উত্তর ২৪ পরগনার মধ্যমগ্রামে বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত চন্দ্রনাথ রথকে গুলি করে নৃশংসভাবে হত্যার ঘটনায় উত্তপ্ত হয়ে উঠল রাজ্য রাজনীতি। ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই বৃহস্পতিবার সকালে বারাসত হাসপাতালে পৌঁছান বিজেপি নেতা শমীক ভট্টাচার্য। সেখান থেকেই তিনি রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি এবং সীমান্ত সংলগ্ন এই অঞ্চলের নিরাপত্তা নিয়ে রাজ্য সরকারকে তীব্র আক্রমণ শানান।
প্রশাসনকে কার্যত ধ্বংস করেছে তৃণমূল:
হাসপাতালে মৃত নেতার পরিবারের সাথে দেখা করার পর শমীক ভট্টাচার্য বলেন, “গতকালকের এই ঘটনা প্রমাণ করে দিল পশ্চিমবঙ্গের আইনশৃঙ্খলা আজ কোথায় গিয়ে ঠেকেছে। গত ১৫ বছর ধরে তৃণমূল কংগ্রেস প্রশাসনকে কার্যত ধ্বংস করে দিয়েছে। পুলিশের এমনভাবে রাজনীতিকরণ করা হয়েছে যে, অপরাধীরা এখন এই রাজ্যকে নিজেদের স্বর্গরাজ্য বলে মনে করছে।”
অনুপ্রবেশ ও জাল পরিচয়পত্রের ডেরা:
এদিন শমীক ভট্টাচার্যের নিশানায় ছিল বারাসত ও মধ্যমগ্রাম এলাকার নিরাপত্তা ব্যবস্থা। তাঁর দাবি, এই অঞ্চলটি বর্তমানে জাল পরিচয়পত্র তৈরির প্রধান কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে। শমীক বলেন, “ভারতের যেকোনো প্রান্তে যখনই কোনো অনুপ্রবেশকারী ধরা পড়ে, তাদের জেরা করলে জানা যায় তারা বারাসত বা মধ্যমগ্রাম থেকে জাল রেশন কার্ড বা পরিচয়পত্র সংগ্রহ করেছে। এই এলাকাটি অপরাধীদের কাছে অত্যন্ত স্পর্শকাতর হয়ে উঠেছে।”
প্রধানমন্ত্রীর সফরের আগেই অস্থিরতা তৈরির ছক?
খুনের নেপথ্যে বড় কোনো ষড়যন্ত্রের ইঙ্গিত দিয়ে শমীক প্রশ্ন তোলেন, “সামনেই প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সফর। তার দুদিন আগে এভাবে খুনের ঘটনা কি আসলে দিল্লিকে কোনো বার্তা দেওয়ার চেষ্টা? রাজ্যে পরিকল্পিতভাবে অস্থিরতা তৈরির চক্রান্ত চলছে।” তিনি আরও মনে করিয়ে দেন যে, নিহত চন্দ্রনাথ রথ একজন প্রাক্তন সেনা কর্মী ছিলেন এবং রাজনীতির সঙ্গে তাঁর সরাসরি কোনো যোগ ছিল না। একজন অরাজনৈতিক ব্যক্তিকে এভাবে মারার উদ্দেশ্য হলো ভয় দেখানো এবং প্রতিহিংসা চরিতার্থ করা।
তৃণমূলের ভাষায় জবাব দেওয়ার হুঁশিয়ারি:
বিজেপি নেতা সজলের সুরেই এদিন শমীক ভট্টাচার্যকে কড়া মেজাজে দেখা যায়। তিনি বলেন, “আমরা জিতেছি, অথচ আমাদের তিনজন কর্মী প্রাণ হারালেন? কেউ যদি মনে করেন বিজেপি দুর্বল বা সিংহ স্থবির হয়ে রয়েছে, তবে তারা ভুল করছেন। আমরা তৃণমূলের ভাষায় কথা বলতে জানি, কিন্তু আমাদের আভিজাত্য আমাদের আটকে রাখে। তবে ধৈর্যেরও একটা সীমা থাকে।”
এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক উত্তেজনা বিরাজ করছে। বারাসত ও খড়দহ থানার পুলিশ তদন্ত শুরু করলেও এখনও পর্যন্ত কাউকেই গ্রেফতার করা সম্ভব হয়নি। পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখে অপরাধীদের শনাক্ত করার কাজ চলছে। তবে ভোট মিটতেই এই রাজনৈতিক রক্তপাতকে কেন্দ্র করে সরগরম বাংলা।

