Dailyhunt Logo
  • Light mode
    Follow system
    Dark mode
    • Play Story
    • App Story
অনুদান কেলেঙ্কারি নিয়ে সোমবারই বৈঠকে বসছে রাম মন্দির ট্রাস্ট, ভাগ্য নির্ধারণ হবে চম্পত রাইদের

অনুদান কেলেঙ্কারি নিয়ে সোমবারই বৈঠকে বসছে রাম মন্দির ট্রাস্ট, ভাগ্য নির্ধারণ হবে চম্পত রাইদের

THE WALL 5 days ago

দ্য ওয়াল ব্যুরো: অযোধ্যার রাম মন্দিরে ভক্তদের দেওয়া কোটি কোটি টাকার অনুদান আত্মসাতের (Ram Mandir Donation Row) অভিযোগ ঘিরে এই মুহূর্তে তোলপাড় দেশ। এই কেলেঙ্কারির জেরে শ্রীরাম জন্মভূমি তীর্থক্ষেত্র ট্রাস্টের অন্দরেও তৈরি হয়েছে তীব্র প্রশাসনিক সংকট (Ram Mandir administrative changes)।

এই চরম ডামাডোলের আবহে সোমবার অযোধ্যায় বসতে চলেছে ট্রাস্টের এক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক। সর্বভারতীয় সংবাদসংস্থা সূত্রের খবর, এই বৈঠকের মূল এজেন্ডাই হতে চলেছে ট্রাস্টের সাধারণ সম্পাদক চম্পত রাই এবং ট্রাস্টি অনিল মিশ্রের ভাগ্য নির্ধারণ (Ram Mandir Trust meeting Champat Rai resignation)।

অনুদানের টাকা নয়ছয়ের অভিযোগ ওঠার পরেই নৈতিক দায় স্বীকার করে ইতিমধ্যেই পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন চম্পত রাই ও অনিল মিশ্র। সোমবারের বৈঠকে তাঁদের সেই ইস্তফাপত্র গৃহীত হবে কিনা, তা নিয়েই মূলত চুলচেরা বিশ্লেষণ করা হবে। যদি তাঁদের পদত্যাগ মঞ্জুর করা হয়, তবে রাম মন্দিরের দৈনিক প্রশাসনিক খোলনলচে বদলে ফেলে একটি সম্পূর্ণ নতুন প্রশাসনিক কাঠামো (Administrative Structure) তৈরি করার পথে হাঁটবে ট্রাস্ট।

অযোধ্যার মণি রাম ছাওনি (Mani Ram Chhawni) আশ্রমে এই জরুরি বৈঠকটি ডাকা হয়েছে। এটি আসলে ট্রাস্টের সভাপতি মহন্ত নৃত্য গোপাল দাসের মঠ। ট্রাস্টের কোষাধ্যক্ষ গোবিন্দ দেব গিরি সমস্ত স্থায়ী এবং পদাধিকারবলে যুক্ত সদস্যদের এই বৈঠকে সশরীরে হাজির থাকার নির্দেশ দিয়েছেন। তবে পরিস্থিতি কিছুটা জটিল হয়েছে কারণ ট্রাস্টের সভাপতি নৃত্য গোপাল দাস এই মুহূর্তে গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। তাঁর শারীরিক অবস্থা আশঙ্কাজনক হলেও, তিনি হাসপাতাল থেকেই ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে এই বৈঠকে অংশ নিতে পারেন।

একই সঙ্গে ট্রাস্টের আরেক বর্ষীয়ান প্রবীণ সদস্য কে পরাশরনও বার্ধক্যজনিত কারণে অযোধ্যায় আসতে পারছেন না, তিনিও ভার্চুয়ালি এই বৈঠকে যোগ দেবেন। বর্তমানে ট্রাস্টে কোনও সহ-সভাপতি পদ না থাকায়, সভাপতির অনুপস্থিতিতে বৈঠক পরিচালনা করা নিয়ে এর আগে আইনি জটিলতা তৈরি হয়েছিল।

এই অনুদান কেলেঙ্কারির তদন্তে উত্তরপ্রদেশ সরকার যে বিশেষ তদন্তকারী দল বা সিট গঠন করেছিল, সোমবারের বৈঠকে সেই এসআইটি-র অন্তর্বর্তীকালীন তদন্ত রিপোর্ট বা ফাইন্ডিং নিয়েও বিস্তারিত আলোচনা হবে। পাশাপাশি, এই হাইপ্রোফাইল বৈঠকে ট্রাস্টের বিশেষ আমন্ত্রিত সদস্য গোপাল রাওয়ের ভূমিকা নিয়েও আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে।

