দ্য ওয়াল ব্যুরো: বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (UGC) চেয়ারম্যান পদে ফের একজন আমলাকে বসানো হল। নতুন কার্যনির্বাহী চেয়ারম্যান হলেন ভারত সরকারের উচ্চশিক্ষা সচিব দীপ্তি গৌর মুখার্জি।
এই নিয়োগের পরই সমালোচনা শুরু হয়েছে দেশের এই উচ্চশিক্ষা নিয়ামক সংস্থার শীর্ষ পদে শিক্ষামহলের বাইরের কাউকে বসানো আইন লঙ্ঘন।
ইউজিসি একটি স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান হওয়ায় সেখানে সরাসরি কেন্দ্রীয় শিক্ষা মন্ত্রকের আধিকারিককে চেয়ারম্যান পদে বসানোকে অনেকে স্বশাসনে হস্তক্ষেপ বলে মনে করছেন।
উচ্চশিক্ষা সচিব ছিলেন বিনীত জোশী। তাঁকে পঞ্চায়েতি রাজ মন্ত্রণালয়ের সচিব পদে বদলির পর গত মাসে দীপ্তি গৌর মুখার্জিকে উচ্চশিক্ষা সচিব হিসেবে নিযুক্ত করা হয়। অধ্যাপক এম জগদেশ কুমারের মেয়াদ শেষ হওয়ার পর জোশীও ২০২৫ সালের এপ্রিল থেকে ইউজিসি চেয়ারপার্সনের অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করছিলেন।
ইউজিসি'র আইন অনুযায়ী, এই কমিশন একজন চেয়ারপার্সন, একজন ভাইস-চেয়ারপার্সন এবং ১০ জন সদস্য নিয়ে গঠিত। যাঁদের মধ্যে থাকার কথা চারজন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, চারজন বিশিষ্ট ব্যক্তি (যারা উপাচার্য, ইঞ্জিনিয়ার অথবা আইন বা চিকিৎসা পেশার সঙ্গে যুক্ত) এবং কেন্দ্রীয় সরকারের দুজন কর্মকর্তা।
আইনে আরও বলা আছে, 'চেয়ারম্যান এমন ব্যক্তিদের মধ্য থেকে নির্বাচিত হবেন, যাঁরা কেন্দ্র বা কোনও রাজ্য সরকারের কর্মকর্তা নন। শিক্ষামহলের একাংশের মতে, নরেন্দ্র মোদী সরকার তাদের জাতীয় শিক্ষানীতি অক্ষরে অক্ষরে বাস্তবায়ন চাইছে। সেজন্য একদিকে রাজ্যে রাজ্যপালেরা তাদের আচার্য হিসেবে ভূমিকা পালনে স অতিরিক্ত সক্রিয় হতে শুরু করেছেন। অন্যদিকে শিক্ষা নীতি বাস্তবায়নের সরকার শিক্ষাবিদের তুলনায় আমলাদের উপর আস্থা রাখছে। সেই কারণেই ইউজিসি'র শীর্ষ পদে শিক্ষাবিদের পরিবর্তে শিক্ষা সচিবদের বসানো হচ্ছে।
ইউজিসি-র বর্তমান ১০ জন সদস্যের মধ্যে ছয়জন শিক্ষাবিদ। বর্তমানে সহ-সভাপতির পদটি শূন্য রয়েছে।
ইউজিসি-র প্রাক্তন সচিব অধ্যাপক আর কে চৌহান বলেছেন, সদস্যদের মধ্যে সবচেয়ে প্রবীণ শিক্ষাবিদকে সভাপতির অতিরিক্ত দায়িত্ব দেওয়া উচিত ছিল। তাঁর মতে, 'উচ্চশিক্ষা সচিবকে চেয়ারম্যানের অতিরিক্ত দায়িত্ব দেওয়া ইউজিসি আইনের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন। আইন অনুযায়ী সরকারি কর্মকর্তাদের চেয়ারম্যানের দায়িত্ব দেওয়া যায় না। উচ্চশিক্ষা সচিব প্রধান হলে ইউজিসির স্বায়ত্তশাসন ক্ষুণ্ণ হবে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য বলেছেন, সরকারের প্রস্তাবিত 'বিকশিত ভারত শিক্ষা অধিষ্ঠান বিল'-এর মাধ্যমে ভিবিএসএ-কে একটি সর্বজনীন নিয়ন্ত্রক সংস্থা হিসেবে প্রতিষ্ঠা করা হবে। যার অধীনে স্বীকৃতি, নিয়ন্ত্রণ এবং মান নির্ধারণের জন্য তিনটি ভিন্ন পরিষদ থাকবে। অনেকেই মনে করছেন ভিভিএসএ প্রতিষ্ঠার পর ইউজিসি'র আর কোনও গুরুত্ব থাকবে না। নতুন প্রতিষ্ঠানে সরকারি আমলারাই হবেন শেষ কথা। শীর্ষ পদে বসবেন ভারত সরকারের সচিব পদমর্যাদার কোনও আধিকারিক।
শিক্ষামহলের একাংশের বক্তব্য, ভিবিএসএ বিল থেকেই স্পষ্ট যে, সরকার উচ্চশিক্ষা নিয়ন্ত্রক সংস্থাটি সরকারি আধিকারিকদের দিয়ে পরিচালনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
ভিবিএসএ বিলটি একটি যৌথ সংসদীয় কমিটির পর্যালোচনার অধীনে থাকা সত্ত্বেও, সরকার ইউজিসি-তে সেই মডেলটি প্রয়োগ করা শুরু করেছে। একটি স্বাধীন নিয়ন্ত্রক সংস্থা হিসেবে কাজ করার সুযোগ দিতে ইউজিসি এবং প্রস্তাবিত ভিবিএসএ-কে এগুলির শীর্ষ পদে শিক্ষাবিদদের বসানোই কাম্য।
প্রসঙ্গত, ২০২১ সালের ডিসেম্বরে অধ্যাপক ডিপি সিংয়ের অবসরের পর সরকার তৎকালীন উচ্চশিক্ষা সচিব সঞ্জয় মূর্তিকে অল্প সময়ের জন্য ইউজিসি-র ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান করেছিল। কিন্তু এখন দীর্ঘ মেয়াদে উচ্চশিক্ষা সচিবেরা চেয়ারম্যান পদে অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করা শুরু করেছেন। সেই কারণেই বিতর্ক, আপত্তি উত্থাপন শুরু হয়েছে।

