দ্য ওয়াল ব্যুরো: পনেরো দিন ধরে হোটেলে বা কখনও স্রেফ চিঁড়ে-মুড়ি, একটা ডিমসিদ্ধ খেয়ে দিন গুজরান। প্রচারের (West Bengal Assembly Election 2026) ধকলের মাঝেই শান্তিপুরের মঞ্চে ধরা দিলেন এক অন্য মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)। সোমবার পলাশিপাড়া, কালীগঞ্জ ও নাকাশিপাড়ার দলীয় প্রার্থীদের সমর্থনে বেথুয়াডহরি ও পূর্বস্থলী হয়ে যখন তিনি শান্তিপুরে (Shantipur) পৌঁছলেন, তখন তাঁর কণ্ঠে ঝরে পড়ল লড়াইয়ের পুরনো দিনের খতিয়ান।
আর সেই স্মৃতিতে বারবার ফিরে ফিরে এল একটি নাম, ফেলানি বসাক।
নয়ের দশকের সেই উত্তাল দিনলিপি আজও মমতার স্মৃতিতে অমলিন। তৎকালীন বাম আমলে নিজের মূক-বধির মেয়ের লাঞ্ছনার বিচার চেয়ে মহাকরণে গিয়েছিলেন নদিয়ার ফুলিয়ার বাসিন্দা ফেলানি বসাক। সঙ্গে ছিলেন মমতা। সে দিন মুখ্যমন্ত্রী জ্যোতি বসুর দেখা মেলেনি, উল্টে পুলিশি হেনস্থার শিকার হতে হয়েছিল তাঁদের। লালবাজার থেকে গভীর রাতে ছাড়া পেয়ে মেয়ো রোডে গান্ধীমূর্তির পাদদেশে মমতার সেই অবস্থান রাজ্য রাজনীতির মোড় ঘুরিয়ে দিয়েছিল। সম্প্রতি সেই লড়াকু বৃদ্ধা ফেলানি বসাকের মৃত্যু হয়েছে। সোমবার শান্তিপুরের মাটি থেকে সেই পুরনো দিনের স্মৃতি রোমন্থন করে মমতা বুঝিয়ে দিলেন, তাঁর রাজনৈতিক উত্তরণের ইতিহাসে ফেলানি বসাক এক অবিচ্ছেদ্য নাম।
মঞ্চ থেকে এদিন নিজের খাদ্যাভ্যাসের কথাও ভাগ করে নেন তৃণমূলনেত্রী। ১৯৯০ সালের হাজরা মোড়ের সেই রক্তক্ষয়ী হামলার স্মৃতি উসকে তিনি বলেন, 'সে দিন মার খাওয়ার পর থেকে রান্নায় একফোঁটা ঝাল থাকলে আমি খেতে পারি না, রাতে ঘুমোতে পারি না।' দীর্ঘ নির্বাচনী সফরে হোটেলের খাবার এড়িয়ে কেবল চিঁড়ে-মুড়ি আর সকালের এক কাপ চা-ই যে তাঁর সম্বল, তা-ও জানান নেত্রী।
বস্তুত, দারিদ্রের সঙ্গে লড়াই করতে করতে চলে যাওয়া ফেলানির পরিবারের দাবি, বাম আমলে যেমন তাঁরা বিপিএল কার্ড পাননি, তেমনই তৃণমূল জমানাতেও বার্ধক্যভাতা জোটেনি তাঁদের কপালে। ফেলানির পুত্রবধূ শান্তিরানি দেবী আজ অতি কষ্টে সংসার টানছেন। রাজনৈতিক মঞ্চে ফেলানি বসাক 'প্রতীক' হয়ে উঠলেও, তাঁর পরিবারের দৈনন্দিন লড়াই আজও জারি রয়েছে।
গত কয়েকদিন ধরে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জেলায় জেলায় প্রচার সারছেন। তবে এদিন শান্তিপুরের মতো 'রঙিন' দেখায়নি বাকিসভাগুলো। এদিন রাজনীতির কড়া বার্তার মাঝেই উঠে আসে শান্তিপুরের শাড়ির প্রসঙ্গ। নিজের ডিজাইন করা শান্তিপুরী শাড়ি পরেই এদিন সভায় এসেছিলেন তিনি। সহাস্যে জানান, তাঁর আসার কথা শুনে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের মা-ও আবদার করেছেন দুটো শাড়ি নিয়ে যাওয়ার জন্য। মমতার কথায়, 'বাড়ির বউ সোনা-দানা চায় না, নববর্ষের আগে দুটো শাড়ি চাইলে দেব না কেন?'

