দ্য ওয়াল ব্যুরো: সোনারপুরে তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক তথা সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Abhishek Banerjee) ওপর হামলার ঘটনায় প্রশ্ন তুললেন কংগ্রেস নেতা অধীররঞ্জন চৌধুরী (Adhir Ranjan Chowdhury)। রাজ্যে লাগাতার চলতে থাকা রাজনৈতিক হিংসার নিন্দা করার পাশাপাশি এই ঘটনায় শাসকদলের অন্দরের সাংগঠনিক পরিস্থিতি নিয়েও কথা বলতে ছাড়েননি তিনি।
শনিবারের নজিরবিহীন হেনস্থার ঘটনা প্রসঙ্গে অধীর স্পষ্ট জানান, বাংলায় এই ধরণের হিংসা নতুন কিছু নয়। তাঁর কথায়,
'আমরা বাংলার মানুষ, এখানে রাজনৈতিক সন্ত্রাস দেখতে দেখতে আমরা অভ্যস্ত হয়ে গিয়েছি। তবে আমরা চাই বাংলায় এবার একটা শান্তিপূর্ণ পরিবেশ তৈরি হোক।' একই সঙ্গে একজন জনপ্রতিনিধির ওপর এই ধরণের শারীরিক আক্রমণের তীব্র সমালোচনা করে অধীররঞ্জন চৌধুরী বলেন, 'একজন সাংসদকে মারধর করার মধ্যে কোনও বাহাদুরি নেই।'
তবে হামলার নিন্দা করলেও এই ঘটনার আবহে তৃণমূলের স্থানীয় নেতৃত্ব ও কর্মীদের ভূমিকা নিয়ে বড়সড় প্রশ্ন তুলে দিয়েছেন এই কংগ্রেস নেতা। দলের শীর্ষ নেতার বিপদে কর্মীদের নিষ্ক্রিয়তা বা অনুপস্থিতি নিয়ে তীব্র কটাক্ষ করে অধীরবাবু প্রশ্ন তোলেন, 'যে নেতা ৭ লক্ষ ভোটের রেকর্ড ব্যবধানে জয়ী হয়েছেন, বিপদের দিনে তাঁর নিজের এলাকায় দলের কোনও নেতা বা কর্মী তাঁকে বাঁচাতে কেন এগিয়ে এলেন না?'
শনিবার সোনারপুরে ভোটপরবর্তী হিংসায় নিহত এক তৃণমূলকর্মীর বাড়িতে গিয়েছিলেন অভিষেক। এলাকায় পৌঁছোতেই জনরোষের কবলে পড়েন তিনি। তাঁকে লক্ষ্য করে জুতো এবং ডিম ছোড়া হয়। পাথরও ছোড়েন কেউ কেউ। সঙ্গে চলে 'চোর চোর' স্লোগান। আঘাত থেকে বাঁচতে অভিষেক মাথায় হেলমেট পরে নিয়েছিলেন। তার পরেও ধস্তাধস্তিতে তাঁর জামা ছিঁড়ে যায়। নিহত তৃণমূলকর্মীর পরিবারের সঙ্গে দেখা করে দীর্ঘ ক্ষণ সেখানেই বসেছিলেন অভিষেক। বিকেলে পুলিশ এবং কেন্দ্রীয় বাহিনী গিয়ে তাঁকে উদ্ধার করে। তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদকের দাবি, হামলা বিজেপির পরিকল্পিত। আগে থেকেই অভিষেকের সফরের কথা জেনে তাঁরা তৈরি ছিলেন। আইনি লড়াইয়ের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন অভিষেক।
ঘটনার সময়কার ভিডিও ফুটেজ খতিয়ে দেখে এবং পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে তা বিশ্লেষণ করে এখনও অবধি ৬ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। ধৃতদের জিজ্ঞাসাবাদ করে ঘটনার পেছনে অন্য কোনও উদ্দেশ্য ছিল কি না, তা জানার চেষ্টা করছে প্রশাসন।

