অভিনেতা রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায়ের অকাল মৃত্যুতে অগ্নিগর্ভ টলিপাড়া। গত ২৯ মার্চ তালসারিতে শ্যুটিং চলাকালীন জলে ডুবে রাহুলের রহস্যজনক মৃত্যু নিয়ে যখন স্টুডিওপাড়া বিচার চাইছে, ঠিক তখনই নিজের হাড়হিম করা অভিজ্ঞতার কথা প্রকাশ্যে আনলেন টেলি অভিনেত্রী রূপালি রায় ভট্টাচার্য। সোশ্যাল মিডিয়ায় রূপালি জানিয়েছেন, কীভাবে নামী প্রযোজক ও পরিচালকদের গাফিলতিতে বারবার মৃত্যুর মুখ থেকে ফিরে এসেছেন তিনি।
রূপালি জানান, উত্তরবঙ্গে একটি অলৌকিক গল্পের সিরিয়ালের শ্যুটিংয়ে কনকনে শীতের রাতে তাঁকে তিস্তা নদীর বরফ শীতল জলে গলা পর্যন্ত ডুবিয়ে বসিয়ে রাখা হয়েছিল প্রায় দেড় ঘণ্টা। অভিনেত্রী বলেন, “ক্যামেরা তখনও গাড়ি থেকে নামেনি, অথচ আমায় ওই স্রোতের মধ্যে একটা পাথর আঁকড়ে বসিয়ে রাখা হয়। সহকারী পরিচালকের সহায়তায় সে যাত্রায় বেঁচে ফিরি।” এখানেই শেষ নয়, কলকাতায় শ্যুটিংয়ের সময় তাঁকে হার্নেসে ঝুলিয়ে রেখে পরিচালক ও ক্রু মেম্বাররা ক্যাজুয়ালি ঘর থেকে বেরিয়ে যান। রূপালি চিৎকার করলেও কেউ কানে তোলেনি।
সবচেয়ে ভয়াবহ অভিজ্ঞতা হয় একটি ফাইট সিক্যুয়েন্সের সময়। কোমরের হাড় ও মেরুদণ্ডের মাঝে ল্যাপেল রিসিভার রেখে তাঁকে সজোরে আছড়ে পড়তে বলা হয়েছিল। রূপালি যন্ত্রণায় আছড়ে পড়লেও কেউ 'কাট' বলেনি। উঠে দেখেন, শট শেষ হওয়ার আগেই পরিচালক এবং চিফ এডি গরম চপ খেতে চলে গেছেন! রূপালির প্রশ্ন, “আর কতদিন শিল্পীদের এভাবে ‘টেকেন ফর গ্রান্টেড’ নেওয়া হবে? আজ রাহুল চলে গিয়েছে, কাল অন্য কেউ যাবে। আমরা আর একা নই, এবার সবাই মিলে এর প্রতিবাদ করব।” উল্লেখ্য, রাহুলের স্ত্রী প্রিয়াঙ্কা সরকার ইতিমধ্যেই থানায় খুনের অভিযোগ দায়ের করেছেন। টলিপাড়ার দাবি- গ্ল্যামারের আড়ালে চলা এই চরম অব্যবস্থা ও অমানবিকতা এবার বন্ধ হোক।

