটবেলার বন্ধু শিবশঙ্কর দাস স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে বারবার আবেগপ্রবণ হয়ে পড়ছিলেন। তিনি জানান, ২০০০ সালে মাধ্যমিক পরীক্ষায় চন্দ্রনাথ ছিলেন এলাকার গর্ব। ৬টি বিষয়ে লেটার মার্কস সহ স্টার পেয়েছিলেন তিনি। পড়াশোনায় অত্যন্ত মেধাবী হওয়ার পাশাপাশি তাঁর স্বভাব ছিল শান্ত ও নম্র।
শিবশঙ্করবাবু বলেন, "ক্লাস ফাইভ থেকে মাধ্যমিক পর্যন্ত আমরা বেঞ্চ মেট ছিলাম। এমন পরোপকারী ছেলে দেখা যায় না। পরে ও সেনাবাহিনীতে চাকরি পেয়ে চলে যায়। ফিরে আসার পর আমরা একসঙ্গে তৃণমূলও করেছি। কিন্তু ও যখন বিজেপিতে যোগ দিল, জানতাম না সেটাই ওর জন্য কাল হয়ে দাঁড়াবে।"
তৃণমূলের দিকে আঙুল, উত্তপ্ত এলাকা
চন্দ্রনাথের বন্ধুর অভিযোগ, কোনও ব্যক্তিগত শত্রুতা নয়, বরং রাজনৈতিক মতাদর্শের পরিবর্তনের কারণেই তাঁকে দুনিয়া থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। শিবশঙ্করবাবুর দাবি, "তৃণমূল ছেড়ে বিজেপি করার অপরাধেই ওকে খুন করা হয়েছে। ও এমন ছেলে ছিল যে কারও সঙ্গে ঝামেলায় জড়াত না। এটা পুরোপুরি চক্রান্ত।"
একই সুর শোনা গিয়েছে প্রতিবেশীদের গলায়। দীর্ঘ ২৫ বছর ধরে চন্দ্রনাথকে চেনেন এমন এক প্রতিবেশী বলেন, "ভোটের আগের দিনও এখানে এসে কত কথা বলে গেল। ও যে কোনওদিন কোনও বিপদে পড়তে পারে, তা আমরা ঘুণাক্ষরেও ভাবিনি।"
তদন্তের গতিপ্রকৃতি ও পরবর্তী পদক্ষেপ
পুলিশ ও সিআইডি সূত্রে খবর, খুনের মোটিভ বা উদ্দেশ্য খতিয়ে দেখতে চন্দ্রনাথের ব্যক্তিগত ও রাজনৈতিক জীবন- দুই দিকই খতিয়ে দেখা হচ্ছে। আজ ময়নাতদন্তের রিপোর্ট আসার পর আরও স্পষ্ট হবে কত দূর থেকে এবং ক'টি গুলি চালানো হয়েছিল।
এলাকাবাসীর দাবি একটাই- এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত প্রকৃত দোষীদের খুঁজে বের করে কঠোরতম শাস্তি দিতে হবে। শুভেন্দু অধিকারীর অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ এই কর্মীর খুনের ঘটনা যে আগামিদিনে বাংলায় বড়সড় রাজনৈতিক আন্দোলনের রূপ নিতে পারে, চণ্ডীপুরের বর্তমান পরিস্থিতি তারই ইঙ্গিত দিচ্ছে।

