Dailyhunt Logo
  • Light mode
    Follow system
    Dark mode
    • Play Story
    • App Story
"ঠকবাজদের কেন ৪২০ বলা হয়?" কোনো গালি নয়, এই ৩ সংখ্যার লুকিয়ে থাকা আইনি সত্যটা জানেন কি?

"ঠকবাজদের কেন ৪২০ বলা হয়?" কোনো গালি নয়, এই ৩ সংখ্যার লুকিয়ে থাকা আইনি সত্যটা জানেন কি?

Tech Infomatrix 1 week ago

দৈনন্দিন কথাবার্তায় কাউকে ঠকতে দেখলে কিংবা প্রতারণার শিকার হলে আমরা অনেকেই অনায়াসেই বলে উঠি- "লোকটা একটা ৪২০!" বা "আমার সঙ্গে ৪২০-গিরি করা হয়েছে।" কিন্তু মজার বিষয় হলো, 'ফোর টুয়েন্টি' বা '৪২০' কোনও গালিগালাজ বা সাধারণ কথ্য শব্দ নয়। এর পেছনে রয়েছে ১৮৬০ সালে ব্রিটিশ আমলে প্রণীত দণ্ডবিধির এক ঐতিহাসিক ও কড়া আইনি বিধান।

বাংলাদেশে প্রচলিত দণ্ডবিধি (Penal Code), ১৮৬০-এর ৪২০ ধারা মূলত প্রতারণা এবং অসাধু উপায়ে সম্পত্তি হাতিয়ে নেওয়ার অপরাধের শাস্তির বিধান নির্ধারণ করে। বহু বছর ধরে আদালতে এই ধারার ব্যাপক ব্যবহারের কারণেই সাধারণ মানুষের মুখে মুখে প্রতারকদের সমার্থক শব্দ হয়ে উঠেছে '৪২০'।

৪২০ ধারার মূল ভিত্তি: আগে জানতে হবে ৪১৫ ধারা
আইন অনুযায়ী সব আর্থিক লেনদেনের গোলমালই প্রতারণা নয়। ৪২০ ধারায় মামলা করার প্রধান শর্ত লুকিয়ে রয়েছে ৪১৫ ধারায়।

৪১৫ ধারা অনুযায়ী, যদি কোনও ব্যক্তি ইচ্ছাকৃতভাবে অন্য কাউকে অসৎ উদ্দেশ্যে প্ররোচিত করেন, যার ফলে অন্য ব্যক্তির সম্পত্তি, দলিল বা স্বার্থের বড় রকমের ক্ষতি হয়- তবেই তাকে আইনি ভাষায় 'প্রতারণা' বলা হবে। অর্থাৎ, ৪২০ ধারার অপরাধ প্রমাণের প্রথম ধাপই হলো ৪১৫ ধারার শর্ত পূরণ করা।

দণ্ডবিধির ৪২০ ধারায় কী সাজা হয়?
দণ্ডবিধির ৪২০ ধারা অনুযায়ী, কোনো ব্যক্তি যদি অসৎ উদ্দেশ্যে প্রতারণা করে:

অন্য কারো থেকে মূল্যবান সম্পত্তি বা জামানত হাসিল করেন,

কোনো স্বাক্ষরিত বা সিলমোহরযুক্ত মূল্যবান নথি বা দলিল ধ্বংস, পরিবর্তন বা জাল করেন,

তবে অভিযুক্ত ব্যক্তির সর্বোচ্চ ৭ বছর পর্যন্ত সশ্রম বা বিনাশ্রম কারাদণ্ড এবং অর্থদণ্ড হতে পারে।

যেসব ক্ষেত্রে ৪২০ ধারায় মামলা করা যায়
বাংলাদেশের আইন অনুযায়ী সাধারণত নিম্নোক্ত অপরাধগুলোতে এই ধারায় আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হয়:

ভুয়া প্রতিশ্রুতিতে অর্থ আত্মসাৎ: চাকরি দেওয়া, বিদেশে পাঠানো কিংবা ব্যবসায়িক প্রলোভন দেখিয়ে টাকা হাতিয়ে নিলে।

জমি বা সম্পত্তি জালিয়াতি: ভুল তথ্য দিয়ে বা ভুয়া দলিল বানিয়ে কারো সম্পত্তি লিখে নিলে। (অনেক সময় এর সঙ্গে ৪৬৭, ৪৬৮ ও ৪৭১ জালিয়াতি ধারা যুক্ত হয়)।

বিনিয়োগ কেলেঙ্কারি: শুরু থেকেই প্রতারণার উদ্দেশ্যে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে অর্থ সংগ্রহ করা।

অসৎ উদ্দেশ্যে চেক প্রদান: অ্যাকাউন্টে টাকা নেই জেনেও কাউকে প্রতারিত করতে বা সময় পার করতে বাউন্স চেক দিলে।

বিয়ের নামে প্রতারণা: আসল পরিচয় গোপন করে কিংবা বিয়ের ভুয়া প্রতিশ্রুতি দিয়ে অর্থ বা গয়না হাতিয়ে নেওয়া।

সাধারণ ভুল ধারণাসমূহ: চুক্তিতে লোকসান মানেই কি ৪২০?
আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, এটি একটি বড় ভুল ধারণা। সাধারণ চুক্তি ভঙ্গ বা ব্যবসায়িক লোকসান কখনোই ৪২০ ধারার অপরাধ নয়।

 আদালতের গুরুত্বপূর্ণ পর্যবেক্ষণ:
৪২০ ধারায় অপরাধ প্রমাণ করতে হলে আদালতকে দেখাতে হবে যে, অভিযুক্তের লেনদেনের শুরু থেকেই প্রতারণা করার অসৎ উদ্দেশ্য ছিল। শুরুতে নিয়ত ভালো ছিল কিন্তু পরে ব্যবসায় লস হয়েছে- এমন ক্ষেত্রে ৪২০ ধারার ফৌজদারি মামলা টিকবে না, তা দেওয়ানি (Civil) বিরোধ হিসেবে গণ্য হবে।

প্রতারণার শিকার হলে আপনার করণীয় ও প্রয়োজনীয় প্রমাণ
প্রতারিত হলে আবেগের বশে পদক্ষেপ না নিয়ে নিকটস্থ থানা (FIR) অথবা চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট/মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলা দায়ের করা যায়।

মামলা শক্ত করতে যে প্রমাণগুলো রাখা জরুরি:

লিখিত চুক্তিপত্র বা রসিদ।

ব্যাংক স্টেটমেন্ট বা মোবাইল ব্যাংকিংয়ের (Bkash/Nagad) স্টেটমেন্ট।

চ্যাট হিস্ট্রি, এসএমএস, ই-মেইল কিংবা অডিও/ভিডিও রেকর্ডিং।

প্রত্যক্ষদর্শীদের সাক্ষ্য।

কাউকে কথায় কথায় '৪২০' বলা যত সহজ, আইনের দরবারে এই অপরাধ প্রমাণ করা ঠিক ততটাই সুনির্দিষ্ট। তাই কোনো আর্থিক লেনদেনে পা দেওয়ার আগে সচেতন থাকা এবং প্রতারিত হলে সঠিক নথি সহ আইনের আশ্রয় নেওয়াই বুদ্ধিমানের কাজ।

The post "ঠকবাজদের কেন ৪২০ বলা হয়?" কোনো গালি নয়, এই ৩ সংখ্যার লুকিয়ে থাকা আইনি সত্যটা জানেন কি? first appeared on News.

Dailyhunt
Disclaimer: This content has not been generated, created or edited by Dailyhunt. Publisher: Tech Infomatrix