দ্য ওয়াল ব্যুরো: রাজ্যে প্রাতিষ্ঠানিক দুর্নীতির জেরে দীর্ঘ দিন ধরে প্রতারিত হয়েছেন ক্রেতা ও বিক্রেতা— এই অভিযোগ তুলে উপভোক্তা অধিকার রক্ষায় (Consumer Forum) কড়া পদক্ষেপের বার্তা দিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। সোমবার থেকে পশ্চিমবঙ্গে (West Bengal) শুরু হল 'ক্রেতা সুরক্ষা সপ্তাহ'।
হগ মার্কেট চত্বরে এই কর্মসূচির সূচনা করে মুখ্যমন্ত্রী জানিয়ে দেন, ফ্ল্যাট জালিয়াতি, সবজি-মাছে ক্ষতিকর রঙের প্রয়োগ কিংবা মাপে কারচুপি— যে কোনও ধরনের অসাধু কারবারের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি নিয়ে চলবে রাজ্য সরকার (West Bengal Government)।
অনুষ্ঠান মঞ্চ থেকে বিগত সরকারগুলিকে কড়া ভাষায় আক্রমণ করে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ২০০৬ সাল থেকে বিধায়ক হিসেবে তিনি প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য (Buddhadeb Bhattacharya) বা পরবর্তী কাউকে ক্রেতা সুরক্ষা দফতরের কোনও কর্মসূচিতে যোগ দিতে দেখেননি। বাস্তবে এই দফতরটি চরম অবহেলিত ছিল। অথচ সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনের সঙ্গে এই দফতরের সরাসরি যোগ রয়েছে। শাক-সবজি ও মাছ কেনার ক্ষেত্রে দাঁড়িপাল্লা বা আধুনিক ইলেকট্রনিক যন্ত্রে পরিমাপের কারচুপি থেকে শুরু করে রসিদ না দেওয়া, প্রতিটি পদক্ষেপে আমজনতা প্রতারিত হচ্ছেন।
ফ্ল্যাট কেনাবেচায় বিপুল অঙ্কের প্রতারণা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন মুখ্যমন্ত্রী। সল্টলেকে পার্টির কার্যালয়ে 'জনতার দরবার' এবং সিএমআর-এর গ্রিভেন্স সেলে প্রতিদিন এই সংক্রান্ত প্রচুর অভিযোগ জমা পড়ছে বলে তিনি জানান। মুখ্যমন্ত্রীর কথায়, ভুয়ো বিজ্ঞাপন দেখিয়ে অগ্রিম টাকা নিয়ে ফ্ল্যাট বুকিংয়ের নামে বহু মানুষকে নিঃস্ব করা হচ্ছে।
অনলাইন প্রতারণার একটি ঘটনার উল্লেখ করে তিনি জানান, মাত্র ১০ দিন আগে বিধাননগর পুলিশ কমিশনারেট নিউ টাউনের একটি ঘরে অভিযান চালিয়ে ১২০ জনকে গ্রেফতার করেছে। জোম্যাটো-সহ বিভিন্ন বিখ্যাত অনলাইন খাবার বা সামগ্রী ডেলিভারি সংস্থার নাম ভাঙিয়ে ভুয়ো বুকিং নিয়ে টাকা আত্মসাৎ করছিল ওই চক্রটি।
খাদ্যে ভেজাল ও কালোবাজারি রুখতে সম্প্রতি নবান্নে বিশেষ প্রশাসনিক বৈঠক করেন মুখ্যমন্ত্রী। সেখানে ক্রেতা সুরক্ষা দফতর, ফুড ইনস্পেক্টর, এনফোর্সমেন্ট ব্রাঞ্চ (ইবি), অ্যান্টি করাপশন ব্রাঞ্চ (এসিবি) এবং স্বাস্থ্য দফতরের আধিকারিকেরা উপস্থিত ছিলেন।
দাম নিয়ন্ত্রণ: আনাজ ও চিনির হঠাৎ দাম বৃদ্ধির পর প্রশাসনের কড়া পদক্ষেপে বাজারে দর কিছুটা কমেছে। চালে অহেতুক দাম বাড়ানোর কোনও কারণ ছিল না বলে সতর্ক করেন তিনি।
ক্ষতিকর রঙ ও বিষ রোধ: নামী রেস্তোরাঁ, হোটেল ও মিষ্টির দোকানে খাবারে ক্ষতিকর রাসায়নিক রঙ এবং মাছ-সবজিকে 'তাজা' দেখাতে বিপজ্জনক কেমিক্যালের ব্যবহার সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট জানান, মুনাফাখোর কিছু ব্যবসায়ী এবং বিগত পচন ধরা ব্যবস্থার সাথে যুক্ত কিছু অসাধু পুলিশ ও অফিসারের যোগসাজশে এই চক্র চলত, যা আর বরদাস্ত করা হবে না।
২০১৯ সালের উপভোক্তা সুরক্ষা আইন (যা ২০২০ সালের ২০ জুলাই থেকে কার্যকর হয়েছে) সম্পর্কে সচেতনতা বাড়াতে রাজ্য জুড়ে প্রচার চালাচ্ছে প্রশাসন। এই এক সপ্তাহে বাউল গান, পথনাটিকা, লিফলেট বিতরণ, ট্যাবলো প্রচার, বাজারে বাজারে অফিসারদের গিয়ে পরিমাপক যন্ত্র পরীক্ষা, সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার এবং বিভিন্ন স্থানে স্টল দেওয়ার মাধ্যমে উপভোক্তাদের সচেতন করা হবে।
দফতরকে আরও সচল ও গতিশীল করতে একাধিক সরকারি পদক্ষেপের কথা ঘোষণা করেন মুখ্যমন্ত্রী,
বাজেটে অতিরিক্ত অর্থ বরাদ্দ
পাবলিক সার্ভিস কমিশনের (PSC) মাধ্যমে দ্রুত নতুন আধিকারিক নিয়োগ
গুণমান ও পরিমাপ পরীক্ষার জন্য আধুনিকতম যন্ত্রপাতি সরবরাহ
আইন প্রয়োগের জন্য ইবি (EB) ও এসিবি (ACB)-র পূর্ণাঙ্গ সহযোগিতা সুনিশ্চিত করা

