দ্য ওয়াল ব্যুরো: ঘরের পরিচারিকাদের পারিশ্রমিক বা বেতন ঠিক কত হওয়া উচিত? এই একটি মাত্র প্রশ্নকে কেন্দ্র করে এবার কার্যত আড়াআড়ি বিভক্ত হয়ে গেল বলিউড। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে অভিনেত্রী কীর্তি কুলহারি (Kirti Kulhari) দাবি করেন, তাঁর বাড়িতে দিনে মাত্র দু'ঘণ্টা কাজ করার জন্য পরিচারিকা মাসে ১০ হাজার টাকা বেতন চান, যা তাঁর মতে অত্যন্ত চড়া।
কীর্তির এই মন্তব্য প্রকাশ্যে আসতেই নেটপাড়ায় তীব্র শোরগোল শুরু হয়ে যায়। সাধারণ মানুষের ক্ষোভের মাঝেই এবার কীর্তিকে একহাত নিয়েছেন বলিউডের জনপ্রিয় সঞ্চালক ও অভিনেতা কবির খানের স্ত্রী মিনি মাথুর (Mini Mathur)। কীর্তির এই মানসিকতাকে তীব্র কটাক্ষ করে সোশ্যালে একটি দীর্ঘ পোস্ট দিয়েছেন তিনি।
একটি পডকাস্টে অংশ নিয়ে জয়পুর তথা 'পিঙ্ক সিটি'র কন্যা কীর্তি কুলহারি নিজের বাড়ির পরিচারিকার প্রসঙ্গটি তোলেন। কীর্তি জানান, তাঁর পরিচারিকা দিনে মাত্র দুই ঘণ্টা কাজ করেন এবং তার জন্য প্রতি মাসে ১০ হাজার টাকা দাবি করেন। অভিনেত্রীর মতে, বর্তমান বাজারে পরিচারিকাদের এই পারিশ্রমিক বা ডিমান্ড আকাশছোঁয়া, যা অনেক সময় কাজের তুলনায় অতিরিক্ত বলে মনে হয়। কীর্তির এই আক্ষেপের ভিডিওটি ভাইরাল হতেই নেটিজেনদের একাংশ তাঁকে তীব্র ট্রোল করতে শুরু করেন। সাধারণ মানুষের বক্তব্য, মুম্বইয়ের মতো অত্যন্ত ব্যয়বহুল শহরে ১০ হাজার টাকায় সংসার চালানো যে কতটা কঠিন, তা একজন শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত (এসি) ঘরে থাকা তারকার পক্ষে বোঝা সম্ভব নয়।
কীর্তি কুলহারির এই হিসাব-নিকাশ ও মন্তব্য একদমই মেনে নিতে পারেননি মিনি মাথুর। তিনি নিজের সোশাল মিডিয়া হ্যান্ডেলে কীর্তির নাম উল্লেখ না করলেও অত্যন্ত সপাট ভাষায় এই ধরনের মানসিকতার কড়া সমালোচনা করেন। মিনি লেখেন, আমাদের বাড়িতে যাঁরা কাজ করেন, তাঁরা আসলে আমাদের বিলাসবহুল জীবনযাত্রার মূল মেরুদণ্ড। তাঁরা দৈনিক যে হাড়ভাঙা পরিশ্রম করেন, তার মূল্য কোনও নির্দিষ্ট পারিশ্রমিক বা ঘড়ির কাঁটা দিয়ে বিচার করা যায় না। কাজটা মাত্র দুই ঘণ্টার হলেও, সেই সময়ে তাঁরা যে শ্রম দিচ্ছেন, তা অত্যন্ত মূল্যবান।
মিনির মতে, পরিচারিকাদের ন্যায্য বেতনকে দয়া বা অতিরিক্ত টাকা মনে করাটা এক ধরণের ভুল চিন্তাধারা। মুম্বইয়ের মতো জায়গায় তাঁদেরও পরিবার রয়েছে এবং তাঁদেরও ভালভাবে বাঁচার পূর্ণ অধিকার আছে।
বলিউড তারকাদের বিপুল আয়ের তুলনায় তাঁদের বাড়ির কর্মীদের পারিশ্রমিক নিয়ে বিতর্ক এই প্রথম নয়। এর আগেও বহু সেলিব্রিটি পরিচারিকাদের ছুটি বা বেতন নিয়ে বিভিন্ন বিতর্কে জড়িয়েছেন। তবে কীর্তি কুলহারির মতো একজন প্রথম সারির অভিনেত্রীর মুখে এমন হিসাব-নিকাশ শুনে অনেকেই বেশ অবাক হয়েছেন। অন্যদিকে, মিনি মাথুরের এই মানবিক ও যুক্তিপূর্ণ অবস্থানকে সাধুবাদ জানিয়েছেন সাধারণ নেটিজেনরা। টিনসেল টাউনের অন্দরে কান পাতলে এখন একটাই গুঞ্জন— পর্দার ভেতরে বা বাইরে সামাজিক সচেতনতার বড় বড় বার্তা দেওয়া তারকারা বাস্তব জীবনে আসলে কতটা সংবেদনশীল, কীর্তি ও মিনির এই দ্বন্দ্ব যেন আরও একবার সেই বড় প্রশ্নটাই তুলে দিল।

