দ্য ওয়াল ব্যুরো: ক্যামাক স্ট্রিট নিয়ে তদন্ত চলার মাঝেই অফিসে ভাঙচুরের অভিযোগ তুললেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। বৃহস্পতিবার ভোরে তাঁর ওই অফিসে বিজেপি আশ্রিত দুষ্কৃতীরা তাণ্ডব চালিয়েছে বলে জানান। ক্ষোভ উগরে দেন সোশ্যাল মিডিয়ায়। এনিয়ে বিজেপিকে আক্রমণ করে প্রতিক্রিয়া দিয়েছে কালীঘাট তৃণমূলও।
ঘটনার পরবর্তী পদক্ষেপ হিসেবে রাজ্যপাল, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও প্রধানমন্ত্রীর দফতরের ভূমিকা জানতে চেয়েছেন অভিষেক।
সোশ্যাল মিডিয়ার পোস্ট অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার ভোররাতে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের অফিসে ভাঙচুর চলে। ঘটনার ছবি দেন তিনি। আইনশৃঙ্খলা নিয়ে প্রশ্ন তুলে কলকাতা হাইকোর্টের হস্তক্ষেপও দাবি করেন। অভিষেকের বক্তব্য, 'পশ্চিমবঙ্গে আইনের শাসন বজায় রাখতে আদালতের বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখা উচিত।'
পোস্টে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীকে সরাসরি নিশানা করে অভিষেক লেখেন, তৃণমূল কংগ্রেস এবং তাঁকে নিয়ে শুভেন্দু এতটা 'ভীত' কেন যে এই ধরনের ভয় দেখানোর পথ নিতে হচ্ছে? 'এটা গণতন্ত্র নয়। রাজনৈতিক গুন্ডামি।'
ক্যামাক স্ট্রিটের এই অফিসেই কয়েকদিন আগে একটি হোর্ডিং খুলতে গিয়েছিলেন পুলিশ ও পুরকর্মীরা। সেখানে তৃণমূলের সঙ্গে বিরাট ঝামেলা হয়। কলকাতা পুরসভার তরফে জানানো হয়েছিল, ওই অফিসের বাইরে তৃণমূলের একটি হোর্ডিং বেআইনি ভাবে লাগানো হয়েছে এবং সেটি বিপজ্জনক অবস্থায় ঝুলছিল ফলে সাধারণ মানুষের যাতে কোনও অসুবিধা না হয় তা নিশ্চিত করতে ওই হোর্ডিং খুলতে গেছিলেন কর্মীরা।কিন্তু সরকারি কাজে বাধা, পুলিশ ও পুরকর্মীদের উপর হামলা এবং মহিলা পুলিশকর্মীদের সঙ্গে অভব্য আচরণের অভিযোগে শেক্সপিয়র সরণী থানায় একাধিক মামলা হয়েছে। সেই ঘটনার তদন্ত চলছে।
তদন্তের সূত্র ধরে বুধবার থানায় হাজিরা দিয়েছিলেন তৃণমূলের রাজ্যসভার সাংসদ ডেরেক ও'ব্রায়েন। একই দিনে শেক্সপিয়র সরণী থানায় হাজিরা দেন অভিষেকের আপ্তসহায়ক সুমিত রায়ও। তাঁদের জিজ্ঞাসাবাদ করে পুলিশ। তলব করা হয়েছিল অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কেও।
এসবের মধ্যেই অফিসে ভাঙচুরের নতুন অভিযোগে রাজনৈতিক চাপানউতর আরও বাড়ল। অভিষেকের দাবি, এই ধরনের হামলা, ভয় দেখানো বা ক্ষমতার অপব্যবহারের কোনও ঘটনাই ভুলে যাওয়া হবে না। বলেন, 'প্রতিটি হামলা, প্রতিটি ভয় দেখানো, প্রতিটি ক্ষমতার অপব্যবহারের কথা মনে রাখা হবে।'
এদিকে, কালীঘাটের তৃণমূলের দাবি, ক্যামাক স্ট্রিটের অফিসে বিজেপির ভাঙচুর পূর্বপরিকল্পিত। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় শহরে নেই এবং গত রাতে দিল্লির উদ্দেশে রওনা হয়েছেন—এই খবর জানার পরই ভোর সাড়ে ৪টে নাগাদ বিজেপির দুষ্কৃতীরা অফিসে ঢুকে তাণ্ডব চালায়। অফিসের কর্মীদের উপর হামলার পাশাপাশি এয়ার পিউরিফায়ার, প্রিন্টার এবং টিভি-সহ বিভিন্ন সামগ্রীও নিয়ে যাওয়া হয়েছে।
শেষ পাওয়া খবর অনুযায়ী, এই গোটা ঘটনায় ছ'জনকে আটক করা হয়েছে। ঘটনাস্থলে রয়েছেন তৃণমূল নেত্রী উপাসনা ও প্রিয়ঙ্কা। এই আটক নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে কালীঘাট তৃণমূল। তাঁদের বক্তব্য, এই ছ'জন আসল ছ'জন কী না তার প্রমাণ কোথায়? এছাড়াও পুলিশি নিষ্ক্রিয়তার অভিযোগ তুলেছেন তাঁরা। পুলিশকে ডাকলেও রাতে কেউ আসেননি বলে দাবি।
বিজেপি এই ঘটনার দায় অস্বীকার করেছে। সজল ঘোষ জানিয়েছেন, বিজেপি এমন কোনও কিছুর সঙ্গে জড়িত নয়।

