টলিউডের অন্যতম সফল প্রযোজনা সংস্থা 'ম্যাজিক মোমেন্টস' বর্তমানে ইন্ডাস্ট্রির কাঠগড়ায়। অভিনেতা রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায়ের রহস্যমৃত্যুকে কেন্দ্র করে শুরু হওয়া 'বয়কট' আন্দোলনে এবার কার্যত মুখ থুবড়ে পড়ল 'চিরসখা' এবং 'কনে দেখা আলো'-র মতো জনপ্রিয় মেগাধারাাবাহিক। ৭ এপ্রিল টেকনিশিয়ান স্টুডিওতে দফায় দফায় বৈঠকের পর এই প্রযোজনা সংস্থাকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়।
আর এই নিষেধাজ্ঞার কোপ সরাসরি এসে পড়েছে শয়ে শয়ে শিল্পী ও টেকনিশিয়ানের রুটিরুজিতে।
ধারাবাহিক বন্ধের ঘোষণায় দিশেহারা হয়ে পড়েছেন বহু বছর ধরে এই হাউসের সঙ্গে যুক্ত থাকা কর্মীরা। অভিনেতা ভিভান ঘোষ সামাজিক মাধ্যমে সরব হয়ে প্রশ্ন তুলেছেন, “যাঁরা দোষী তাঁরা শাস্তি পান, কিন্তু যাঁদের সংসার এই সংস্থার ওপর নির্ভরশীল, তাঁদের কী দোষ?” বুধবার রাতে আর্টিস্ট ফোরামের অফিসে প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়ের সঙ্গে জরুরি বৈঠকে বসেন ‘চিরসখা’র শিল্পী ও কলাকুশলীরা। অভিনেতা সুদীপ মুখোপাধ্যায় এবং বিদীপ্তা চক্রবর্তীরা উপস্থিত থেকে ফোরাম ও ফেডারেশনের সঙ্গে আলোচনা করেন।
বৈঠক শেষে প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায় স্পষ্ট জানান, “আমাদের একটাই প্রশ্ন, ঘটনাটা কীভাবে ঘটল? সেটা বলতে এত সময় কেন লাগছে?” তবে আলোচনার পর আশার আলো দেখছেন কলাকুশলীরা। রাজা গোস্বামী এবং দিগন্ত বাগচিরা জানিয়েছেন, নিরাপত্তাহীনতা থেকে তাঁরা বুম্বাদার কাছে এসেছিলেন এবং সদর্থক উত্তর পেয়ে আশ্বস্ত হয়েছেন। ভিভান ঘোষের দাবি, যাঁরা ১৯-২০ বছর ধরে শুধু এই হাউসেই কাজ করেছেন, রাতারাতি তাঁদের কর্মসংস্থান হারানোর ভয় ছিল। আর্টিস্ট ফোরাম ও ফেডারেশন আশ্বাস দিয়েছে যে, তদন্ত চলাকালীন এই কর্মীদের পুনর্বাসন বা কাজের বিষয়ে বিকল্প ব্যবস্থা নিয়ে ভাবনাচিন্তা করা হবে। রাহুল অরুণোদয়ের মৃত্যুর প্রকৃত কারণ না জানা পর্যন্ত এই টানাপোড়েন যে থামছে না, তা বলাই বাহুল্য।

