Dailyhunt Logo
  • Light mode
    Follow system
    Dark mode
    • Play Story
    • App Story
আমেরিকায় স্ত্রীকে খুন করে আত্মহত্যার গল্প, মৃতদেহের ছবি ভারতে প্রেমিকাকে পাঠান! ৮ মাস পর গ্রেফতার টেকি

আমেরিকায় স্ত্রীকে খুন করে আত্মহত্যার গল্প, মৃতদেহের ছবি ভারতে প্রেমিকাকে পাঠান! ৮ মাস পর গ্রেফতার টেকি

THE WALL 1 week ago

দ্য ওয়াল ব্যুরো: মাত্র ছ'মাস আগেই বিয়ে হয়েছিল। সুদূর আমেরিকায় নতুন সংসার, চোখে ছিল কত স্বপ্ন! কিন্তু কে জানত, যাকে ভালবেসে জীবনসঙ্গী করেছিলেন, সেই স্বামীর মনেই লুকিয়ে ছিল এক চরম নৃশংসতা (US techie murder wife)! মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে স্ত্রীকে গলা টিপে খুন করার অভিযোগে গ্রেফতার হলেন তেলঙ্গনার ৩০ বছর বয়সী এক ভারতীয় সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার (US Crime News)।

শুধু খুন করাই নয়, অপরাধ ঢাকতে বাথরুমের দরজা লক করে নাটক সাজানো এবং খুনের পরদিনই ভারতে থাকা নিজের প্রেমিকাকে স্ত্রীর মৃতদেহের ছবি পাঠানোর মতো এক হাড়হিম করা অভিযোগ উঠেছে ওই যুবকের বিরুদ্ধে (techie arrested)।

বাথরুমে মিলল নিথর দেহ, সাজানো হল আত্মহত্যার নাটক

ঘটনাটি ঘটেছিল গত বছরের (২০২৫) অক্টোবর মাসে ওয়াশিংটনের বেলভিউ এলাকায়। অভিযুক্ত ইঞ্জিনিয়ার অবিনাশ নার্নে পুলিশকে ফোন করে জানান, তাঁর স্ত্রী রাজীতা সাব্বিনেনী (২৭) দীর্ঘক্ষণ ধরে বাথরুমের দরজা বন্ধ করে রেখেছেন এবং কোনও সাড়াশব্দ পাওয়া যাচ্ছে না। পুলিশ এসে দরজা ভেঙে রাজীতার মৃতদেহ উদ্ধার করে। প্রথমটায় বিষয়টিকে আত্মহত্যা বা দুর্ঘটনা বলে চালিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করেছিলেন অবিনাশ। তিনি দাবি করেন, ঘটনার সময় তিনি কেনাকাটা করতে বাইরে গিয়েছিলেন। কিন্তু ময়নাতদন্তের রিপোর্টে আসল সত্য সামনে আসে, রাজীতার মৃত্যু দম আটকে বা শ্বাসরোধের কারণে হয়েছে, অর্থাৎ তাঁকে খুন করা হয়েছে।

ডিজিটাল প্রমাণে ফাঁস হল মিথ্যে নাটক

অবিনাশের দাবি ছিল, তিনি যখন বাইরে ছিলেন তখন হয়তো কোনও অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তি এসে তাঁর স্ত্রীকে খুন করেছে। কিন্তু পুলিশ যখন অ্যাপার্টমেন্টের ডিজিটাল সিকিউরিটি ও স্মার্ট-লকের ডেটা পরীক্ষা করে, তখন দেখা যায় অবিনাশ বাইরে যাওয়ার পর ওই ঘরের দরজা আর কেউ খোলেনি। অর্থাৎ, কোনও বাইরের লোকের ঢোকার সম্ভাবনাই ছিল না।

স্মুথিতে বিষ মেশানোর ইঙ্গিত ও গোপন পরকীয়া

দীর্ঘ আট মাসের তদন্তে পুলিশ অবিনাশের ফোন থেকে অত্যন্ত চাঞ্চল্যকর কিছু তথ্য পায়। জানা যায়, বিয়ের আগে থেকেই ভারতে এক তরুণীর সঙ্গে গোপনে প্রেমের সম্পর্ক চালিয়ে যাচ্ছিলেন অবিনাশ। আশ্চর্যের বিষয়, সেই প্রেমিকা অবিনাশ আর রাজীতার বিয়েতেও উপস্থিত ছিলেন! বিয়ের পরও তাঁদের সম্পর্ক বজায় ছিল। রাজীতাকে খুনের দিনও অবিনাশ সেই প্রেমিকাকে চারবার ফোন করেছিলেন এবং খুনের পর দিন স্ত্রীর লাশের ছবিও পাঠিয়েছিলেন, যা অবিনাশ নিজেই পুলিশের কাছে স্বীকার করেছেন।

শুধু তাই নয়, মৃত্যুর আগে রাজীতা তাঁর স্বামীকে বেশ কিছু মেসেজ পাঠিয়েছিলেন। সেখানে তিনি অভিযোগ করেছিলেন যে, অবিনাশের বানানো স্মুথি বা জুস খেলেই তাঁর ভীষণ তেতো লাগে, যেন তিনি ওষুধ বা কাশির সিরাপ খাচ্ছেন। পুলিশের অনুমান, রাজীতাকে আগে থেকেই খাবারে বিষ বা ড্রাগ দিয়ে মারার চেষ্টা করছিলেন অবিনাশ।

অভিযুক্তের কঠোর শাস্তি ও বর্তমান পরিস্থিতি

দীর্ঘ তদন্তের পর অবশেষে পুলিশ অবিনাশকে গ্রেফতার করেছে। আমেরিকার আদালত তাঁর ৫ মিলিয়ন ডলার (ভারতীয় মুদ্রায় প্রায় ৪৮ কোটি টাকা) মূল্যের জামিন অযোগ্য পরোয়ানা জারি করেছে। ওয়াশিংটনের আইন অনুযায়ী, দোষী প্রমাণিত হলে এই ভারতীয় তথ্যপ্রযুক্তি কর্মীর যাবজ্জীবন কারাদণ্ড হতে পারে। পরকীয়ার টানে এমন নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনা আবারও প্রমাণ করল যে, অপরাধ যতই নিখুঁতভাবে ঢাকার চেষ্টা হোক না কেন, আইনের হাত থেকে রেহাই পাওয়া অসম্ভব।

Dailyhunt
Disclaimer: This content has not been generated, created or edited by Dailyhunt. Publisher: The Wall