রাজ্য বিধানসভার পর এবার দেশের সংসদ ভবনেও তৃণমূল কংগ্রেসের অন্দরে ভাঙনের জল্পনা তীব্র। রাজনৈতিক মহলের খবর অনুযায়ী, তৃণমূলের সংসদীয় দলেও বড়সড় ভাঙন সময়ের অপেক্ষা মাত্র। শোনা যাচ্ছে, দলত্যাগ বিরোধী আইনের ফাঁদ এড়াতে কৌশলে প্রস্তুতি সেরে ফেলেছেন বিদ্রোহী সাংসদদের একটি বড় অংশ।
তৃণমূলের অন্দরে কেন এই অস্থিরতা?
সূত্র মারফৎ খবর, তৃণমূলের সংসদীয় দল থেকে বেরিয়ে যাওয়ার জন্য ইতিমধ্যে প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছেন অন্তত ১২ জন সাংসদ। তবে এই তালিকা এখানেই সীমাবদ্ধ থাকছে না। আরও অন্তত ৬ জন সাংসদ এই দলে যুক্ত হতে চলেছেন বলে জানা গিয়েছে। দলের ভেতরে থাকা অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ মহলের অন্তত ৩-৪ জন শীর্ষনেতাও এই তালিকায় রয়েছেন বলে গুঞ্জন।
আইনি কৌশল ও 'জাদুর সংখ্যা':
দলত্যাগ বিরোধী আইনের আওতা থেকে বাঁচতে এবং দলের আইনি বৈধতা ধরে রাখতে দুই-তৃতীয়াংশ সাংসদের সমর্থন প্রয়োজন। তৃণমূলের বর্তমান আসন সংখ্যার হিসেবে এই 'জাদুর সংখ্যা' দাঁড়িয়েছে ১৮ বা ১৯-এ। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বিধানসভায় যেভাবে বিধায়কদের একটি অংশ আলাদা হয়ে 'আসল তৃণমূল' দাবি করে প্রধান বিরোধী দলের মর্যাদা আদায় করে নিয়েছে, সংসদীয় দলেও ঠিক একই কৌশল প্রয়োগ করা হতে পারে।
কবে নাগাদ এই 'রাজনৈতিক সুনামি'?
খুব শীঘ্রই সংসদে বাদল অধিবেশন শুরু হতে চলেছে। রাজনৈতিক মহলের কানাঘুষো, এই অধিবেশন শুরু হওয়ার ঠিক আগেই, সম্ভবত আগামী সপ্তাহেই সংসদীয় রাজনীতিতে বড়সড় রদবদল ঘটতে পারে। লোকসভার পাশাপাশি রাজ্যসভাতেও একইভাবে 'অপারেশন লোটাস' চালানোর প্রস্তুতি চলছে বলে খবর।
তৃণমূলের অন্দরে শঙ্কা:
যদিও নিরাপত্তা এবং কৌশলী কারণে এখনই দলত্যাগকারী সাংসদদের নাম প্রকাশ্যে আনতে নারাজ সংশ্লিষ্ট পক্ষ। তবে বিধানসভার সাফল্যের পর এবার সংসদে তৃণমূলের অস্তিত্ব কতটা সংকটে পড়ে, সেদিকেই তাকিয়ে রয়েছে জাতীয় রাজনীতি। দল ভাঙার এই গুঞ্জন যদি বাস্তবে রূপ নেয়, তবে তা তৃণমূল কংগ্রেসের জন্য বড়সড় ধাক্কা হতে চলেছে।