এখানেই শেষ নয়, আর্থিক স্বচ্ছতা ফেরাতে ২০২৩-২৪ এবং ২০২৫-২৬ অর্থবর্ষের ট্রাস্টের অনিরীক্ষিত (Unaudited) আয়-ব্যয়ের খতিয়ান, ব্যালেন্স শিট এবং অন্যান্য আর্থিক বিবরণী অনুমোদনের জন্য পেশ করা হবে। সবথেকে বড় বিষয়, মন্দির পরিচালনায় যাতে কোনও রকম অস্বচ্ছতা না থাকে, তার জন্য এবার একজন পেশাদার প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা বা চিফ এক্সিকিউটিভ অফিসার নিয়োগ করার বিষয়েও এই বৈঠকে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে।

তদন্ত যত এগোচ্ছে, ট্রাস্টের অভ্যন্তরীণ কার্যপদ্ধতি নিয়ে ততই বিস্ফোরক সব তথ্য সামনে আসছে। প্রশ্ন উঠছে, রাম মন্দিরের পূজারী বা পুরোহিত নিয়োগের জন্য সুনির্দিষ্ট নিয়ম ও ম্যানুয়াল থাকলেও, মন্দিরের বাকি প্রায় ১৫০০ কর্মচারীর নিয়োগ ও বেতন কাঠামোর জন্য কেন কোনও নির্দিষ্ট গাইডলাইন বা নিয়ম তৈরি করা হয়নি?

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ট্রাস্টের এক কর্মী হিন্দুস্তান টাইমস-কে জানিয়েছেন, "পুরোহিতদের মতো বাকি ১৫০০ কর্মচারীর জন্য কী সার্ভিস রুল তৈরি করা হয়েছিল এবং তাঁদের বেতন কীভাবে নির্ধারিত হয়েছিল, তার কোনও স্পষ্ট লিখিত নিয়ম নেই। এই বিপুল সংখ্যক কর্মীর বেতনের পেছনে প্রতি মাসে কোটি কোটি টাকা খরচ করা হয়েছে। আয়-ব্যয়ের খতিয়ানে এই খরচগুলো দেখিয়ে ট্রাস্টিদের থেকে পাসও করিয়ে নেওয়া হত, কিন্তু নিয়মের বিষয়টি সবসময় এড়িয়ে যাওয়া হয়েছে।"

আরও চাঞ্চল্যকর বিষয় হল, রাম মন্দির চত্বরে যে সমস্ত কর্মচারীরা কাজ করছেন, নিয়োগের আগে তাঁদের কোনও পুলিশ ভেরিফিকেশন করা হয়েছিল কি না, তা নিয়ে খোদ ট্রাস্টের সঙ্গে যুক্ত লোকেরাই প্রশ্ন তুলছেন।

এই অনুদান কেলেঙ্কারির ঘটনায় ইতিমধ্যেই রাম শঙ্কর যাদব ওরফে 'টি্নু' সহ আটজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। অভিযোগ উঠেছে, এই টি্নু সামান্য একজন সাধারণ ভলেন্টিয়ার বা সেবাদার হিসেবে রাম মন্দিরে কাজ শুরু করেছিল। কিন্তু চম্পত রাইয়ের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ ও আস্থাভাজন হওয়ার সুবাদে বিগত কয়েক বছরে সে মন্দির ব্যবস্থাপনার অন্যতম দণ্ডমুণ্ডের কর্তা হয়ে ওঠে। গত ছয় বছরে কার্যনির্বাহী কমিটির প্রায় ২৪টি বৈঠক হয়েছে, যেখানে সমস্ত ট্রাস্টিরা সশরীরে বা ভার্চুয়ালি উপস্থিত ছিলেন। কিন্তু একজন সামান্য সেবাদার কীভাবে ট্রাস্টের অন্দরে এতখানি প্রভাব বিস্তার করে ফেলল, তা কীভাবে ট্রাস্টিদের নজর এড়িয়ে গেল, তা নিয়ে এখন বড়সড় প্রশ্নচিহ্ন খাড়া হয়েছে। সোমবারের এই রুদ্ধদ্বার বৈঠকের পর অযোধ্যার রাম মন্দিরের প্রশাসনিক রাশ কার হাতে যায়, সেদিকেই তাকিয়ে রয়েছে গোটা দেশের হিন্দু সমাজ।

Dailyhunt
Disclaimer: This content has not been generated, created or edited by Dailyhunt. Publisher: The Wall