বাংলার তপ্ত আবহাওয়ার সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে রাজনীতির পারদ। প্রথম দফার ভোট যত এগিয়ে আসছে, শাসক ও বিরোধী শিবিরের আক্রমণাত্মক মেজাজ ততই তীব্র হচ্ছে। বুধবার বেহালায় দলীয় প্রার্থীর সমর্থনে প্রচারে এসে তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে কার্যত বিস্ফোরক মন্তব্য করলেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী।
এদিন রেশন দুর্নীতিতে অভিযুক্ত জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক ওরফে বালুর প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, "রাজ্যে স্বাধীনতার পর এত বড় দুর্নীতি আর হয়নি। বালুকে ক্লিনচিট দেওয়ার চেষ্টা থেকেই পরিষ্কার যে দুর্নীতির টাকা সব হাওয়াই চটি খেয়েছে।"
শুভেন্দু এদিন আরও অভিযোগ করেন যে, রাজ্যে গত ১৫ বছরে কর্মসংস্থান স্তব্ধ হয়ে গিয়েছে। তাঁর দাবি, "গোসাবার ৩০ হাজার এবং নন্দীগ্রামের ১৮ হাজার যুবক কাজের খোঁজে রাজ্যের বাইরে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় রাজ্য থেকে 'চাকরি' শব্দটাই তুলে দিয়েছেন।" ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ যাওয়া নিয়ে মুখ্যমন্ত্রীর আপত্তির পাল্টা দিয়ে শুভেন্দু বলেন, "যাঁদের নাম বাদ গেছে তাঁরা বেশিরভাগই মৃত ভোটার। মুখ্যমন্ত্রী কি চান মৃতরা এসে ভোট দিয়ে যাক? ভোট পরবর্তী সব হিংসার বলি হয় বিজেপি কর্মীরা, এর দায় ওঁরই।"
অন্যদিকে, আজ ছিল দক্ষিণ কলকাতার ভবানীপুর কেন্দ্রে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মনোনয় পেশের দিন। চতুর্থবারের জন্য এই কেন্দ্র থেকে লড়াই করছেন তিনি। সকাল সাড়ে ১০টা নাগাদ কালীঘাটের বাড়ি থেকে পায়ে হেঁটে আলিপুরের সার্ভে বিল্ডিংয়ে গিয়ে মনোনয়ন জমা দেন মুখ্যমন্ত্রী। জমা দেওয়ার পর কিছুটা আবেগপ্রবণ হয়ে মমতা বলেন, "ভবানীপুরেই আমার ধর্ম-কর্ম, এখানেই আমার সব কিছু। ছোটবেলা থেকে এখানে বড় হয়েছি, তাই এখানকার মানুষের কাছে আমি কৃতজ্ঞ।"
মনোনয়ন জমা দিয়েই জয়ের ব্যাপারে আত্মবিশ্বাসী মমতা হুঙ্কার দিয়ে বলেন, "এবারও আমরাই সরকার গড়ব। শুধু ভবানীপুর নয়, বাংলার ২৯৪টি আসনেই তৃণমূল জয়ী হবে।" ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ যাওয়া নিয়ে এদিনও কমিশনের প্রতি ক্ষোভ উগরে দেন তিনি। একদিকে শুভেন্দুর 'হাওয়াই চটি' কটাক্ষ আর অন্যদিকে মমতার 'সরকার গড়ার' চ্যালেঞ্জ- সব মিলিয়ে ২৩ এপ্রিলের প্রথম দফার ভোটের আগে বাংলা এখন আক্ষরিক অর্থেই রণক্ষেত্র।

