Dailyhunt Logo
  • Light mode
    Follow system
    Dark mode
    • Play Story
    • App Story
'৯০% পড়ুয়া দেশপ্রেমিক, চে-এর গেঞ্জি পরারা ভয় দেখিয়ে মিছিলে নিয়ে যায়', যাদবপুরের 'বেয়াদব'দের নিশানা শুভেন্দুর

'৯০% পড়ুয়া দেশপ্রেমিক, চে-এর গেঞ্জি পরারা ভয় দেখিয়ে মিছিলে নিয়ে যায়', যাদবপুরের 'বেয়াদব'দের নিশানা শুভেন্দুর

THE WALL 1 month ago

দ্য ওয়াল ব্যুরো: গত ১৯ ও ২০ অগস্ট যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে (Jadavpur University) ছাত্র সংঘর্ষ ও উত্তেজনার পর বন্দে মাতরম ও জাতীয়তাবাদ প্রতিষ্ঠার যে অঙ্গীকার করেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari), শুক্রবার রাখিবন্ধনের বিকেলে তারই প্রতিফলন দেখা গেল। বর্ষণমুখর আবহাওয়া উপেক্ষা করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রাঙ্গণ থেকে যাদবপুর থানা পর্যন্ত রাস্তার দু'ধারে হাজার হাজার মানুষের উপস্থিতি এবং তেরঙ্গা হাতে '১০ হাজার কণ্ঠে বন্দে মাতরম' (Vande Mataram) গাওয়া হল।

অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে বিশ্ববিদ্যালয়ের ২, ৩ ও ৪ নম্বর গেট বন্ধ রেখে কেবল ১ নম্বর গেট দিয়ে যাতায়াত নিয়ন্ত্রণ করে বিশাল পুলিশ বাহিনী।

কর্মসূচির শুরুতে জাতীয় স্তোত্রের ছ'টি স্তবক উচ্চারণের পর উপস্থিত জনতার উদ্দেশে শুভেন্দু বলেন, ''প্রবল বৃষ্টি সত্ত্বেও পবিত্র দিনে হাজার হাজার দেশপ্রেমিক নাগরিক, ছাত্র-ছাত্রী, শিক্ষক-শিক্ষিকা, সন্ত সমাজের প্রতিনিধি ও সাধারণ মানুষ তেরঙ্গা ও বন্দে মাতরমের সঞ্জীবনী মন্ত্র উচ্চারণে শামিল হয়েছেন। আলিপুরের আম্বেদকর কলোনিতে রাখিবন্ধন দিয়ে আজকের দিনের সূচনা করেছিলাম, আর যাদবপুরের এই পবিত্র মাটিতে বন্দে মাতরমের মধ্য দিয়ে তার সমাপ্তি ঘটল।''

যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির অবনমনের জন্য ৩৪ বছরের কমিউনিস্ট শাসনকে কড়া ভাষায় আক্রমণ করেন তিনি। শুভেন্দু অধিকারী অভিযোগ করেন, ''কমিউনিস্টদের আমলে এই প্রতিষ্ঠানে রবীন্দ্রনাথ, বঙ্কিমচন্দ্র, শরৎচন্দ্র বা বিদ্যাসাগরের ছবি ঠাঁই পেত না। তারা নেতাজিকে 'তোজোর কুকুর' এবং রবীন্দ্রনাথকে 'বুর্জোয়া কবি' বলেছিল। উচ্চ মেধার এই বিশ্ববিদ্যালয়কে 'সেন্টার অফ এক্সিলেন্স' করার উদ্দেশ্যে কেন্দ্রীয় অর্থ বাজেটে ১,০০০ কোটি টাকার বিশেষ প্যাকেজ ঘোষণা করা সত্ত্বেও কমিউনিস্টরা এখানকার পরিবেশ নষ্ট করেছে। নকশাল আমলে উপাচার্য গোপাল সেনকে খুন করা হয়েছিল, তাও সকলের জানা।''

তৃণমূল জমানার সমালোচনা করে বহু চর্চিত স্বপ্নদীপের অস্বাভাবিক মৃত্যুর প্রসঙ্গ তুলে আনেন। নিজের অতীত অভিজ্ঞতা স্মরণ করিয়ে তিনি বলেন, ''র‍্যাগিংয়ের প্রতিবাদে আমি যখন এখানে এসেছিলাম, আমার গাড়ির ওপর লাফিয়ে পড়ে মাওবাদী পরিচয় দিয়ে আমাকে 'গো ব্যাক' স্লোগান দেওয়া হয়েছিল। তৎকালীন পুলিশমন্ত্রী ফোন করে গ্রেফতার হওয়া দুই মাওবাদীকে ছাড়িয়ে দেন। তৃণমূল ও বামেদের এই গোপন বোঝাপড়ার উদ্দেশ্য ছিল একটাই— নির্বাচনে 'নো ভোট টু বিজেপি' স্লোগান তুলে তার ফায়দা তোলা।''

বিশ্ববিদ্যালয়ের হোস্টেলগুলিতে 'থ্রেট কালচার' বা ভয় দেখানোর পরিবেশ তৈরি করা হচ্ছে বলে দাবি করেন তিনি। তাঁর কথায়, ''এখানকার ৯০ শতাংশ ছাত্র-ছাত্রী রাষ্ট্রবাদী ও দেশপ্রেমিক। অথচ চে গুয়েভারার গেঞ্জি পরা কিছু গোষ্ঠী রানাঘাটের পড়ুয়ার মতো পরিণতি করার হুমকি দিয়ে সাধারণ ছাত্র-ছাত্রীদের জোর করে মিছিলে নিয়ে যায়। তৃণমূলের ২৬ হাজার চাকরি চুরি কিংবা পিএসসি-এসএসসি দুর্নীতি নিয়ে তাদের মুখে স্লোগান নেই, তাদের মুখে একটাই স্লোগান— 'আজাদি'!''

এই আজাদি স্লোগানের কড়া সমালোচনা করে শুভেন্দু বলেন, ''ক্ষুদিরাম বসু, মাতঙ্গিনী হাজরা, নেতাজি, ঋষি অরবিন্দ, বিনয়-বাদল-দিনেশ, মাস্টারদা সূর্য সেনদের আত্মত্যাগে স্বাধীন দেশেই আমরা বাস করি। এরা কিসের আজাদি চায়? গাঁজা, হেরোইন বা ড্রাগ খাওয়ার আজাদি? এরা টুকড়ে টুকড়ে গ্যাং। অবন্তিপুরায় ৪৫ জন সিআরপিএফ শহিদ হলে কিংবা পহেলগাবে বেছে বেছে বিতান অধিকারী বা সমীর গুহদের মতো হিন্দুদের খুন করা হলে এরা মিছিল করে না। কিন্তু 'অপারেশন সিঁদুর' হলে এরা রাস্তায় নেমে ভারতে হামলা বন্ধ করার দাবি তোলে!''

পাক-অধ্যুষিত কাশ্মীর (PoK) দখলের বার্তা দিয়ে তিনি হুঁশিয়ারি দেন, ''আমাদের বায়ুসেনা অপারেশন সিঁদুরে মাসুদ আজাহারের বংশকে নির্বংশ করেছে। আমরা পাক-অধ্যুষিত কাশ্মীরও দখল করব। 'কাশ্মীর মাঙ্গে আজাদি' বলা এই বেয়াদবদের হিসাবের দিন শেষ হয়ে এসেছে। হয় এরা থাকবে, না হয় আমরা থাকব!''

Dailyhunt
Disclaimer: This content has not been generated, created or edited by Dailyhunt. Publisher: The Wall