দ্য ওয়াল ব্যুরো: বিধানসভা নির্বাচনে ছিন্নমূল হয়ে এবং একের পর এক নেতার ইস্তফার ধাক্কার পর এবার কি তৃণমূল কংগ্রেসে আক্ষরিক অর্থেই বড়সড় ধস নামছে? মহারাষ্ট্রের শিবসেনা বা এনসিপি-র ধাঁচেই কি এ রাজ্যেও বিরোধী শিবিরের অন্দরে কোনও 'অভ্যুত্থান' ঘটে গেল? বিজেপি সরকারের নতুন মন্ত্রী তাপস রায়ের (Tapas Roy) একটি সোশ্যাল মিডিয়া পোস্ট ঘিরে এই মুহূর্তে রাজ্য রাজনীতিতে তুমুল জল্পনা শুরু হয়েছে।
তাপসের দাবি, দল ভেঙে চুরমার করে প্রায় ৫০ জন তৃণমূল বিধায়ককে সঙ্গে নিয়ে বিধানসভার স্পিকারের কাছে পৌঁছে গিয়েছেন সদ্য বহিষ্কৃত নেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় (Ritabrata Bandyopadhyay)।
মঙ্গলবার বিজেপি সরকারের মন্ত্রী তাপস রায় নিজের সোশ্যাল মিডিয়া হ্যান্ডেলে একটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ পোস্ট করেন। তাপস রায় লিখেছেন, 'তৃণমূল কংগ্রেস ভেঙে চুরমার। মহারাষ্ট্রের মতন অবস্থা হল তৃণমূলের। বিধানসভার স্পিকারের কাছে প্রায় ৫০ জন টিএমসির বিধায়ক নিয়ে পৌঁছে গেছে ঋতব্রত। খেলা হবে।'
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বিধানসভার সই জাল-কাণ্ড এবং গতকালই তৃণমূল থেকে উলুবেড়িয়া পূর্বের বিধায়ক ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় ও এন্টালির সন্দীপন সাহার বহিষ্কারের পর এই দাবি অত্যন্ত অর্থবহ। এর আগের ঘটনাপ্রবাহ থেকেই স্পষ্ট ছিল যে, ঋতব্রতর নেতৃত্বে তৃণমূলের অন্দরে বিক্ষুব্ধ বিধায়কদের একটি বড় জোট তৈরি হচ্ছিল। এবার সেই জল্পনাকেই সিলমোহর দিয়ে বিজেপি মন্ত্রী দাবি করলেন, অসন্তুষ্ট বিধায়কদের সংখ্যাটা প্রায় ৫০-এর কাছাকাছি। দলত্যাগ বিরোধী আইনের জটিলতা এড়াতে এবং বিধানসভায় নিজেদের পৃথক গোষ্ঠী হিসেবে তুলে ধরতেই এই বিশাল সংখ্যক বিধায়ক একজোট হয়ে সচিবের সঙ্গে দেখা করতে পারেন। কারণ স্পিকার রথীন্দ্র বোস বিধানসভায় নেই।
একদা তৃণমূল কংগ্রেসের অতি-পরিচিত এবং সবচেয়ে জনপ্রিয় স্লোগান 'খেলা হবে'-কে হাতিয়ার করেই এ দিন ঘাসফুল শিবিরকে খোঁচা দিয়েছেন বিজেপি মন্ত্রী। বাংলায় প্রথমবার বিজেপি সরকার প্রতিষ্ঠা হওয়ার পর এবার তৃণমূলের নিজস্ব অস্ত্রেই তাদের ঘায়েল করার কৌশল নিয়েছেন পদ্ম শিবিরের নেতারা।
এদিকে, তাপস রায়কে এই পোস্ট নিয়ে বিধানসভায় প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, "ওটা রিপোস্ট... আমি পোস্ট করিনি। আমার ফেসবুক তো আমার অন্য লোকেরা হ্যান্ডেল করে।"

